Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাইলেন্সারহীন বাইকে রামভক্তরা বিকট আওয়াজে অতিষ্ঠ শহরবাসী

সাইলেন্সারহীন বাইকে রামভক্তরা বিকট আওয়াজে অতিষ্ঠ শহরবাসী
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর, তমলুক, ঝাড়গ্রাম: মাথায় বড় আকারের গেরুয়া ফেট্টি, ঘাড়ে গেরুয়া ওড়না, মুখে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। তার সঙ্গে রামভক্তদের সাইলেন্সার খোলা বাইকের কান ফাটানো আওয়াজ। সেই আওয়াজের জেরে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। সাম্প্রতিক কয়েক বছরের মতো এবছরও মেদিনীপুর শহর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রামনবমীর চেনা ছবি ধরা পড়ল। জানা গিয়েছে, এদিন সকাল থেকেই মেদিনীপুর শহর ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় রামনবমীর পুজো হয়। সেই পুজোয় অংশ নেন অসংখ্য রামভক্ত। পরে প্রসাদ বিতরণও করা হয়। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে মরিয়াভাবে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে একপ্রস্থ শক্তি প্রদর্শন করে ফেলল গেরুয়া শিবির। সেই লক্ষ্যেই জেলার বিজেপির নেতারা রামনবমী নিয়ে মাতোয়ারা। তবে বিজেপিকে ফাঁকা মাঠ ছাড়তে নারাজ ঘাসফুল শিবির। তাই রামনবমী পালন করতে ময়দানে নেমেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর সদর ব্লক, গড়বেতা, শালবনী, খড়্গপুর, দাঁতন সহ বিভিন্ন ব্লকে তৃণমূলের নেতারাও রাম নবমী পালন করেছেন।

Advertisement

মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা সুশান্ত মণ্ডল বলেন, বাইকের বিকট আওয়াজ শুনে রাগ হচ্ছিল। মিছিল, স্লোগান নিয়ে কেউ আপত্তি করছেন না। শহরে প্রচুর হাসপাতাল আছে। এছাড়া বহু বাড়িতে রোগী রয়েছেন। যদিও এদিন কার্যত রামভক্তদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, রামনবমী এলে অনেকের বুক ধড়ফড় করে। ‘জয় শ্রীরাম’ বললে যাঁদের সমস্যা হয়, তাঁরা আজকে রাস্তায় বেরবেন না। হার্ট অ্যাটাক করতে পারে।
অপরদিকে, রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলাজুড়ে রামনবমী উপলক্ষ্যে পুজো এবং শোভাযাত্রা বের হয়। নন্দীগ্রামের সোনাচূড়ায় সাড়ম্বরে রামমন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠান হয়। সাধু-সন্ন্যাসীদের উপস্থিতিতে পুজোপাঠ এবং হোমযজ্ঞ হয়। তমলুক, মেচেদা, হলদিয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় রামনবমী উপলক্ষ্যে পুজো এবং শোভাযাত্রা বের হয়। মেচেদায় বিজেপির দু’টি শিবিরের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে রামনবমী উদযাপন করা হয়। তমলুক শহরে শঙ্করআড়া, রূপশ্রী সিনেমা হল মোড় সহ বিভিন্ন জায়গায় রামনবমী উপলক্ষ্যে পুজোপাঠ হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তমলুক শহরের হাসপাতাল মোড়ে সত্যনারায়ণ পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। মূর্তি গড়ে সত্যনারায়ণ পুজো হয়। তমলুক রাজবাড়ি ময়দানে পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়ের উদ্যোগে রামনবমীতে পুজো উপলক্ষ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র, শহর সভাপতি চঞ্চল খাঁড়া সহ আরও অনেকে ছিলেন।
ঝাড়গ্রাম জেলাতেও উৎসবের মেজাজে রামনবমী পালিত হয়। এদিন জেলার বিভিন্ন রাম, রাধাগোবিন্দ জিউ ও হনুমান মন্দিরে পুজো পাঠ হয়। একইসঙ্গে রামনবমী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে জেলার একাধিক জায়গায় শোভাযাত্রা বের হয়। বিভিন্ন ক্লাবের তরফেও শোভাযাত্রা বের করেন রামভক্তরা। জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম শহরের পুরাতন ঝাড়গ্রামে বজরংবলী মন্দিরে পুজো দিতে সকাল থেকেই মানুষের ভিড় ছিল। অপরদিকে, জামবনী ব্লকের চিচিড়া রামসেবা সঙ্ঘ ৩০ বছর ধরে রামনবমী উৎসব পালন করা হচ্ছে। এবছরও সংগঠনের তরফে শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে বাতাসা, সরবত তুলে দেন বিনপুর বিধানসভার বিধায়ক দেবনাথ হাঁসদা। রামনবমী উপলক্ষ্যে গোপীবল্লভপুর ইন্ডিয়ান স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে নগর সংকীর্তন করা হয়। ঝাড়গ্রাম শহরে রামনবমীর শোভাযাত্রায় জেলার একাধিক বিজেপি নেতা অংশগ্রহণ করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ