শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: তৃণমূল জমানায় আইন ভেঙে সিভিক, হোমগার্ড ও অস্থায়ী হোমগার্ডদের পুলিশের কন্ট্রোল রুম, গোয়েন্দা দপ্তরসহ গোপন ফাইল চালাচালি হয়, এমন দপ্তরে পোস্টিং দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁরাই দিনের পর দিন তৎকালীন শাসক দল তৃণমূলের পার্টি অফিসে পুলিশের অন্দরের খবর পৌঁছে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। পালাবদলের পর এবার ‘ঠান্ডা ঘরে বসে ডিউটি করা’ এসব চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সরিয়ে ট্রাফিকের ডিউটিতে পাঠানো শুরু করল পুলিশ ডিরেক্টরেট। ইতিমধ্যে বেশ কিছু জেলায় এই ধরনের সিভিক, হোমগার্ডদের সরানো হয়েছে বলে খবর। তৃণমূল আমলে বহু ক্ষেত্রে সিভিক ও অস্থায়ী হোমগার্ডরাই থানা আলো করে বসে থাকতেন! সেরেস্তায় অভিযোগ গ্রহণ, জেনারেল ডায়েরি করা, কেস ডায়েরি লেখা, কম্পিউটারে এফআইআরের কপি তোলা, তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে যাওয়া থেকে শুরু করে সমস্ত কাজই করতেন তাঁরা। সেই সঙ্গে অভিযোগ, গোয়েন্দা বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়ও তাঁদের পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল খবরাখবর সংগ্রহের জন্য। এই বিভাগে কাজ করতে গেলে বিশেষ প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও বিভিন্ন বিষয়ের উপর গভীর জ্ঞান লাগে। সেসবের কোনো বালাই না থাকলেও গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করছিলেন অনেক এই ধরনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী। এমনকি জেলার বিভিন্ন পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও নবান্নে থাকা পুলিশ অফিসেও তাঁদের রাখা হয়েছিল। নবান্নের পুলিশ অফিসে গোপন অনেক ফাইল নিয়ে কাজকর্ম চলে। বিভিন্ন পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বিভিন্ন শিফটে তাঁরা ডিউটি করতেন। অথচ নিয়োগের সময় চুক্তিতে তাঁদের ট্রাফিকে কাজ করানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে বলা আছে, তাঁরা কেবল পুলিশের সহযোগী হিসাবে কাজ কববেন। তারপরেও নিয়ম ভেঙে পূর্বতন সরকার সিভিক, স্থায়ী ও অস্থায়ী হোমগার্ডদের দিয়ে ট্রাফিকের বাইরে অন্য বিভাগে কাজকর্ম করাচ্ছিল বলে অভিযোগ। এরকম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কর্মরত এক-একজন সিভিকের আচরণও সেই কারণে পুলিশের পদস্থ কর্তাদেরও হার মানাত! দিনের পর দিন তোলাবাজি করেও সিভিকদের একটা বড়ো অংশ তৃণমূলের সৌজন্যে পার পেয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় রাজ্যে পালাবদলের পর সিভিক, হোমগার্ডরা ট্রাফিকের বাইরে কোথায় কোথায় পোস্টিং আছেন, তার তালিকা হয়। দেখা যায়, একটা বড়ো অংশই ট্রাফিক বাদে অন্যান্য বিভাগে ডিউটি করছেন। এরপরই জেলায় তালিকা ধরে ওই সমস্ত অফিস থেকে সরিয়ে তাঁদের ট্রাফিক গার্ড, আউটপোস্টে পোস্টিং দেওয়া শুরু হয়েছে।



