সংবাদদাতা, বোলপুর: টাকা নিয়ে নো-এন্ট্রি জোনে গাড়ি ছাড়ছে সিভিক, এই অভিযোগ তুলে রবিবার সকালে শ্রীনিকেতন রোডের চৌমাথা অবরোধ করে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিস এলে তাদেরকে ঘিরেও বিক্ষোভ শুরু হয়। ফলে, প্রবল যানজটের সৃষ্টি হয়। আর তাতে বহু গাড়ি আটকে পড়ে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে শান্তিনিকেতন থানার পুলিস। পুলিসের দাবি, যানজটের কারণে ওই রাস্তায় নো-এন্ট্রি করার স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে জেলাশাসকের। বোলপুর ট্রাফিক সেই দায়িত্ব পালন করছে। এখানে শান্তিনিকেতন থানার কোনও যোগ নেই। তাই তোলাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে পরবর্তীকালে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ উঠলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
প্রসঙ্গত, বোলপুরের শিবপুর মৌজার সুরথেশ্বরতলা চৌমাথা মোড় থেকে সুরুল বাইপাসটি কয়েক বছর হল নির্মিত হয়েছে। সুরুল মোড়ে বাইপাসটি শেষ হয়। সেখান থেকে সোজা গেলে সিউড়ির রাস্তা পড়ে। বাঁ দিকে ইলামবাজার ও ডানদিকে বোলপুর শহর। এই বাইপাস তৈরি হওয়ায় শহরে যানজট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে। তবে শহরে উৎসব অনুষ্ঠান হলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাইপাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বাইপাসে নো-এন্ট্রি বসিয়ে চারচাকা ও ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে গাড়ির দিক পরিবর্তন করা হয়।
পুলিসের দাবি, গত বছর পৌষমেলা থেকে পুলিস আর্জি জানানোর পরেই জেলাশাসকের ওই রাস্তায় ‘নো-এন্ট্রি’ করার আবেদন মঞ্জুর করে। ফলে, ডাম্পার ও ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিস সেই নির্দেশ পালন করে আসছে। আর তাতেই দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তায় প্রবল যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে–এমনটাই স্থানীয়দের দাবি। তবে, সিভিকদের একাংশ টাকা নিয়ে ডাম্পার ও ভারী যান চলাচলে ছাড়পত্র দিচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। টাকা দিতে অস্বীকার করলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টার গাড়ি আটকে থাকছে। আর তাতে যানজটের ফলে, এলাকাবাসীর জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। তার প্রেক্ষিতেই এদিন শ্রীনিকেতনের বাসিন্দারা এদিন সুরুল-শ্রীনিকেতন মোড়ে পথ অবরোধ করেন। তাঁদের মধ্যে শেখ বাবু, শেখ ইমরান, আলমগীর হোসেন বলেন, সিভিকদের টাকা দিলে ডাম্পার পেরবে, না দিলে আটকে থাকবে– দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনা হয়ে আসছে। আর তাতেই স্কুল পড়ুয়ারা প্রবল অসুবিধার মুখে পড়ছে।
যদিও পরবর্তীতে শান্তিনিকেতন থানার ওসি কস্তুরী মুখোপাধ্যায় বিশাল পুলিসবাহিনী নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তার সংস্কারের জন্য জেলাশাসকের নির্দেশিকায় নো-এন্ট্রি করা হয়েছে। এলাকাটি শান্তিনিকেতন থানার হলেও বোলপুর ট্রাফিক এই রাস্তায় দায়িত্বভার সামলায়। ফলে সিভিকদের তোলাবাজির অভিযোগ সঠিক নয়।
এবিষয়ে বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, রামপুরহাট থেকে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানগামী, ভারী যান চলাচলের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র জাতীয় সড়কের হয়ে চলাচলের নির্দেশিকা রয়েছে। তবে, জনবসতি, সাধারণ পথচারী ও বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিরাপত্তার জন্য সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতেই এই ব্যবস্থা বলবৎ করা হয়েছে। এর অন্যথা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।