Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দকুমারের গ্রামে শীতলা পুজো ও দোল নিয়ে রেষারেষিতে তুমুল সংঘর্ষ, জখম ৫

নন্দকুমারের গ্রামে শীতলা পুজো ও দোল নিয়ে রেষারেষিতে তুমুল সংঘর্ষ, জখম ৫
  • ২২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: একশো বছরের বেশি পুরনো গ্রামের শীতলা পুজো ও দোল উৎসব। কিন্তু, গ্রামবাসীদের দু’টি শিবিরের রেষারেষির জেরেই এই পুজো ভাগাভাগি হয়েছে। আর পুজো ভাগাভাগির জেরেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। নন্দকুমার থানার চকচাঁদপোতা গ্রামের ঘটনা। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা নাগাদ দুই পুজো কমিটির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। দু’পক্ষ পরস্পরকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে। তাতে উভয়পক্ষের পাঁচজন জখম হন। তাঁদের তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‌্যাফ নামানো হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই চকচাঁদপোতা প্রাইমারি স্কুলের মাঠে পুলিস ক্যাম্প বসেছে। পুলিসের উপস্থিতিতে নতুন কমিটির অনুষ্ঠানের জন্য প্যান্ডেল বাঁধা সহ অন্যান্য কাজ শুরু হয়েছে। গ্রামের পুজো ঘিরে এই অশান্তির জন্য দু’পক্ষ পরস্পরকে দায়ী করছে।

Advertisement

চকচাঁদপোতা গ্রামবাসীবৃন্দ এবং পল্লি উন্নয়ন যুবক সঙ্ঘের ব্যানারে বহু বছর ধরে দোল উৎসব হয়ে আসছে। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের মাঠে এই অনুষ্ঠান হয়। আটদিন ধরে অনুষ্ঠান চলে। গ্রামের শীতলা মন্দির থেকে প্রতিমা পুজো মণ্ডপে আনা হয়। সেখানে ভোগ খাওয়ানো হয়। দোল পূর্ণিমার আগের দিন থেকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আটদিন ধরে অনুষ্ঠান চলে। গত একশো বছরের বেশি সময় ধরে গ্রামের এটাই মূল উৎসব হয়ে আসছে। যদিও এবার ভেড়ি থেকে টাকা আদায় নিয়ে গ্রাম কমিটির মাথাদের মধ্যে ঝামেলায় আলাদা পুজো করার সিদ্ধান্ত হয়। আগের গ্রাম কমিটি ভেঙে তৈরি হয় দু’টি পৃথক গ্রাম কমিটি। স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা তৃপ্তিরানি সামন্তের দেওর তৃণমূল নেতা তথা গ্রাম কমিটির মাথা গোবিন্দ সামন্ত আলাদা করে পুজোর প্রধান আয়োজক। গোবিন্দবাবুই তাঁর বউদির হয়ে সমস্ত কাজ দেখাশোনা করেন। আলাদা পুজো করার সিদ্ধান্ত থেকে তাঁকে টলানো যায়নি।
গত ১৩ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত গ্রামের স্কুল মাঠে প্রবীর মহাপাত্র, লক্ষ্মণ গুছাইত, অমল সাউদের উদ্যোগে দোল উৎসব ও শীতলা পুজো হয়। তাঁরা গোবিন্দ সামন্তের বিপরীত গোষ্ঠীর লোকজন। ছ’দিন ধরে অনুষ্ঠান হয়েছে। তাতে গোবিন্দবাবু ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা যোগ দেননি। মঙ্গলবার একপক্ষের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে অপর পক্ষ পুজোর প্রস্তুতি শুরু করে। এই একই জায়গায় উনুন তৈরি এবং প্যান্ডেল বাঁধার কাজ শুরু হচ্ছিল। রাত ৮টা নাগাদ সেখানেই দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তুমুল সংঘর্ষে পাঁচজন জখম হন।শুক্রবার সকাল থেকে চকচাঁদপোতা গ্রামের প্রাইমারি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পুলিস ক্যাম্প বসানো হয়েছে। পুলিসের উপস্থিতিতে গোবিন্দবাবু ও তাঁর টিম প্যান্ডেল বাঁধার কাজ দেখভাল করছেন। আজ, ২২ মার্চ শনিবার থেকে পাঁচদিন ধরে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। তার আগে সংঘর্ষের ঘটনায় গোটা গ্রাম থমথমে। ওই গ্রামের বহু চাষির জমি কেটে মাছের ভেড়িতে পরিণত করা হয়েছে। সেই ভেড়ির টাকা ইজারাদারদের মাধ্যমে গ্রাম কমিটির হাতে আসার পর থেকেই নিজেদের মধ্যে ঝামেলা তীব্র হয়। গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যার দেওর তথা তৃণমূল নেতা গোবিন্দবাবু বলেন, আমরা আলাদা করে পুজোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেইমতো বাঁশ বাঁধার কাজ চলছিল। সেখানে আচমকা হামলা চালানো হয়। ডেকরেটর থেকে জেনারেটর মালিক প্রত্যেককে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
গ্রাম উন্নয়ন কমিটির হিসাবরক্ষক রঘুনাথ অধিকারী বলেন, আমাদের উৎসব শেষ হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মাঠে বসে হিসাবনিকাশ করার জন্য বসা হয়েছিল। সেই সময় গোবিন্দ সামন্ত দলবল নিয়ে চড়াও হয়। দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ