সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: রাস্তার বরাত পাওয়া ঠিকাদার কেন এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যাবেন? এ নিয়েই গণ্ডগোলের সূত্রপাত। তারকেশ্বরের সন্তোষপুরে বুধবার রাতে এই নিয়ে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর কোন্দল চরম আকার নেয়। দু’পক্ষের মধ্যে মারধর পর্যন্ত হয়। থানায় এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের কয়েকজন আর পাঁচটা দিনের মতো বুধবার রাতে বসে গল্প করছিলেন সন্তোষপুরে। সেখানে ফাইবার স্টিক, রড নিয়ে এসে তাঁদের উপর চড়াও হয় বিজেপি কয়েকজন কর্মী। যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরাও একই দলের কর্মী-সমর্থক। স্টিকের আঘাতে রক্তাক্ত হন সঞ্জু চক্রবর্তী ও সাহেব ঘাঁটি। সাহেবের মাথা ফেটে যায়, কান দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তারকেশ্বর থানায় অভিযোগ জানান আক্রান্তরা।
জখম সঞ্জু চক্রবর্তী বলেন, আমরা বন্ধুরা প্রতিদিনই কালীমন্দিরের পিছনে বসে আড্ডা মারি। ওইরাতেও বসেছিলাম। আমাদের মধ্যে একজন ছিলেন যিনি, ঠিকাদারির ব্যবসা করেন। হঠাৎ চার-পাঁচজন এসে জিজ্ঞাসা করে, মণ্ডল সভাপতি মৃন্ময় বড়াল কেন আমাদের সঙ্গে বসে আছেন? এই বলেই মারধর শুরু করে তারা। অভিযুক্তরা বলে, ৪০০ মিটার ঢালাই রাস্তার অনুমোদন হয়েছে। ওই ঠিকাদার পরিচিত বন্ধু বলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মণ্ডল সভাপতি। তাদের ধারণা, ঠিকাদারের সঙ্গে ওই নেতার গোপন শলা-পরামর্শ হয়েছে। তাই তারা মারধর করেছে। অভিযুক্ত প্রভাত সিংহ রায় বলে, ওরা এক মহিলাকে মারধর ও তাঁর শ্লীলতাহানি করেছিল। আমরা সেখানে উপস্থিত হলে আমাদেরও মারধর করা হয়েছিল। ওরা বিজেপির কেউ নয়। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী বলেন, যা ঘটেছে, তা অনভিপ্রেত। যারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। নিজস্ব চিত্র