নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মহিষাদলে আদি বনাম নব্য বিজেপির সংঘাতের জের গড়াল থানা পর্যন্ত। গত ১৬মার্চ মহিষাদল রাজবাড়ি আমবাগানে দোল উৎসবে তৃণমূল ও বিজেপি নেতাদের একসঙ্গে দেখা যায়। ওই সামাজিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে তৃণমূল নেতা শিবনাথ সরকারের পাশেই দাঁড়াতে দেখা যায় বিজেপি নেতা আনন্দময় অধিকারী, বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সোমনাথ ভুঁইয়া, প্রদীপ বিজলিদের। ওই ছবি ‘বিজেপি মহিষাদল’ নামে একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করে পদ্মপার্টির নেতাদের তুলোধোনা করা হয়। তাতে রাজ্য বিজেপি ফেসবুক পেজকে ট্যাগ করা হয়। কমেন্ট বক্সে গেরুয়া পার্টি কর্মীদের অনেকেই নানা বিরূপ মন্তব্য করেন। এরপরই ওই ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে সরাসরি মহিষাদল থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপির জেলা সহ সভাপতি আনন্দময় অধিকারী। যদিও আনন্দময়বাবু ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ফ্রেন্ডলিস্টে আগে থেকেই রয়েছেন। এর নেপথ্যে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর রেষারেষি রয়েছে বলে দলের মধ্যেই আলোচনা চলছে।
জেলা সহ সভাপতি আনন্দময় অধিকারী, জেলা সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ ভুঁইয়া প্রমুখ নব্য বিজেপি। তাঁরা ‘দাদার অনুগামী’ হিসেবে পরিচিত। দলে যোগ দেওয়ার পরই জেলা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রাপ্তি ঘটেছে। মহিষাদল ও হলদিয়ায় পুরনো দিনের বিজেপি নেতা-কর্মীরা এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। কিন্তু, সরাসরি প্রতিবাদ করলে দলবিরোধী তকমা সেঁটে যাওয়ার ভয়ে তাঁরা চুপ। নব্য বিজেপির অনেকেই গোপনে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও আদি শিবিরের বক্তব্য। সম্প্রতি হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডলের তৃণমূলে যোগদান তার জলজ্যান্ত উদাহরণ বলে তাঁদের দাবি। তৃণমূল নেতার সঙ্গে বিজেপি নেতাদের পাশাপাশি দাঁড়ানো ওই ছবি ও লেখা ‘বিজেপি মহিষাদল’ ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করার পর দ্রুত ভাইরাল হয়। তাতে বিজেপি নেতারা চূড়ান্ত অস্বস্তিতে পড়েন। স্বস্তিতে পড়েন আনন্দময়বাবুরাও। এরপর তিনি সম্মানহানির অভিযোগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জানান। ১এপ্রিল সন্ধ্যায় তিনি মহিষাদল থানায় এনিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই পোস্টে তাঁর সম্মানহানি হয়েছে বলে জানান। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা চারজন দলের পদাধিকারী ওই মঞ্চে ছিলাম। আমাদের সঙ্গে তৃণমূল নেতা শিবনাথ সরকারের ছবি তুলে যেভাবে পোস্ট হয়েছে তার তদন্ত হওয়া উচিত। এই ফেসবুক পেজ বিজেপির কেউ চালান কিনা সেটাও জানতে চাই। সেজন্য থানায় অভিযোগ হয়েছে।
অভিযোগকারী বিজেপির জেলা সহ সভাপতি আনন্দময়বাবু বলেন, ওই ফেসবুক পেজ কারা চালায় তানিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এটি আইপ্যাকের কাজ হতে পারে। ঘটনার তদন্ত চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিস সুপারের কাছেও এনিয়ে অভিযোগ পাঠিয়েছি। সততার সঙ্গে রাজনীতি করি। কিন্তু, ওই পোস্টে অনেক বাজে মন্তব্য করা হয়েছে। কারা এটা করল সেটা জানা প্রয়োজন।