Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাতীয় সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ সিভিকদের বিরুদ্ধে

মালদহে জাতীয় সড়কের ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে ৪০টি ব্যারিকেড রয়েছে। পুলিশকে জানিয়েও কাজ হয়নি বলে দাবি ট্রাক মালিকদের।

জাতীয় সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ সিভিকদের বিরুদ্ধে
  • ১৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপন দত্ত, মালদহ: অবৈধ টোলগেট তোলার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অথচ জাতীয় সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের একাংশের বিরুদ্ধে। মালদহে জাতীয় সড়কের ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে ৪০টি ব্যারিকেড রয়েছে। পুলিশকে জানিয়েও কাজ হয়নি বলে দাবি ট্রাক মালিকদের। তবে, অভিযোগ পেয়ে এবার পাঁচ জেলার এসপিকে চিঠি দিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

রাজ্যের ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর থেকে উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলা পর্যন্ত অংশটি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (এনএইচএআই) মালদহ ডিভিশনের অধীনে। জাতীয় সড়কের এই অংশটি রাজ্য পুলিশের মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর, মালদহ, রায়গঞ্জ ও ইসলামপুরের পাঁচটি পুলিশ জেলার অধীনে রয়েছে। ফরাক্কা ব্যারেজ পার করেই মালদহের বৈষ্ণবনগর থানা এলাকা থেকে গাজোল থানার চেকপোস্ট মোড় পর্যন্ত ৬৯ কিমি জাতীয় সড়ক। যার মধ্যে ৪০টি জায়গায় পুলিশের ব্যারিকেড রয়েছে। পুলিশের যুক্তি, ওই ৪০টি জায়গা বিভিন্ন জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের সংযোগ স্থল। কোথাও বাজারও রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতেই ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। 
মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং বলেন, দুর্ঘটনা আটকাতে ৬৯ কিলোমিটারের মধ্যে ৪০টি জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসনের দুর্ঘটনা রোখার জন্য ব্যারিকেড দেওয়ার যুক্তি মেনেও টাকা তোলার অভিযোগ করছেন ট্রাক মালিকরা। যদিও এ ব্যাপারে এসপির বক্তব্য,এরকম কোনও খবর আমার জানা নেই। মালদহ মাল্টি অ্যাক্সেল ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৌম্য প্রসাদ বোস বলেন, আসলে এভাবে জাতীয় সড়ক আটকে সিভিক ভলান্টিয়ার টাকা তুলত। মুখ্যমন্ত্রী অবৈধ টোলগেট তোলার নির্দেশ দিলেও জাতীয় সড়ক থেকে ব্যারিকেড তোলা হয়নি।   
ট্রাক মালিকদের আরও অভিযোগ,জাতীয় সড়কে ব্যারিকেড বসানোর জন্য পথ দুর্ঘটনা বাড়ছে। কারণ সব গাড়ির গতি নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে। সেই গাইডলাইন মেনেই চালকদের লরি চালাতে হয়। হঠাৎ যখন সামনে এই ব্যারিকেড চলে আসে, আচমকা ব্রেক কষলে লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে ধাক্কাও লাগছে। 
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,রাজ্য পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ কিছুদিনের মধ্যেই ব্যারিকেড ইস্যুতে বৈঠক ডাকতে চলেছে। সেখানে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ডাকা হতে পারে। সড়ক কর্তৃপক্ষ যদি প্রত্যেক জনবহুল মোড়ে স্পিড ব্রেকার, সিগনালিং ব্যবস্থা বা বিকল্প উপায় খুঁজে বের করতে পারে, তাহলে  সমস্যাই থাকবে না।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের মালদহ ডিভিশনের প্রকল্প আধিকারিক অজয় গাডেকার বলেন, সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুপারদের বিষয়টি চিঠি লিখে জানিয়েছি। এখন পুলিশকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।  এভাবেই জাতীয় সড়কে ফেলে রাখা হয়েছে ব্যারিকেড।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ