Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভগবানপুরে বিজেপি কর্মীদের প্রার্থী বদলের দাবি ঘিরে সংঘর্ষ, বন্ধ পার্টি অফিস

খেজুরির বিধায়ক বিজেপির শান্তনু প্রামাণিকের সঙ্গে দলের জেলা সম্পাদক পবিত্র দাসের সংঘাতের বলি হলেন ভগবানপুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি।

ভগবানপুরে বিজেপি কর্মীদের প্রার্থী বদলের দাবি ঘিরে সংঘর্ষ, বন্ধ পার্টি অফিস
  • ২১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, খেজুরি: খেজুরির বিধায়ক বিজেপির শান্তনু প্রামাণিকের সঙ্গে দলের জেলা সম্পাদক পবিত্র দাসের সংঘাতের বলি হলেন ভগবানপুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি। আর এই ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে ভগবানপুর বিধানসভার অধীন মুগবেড়িয়ায় দলীয় কার্যালয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারিতে বিজেপি নেতার রক্ত ঝরল। দলের মণ্ডল যুব মোর্চার সভাপতি রাজশেখর বরের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী বদলের দাবিতে এদিন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতির ঘনিষ্ঠরা মুগবেড়িয়ায় বিধানসভা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তাঁরা স্লোগান দেন। তখন বিধায়ক বিরোধী নেতা-কর্মীরাও জড়ো হন। দু’পক্ষের মারপিট বেধে যায়। চরম উত্তেজনা ছড়ায়। কিছুক্ষণ পর বিজেপি প্রার্থী শান্তনু প্রামাণিক মুগবেড়িয়ায় ওই কার্যালয়ে যান। বিধায়ক ঘনিষ্ঠরা প্রার্থী বদলের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। অন্যথায় গণইস্তফা দেবেন। একইসঙ্গে আজ, শনিবার থেকে ওই নির্বাচনী কার্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কাঁথি বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সোমনাথ রায় বলেন, ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকতেই পারে। আলোচনা করে মেটানো হবে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার খেজুরি এবং ভগবানপুরে প্রার্থী ঘোষণার পর বিজেপিতে বিদ্রোহ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ভগবানপুর-২ মণ্ডলের সভাপতি বুদ্ধদেব প্রধান বলেন, ‘দলটা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। মাথায় রাখতে হবে, পার্টি কারও বাবার সম্পত্তিও নয়। প্রত্যেক কর্মীকে নিয়ে এই দল। ভগবানপুর হল আন্দোলনের মাটি। এখানে প্রার্থী বদল না হলে শনিবার সকাল ৮টায় আমরা বুঝিয়ে দেব।’ভগবানপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপির সদস্য শোভন মেইকাপ বলেন, ‘ভগবানপুর বিধানসভা থেকে কাউকে প্রার্থী করা হল না। আমরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছি না। দলকে আমরা ২৪ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। দল থেকে উপযুক্ত জবাব না পেলে সংঘবদ্ধভাবে দল থেকে সরে দাঁড়াব। শনিবার থেকে বিধানসভার নির্বাচনী কার্যালয় বন্ধ রাখা হবে।’
বিজেপির ভগবানপুর মণ্ডল-৩ সভাপতি তপন মিদ্যা বলেন, ‘বহিরাগত প্রার্থীকে নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। কারণ, ভগবানপুরের বরোজ, অর্জুননগর সহ  একাধিক এলাকা অশান্ত ও উত্তপ্ত। কেন্দ্র কিংবা রাজ্য নেতৃত্ব কেউ এখানে ভোট করাবে না। আমরা স্থানীয়স্তরের নেতৃত্বরাই ভোট করাই। আমাদের দাবি, প্রার্থী বদল করা হোক। না হলে আমরা নেতৃত্ব থেকে ইস্তফা দেব।’ ক্ষোভ-বিক্ষোভ আছড়ে পড়ছে খেজুরিতেও। সেখানে প্রার্থী হিসেবে সুব্রত পাই঩ককে মেনে নিতে পারছেন না দলের একটা বড় অংশ। এদিন বিকালে খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিজেপির উদয়শঙ্কর মাইতির নেতৃত্বে বিদ্যাপীঠে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে দলীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ  মিছিল হয়। ভারতীয় মজদুর সংঘের জেলা সভাপতি সুব্রত গুড়িয়া বলেন, ‘খেজুরিতে প্রার্থী বদল করতেই হবে। আমরা সুব্রত পা‌ইককে কিছুতেই মানব না।’
জানা গিয়েছে, খেজুরিতে বিধায়ক শান্তনুর সঙ্গে পবিত্রের ঝামেলা গত কয়েক মাস প্রবলভাবে বেড়ে গিয়েছিল। এমনকী, বিধায়কের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজ্য পার্টি অফিসে চিঠিও গিয়েছিল। সেই চিঠি পাঠানোর নেপথ্যে পবিত্র ও তাঁর টিম ভূমিকা নিয়েছিল বলে অভিযোগ। আসলে খেজুরি-১ ব্লকের ছ’টি ও ২ ব্লকের পাঁচটি পঞ্চায়েত এবং ভগবানপুর-২ব্লকের গড়বাড়ি-১ ও ২পঞ্চায়েত নিয়ে ওই বিধানসভা। বিধায়কের বাড়ি খেজুরি-১ব্লকে। পবিত্র খেজুরি-২ ব্লকের নেতা। পবিত্র শিবিরের অভিযোগ ছিল, বিধায়ক খেজুরি-২ ব্লকে উন্নয়ন থেকে সাংগঠনিক কাজকর্মের জন্য সময় ও অর্থ ব্যয় করছেন না। এই সংঘাতের পরিণতি হিসেবে শান্তনুকে খেজুরি বিধানসভা ছাড়তে হয়েছে। তাঁকে ভগবানপুর থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। আর, পবিত্রকে প্রার্থী করলে বিধায়ক গোষ্ঠী অন্তর্ঘাত করতে পারে, এই আশঙ্কায় জেলা সম্পাদকের অনুগামী জেলা পরিষদ সদস্য সুব্রত পাইকে খেজুরি বিধানসভায় প্রার্থী করা হয়েছে। সুব্রত পাইক প্রার্থী হওয়ায় বেশ খুশি পবিত্র। কিন্তু সিপিএম থেকে আসা সুব্রত পাইককে প্রার্থী করায় বিক্ষোভ মিছিল দেখা যায়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ