Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শহরজুড়ে স্বাস্থ্যপরীক্ষা, চিহ্নিত ১৫০টি ‘অসুস্থ’ বৃক্ষ

গাছেরও ‘অসুখ’ হয়। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন, গাছের প্রাণ আছে। আর প্রাণ থাকলে অসুস্থ হওয়াটাও স্বাভাবিক।

শহরজুড়ে স্বাস্থ্যপরীক্ষা, চিহ্নিত ১৫০টি ‘অসুস্থ’ বৃক্ষ
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে  কলকাতা:

Advertisement

গাছেরও ‘অসুখ’ হয়। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন, গাছের প্রাণ আছে। আর প্রাণ থাকলে অসুস্থ হওয়াটাও স্বাভাবিক। তাই এবার শহরজুড়ে গাছের (মূলত বড় গাছ) স্বাস্থ্যপরীক্ষা শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। প্রচুর ‘অসুস্থ’ বৃক্ষের খোঁজও মিলেছে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে শহরের উত্তর এবং দক্ষিণ মিলিয়ে প্রায় ১৫০টি গাছের ‘অসুখ’ ধরা পড়েছে। কী সেই ‘অসুখ’? কোনও গাছ বিপজ্জনকভাবে হেলে রয়েছে, কোনওটির শিকড় মাটি থেকে আলগা হয়ে রয়েছে?  কোথাও আবার পোকা ধরে বা পচে গিয়ে নষ্ট হয়েছে কাণ্ড। পুরসভার উদ্যান বিভাগের তরফে এই রিপোর্ট ইতিমধ্যে পুর কমিশনারের কাছে জমা পড়েছে। এসব গাছের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, পুরসভার বটানিস্টরা সেই সংক্রান্ত প্রস্তাবও দিয়েছেন রিপোর্টে। জানা গিয়েছে, শীর্ষ কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেত মিললে বনদপ্তরকে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠাবে পুরসভা। গাছগুলি নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে কিংবা কীভাবে কী করা সম্ভব, সেই বিষয়েও বনদপ্তরকে জানানো হবে এবং তাদের মতামত নেওয়া হবে।
সম্প্রতি হাওড়া পুরভবন চত্বরে একটি গাছ পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তার আগে রবীন্দ্র সরোবরে ভরদুপুরে গাছের ছায়ায় শুয়ে থাকা এক ব্যক্তির উপর গাছ পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এই পরিস্থিতিতে শহরের বিভিন্ন রাস্তা ও উদ্যানের পাশাপাশি রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে গাছের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছিলেন কলকাতার মেয়র তথা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেই মতোই গাছের ‘হেলথ অডিট’ শুরু হয়েছে। পুরসভার উদ্যান বিভাগ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই আশুতোষ মুখার্জি রোড, হাজরা রোড, আলিপুর রোড, বিবেকানন্দ রোড, লেনিন সরণি, এস এন ব্যানার্জি রোড সহ শহরের পাঁচ থেকে ছ’টি বরো এলাকার ১৫টি রাস্তায় এই সার্ভে শেষ হয়েছে। তাতে ১৫০টি বড় গাছের ‘স্বাস্থ্য’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। 
পুরসভা সূত্রে খবর, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে কলকাতায় প্রায় আড়াই লক্ষ গাছ রয়েছে। সব গাছেরই স্বাস্থ্যপরীক্ষা করতে বলেছেন মেয়র। ফিরহাদের কথায়, ‘অনেক জায়গাতেই গাছের গোড়া মাটি থেকে আলগা হয়ে রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় সেগুলি ভেঙে বিপদ হতে পারে। তাই উদ্যান বিভাগকে সার্ভে করে গাছগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখতে বলেছি। হেলে থাকা গাছগুলি কোনওভাবে সোজা করে দেওয়া যায় কি না, মাটি দিয়ে গাছের গোড়া শক্ত করা যায় কি না—এসব পরীক্ষা করে দেখতে হবে।’ আরও জানা গিয়েছে, আশুতোষ মুখার্জি রোড, এপিসি রায় রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডে সব থেকে বেশি গাছের ‘অসুখ’ ধরা পড়েছে। পুরসভার উদ্যান বিভাগের এক কর্তা বলেন, ‘রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। যে গাছগুলি পুরোপুরি হেলে গিয়েছে, খুব প্রয়োজন না হলে সেগুলি কেটে ফেলা হবে না। ট্রিমিং অর্থাৎ গাছের পাতা এবং ডাল ছাঁটা যেতে পারে। কিংবা দড়ি দিয়ে রেলিংয়ের সঙ্গে বাঁধা যেতে পারে। যে গাছগুলির গোড়া মাটি থেকে আলগা হয়ে গিয়েছে, সেগুলির গোড়ায় মাটি দেওয়া যেতে পারে। উদ্যান বিভাগের তরফে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সবুজ সংকেত দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। সেই সঙ্গে বনদপ্তরের মতামতও চাওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ