Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রোগীকে আটকে রাখায় পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা শহরের নার্সিংহোমকে

রোগীকে আটকে রাখায় পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা শহরের নার্সিংহোমকে
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ইংলিশবাজার শহর তো বটেই, সেইসঙ্গে মালদহের গ্রামীণ এলাকায় গজিয়ে উঠেছে বহু ভুঁইফোড় নার্সিংহোম ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সেগুলির না আছে কোনও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, না আছে উপযুক্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। সম্প্রতি প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে এই ধরনের বেশকিছু অভিযোগ জমা পড়ে। এবার গ্রামীণ এলাকার ভুঁইফোড় নার্সিংহোমগুলির বিরুদ্ধেও অভিযানে নামতে চলেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তর। 

Advertisement

এদিকে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পরিষেবা না দেওয়া এবং  বিল মেটাতে না পারায় রোগীকে আটকে রাখার অভিযোগে ইংলিশবাজার শহরের একটি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা করল জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য দপ্তরকে নার্সিংহোমের লাইসেন্স বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে প্রশাসন।
অতিরিক্ত জেলাশাসক (স্বাস্থ্য) শেখ আনসার আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করা হয়েছে। তাদের লাইসেন্স বাতিলের জন্য স্বাস্থ্যদপ্তরকে প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নার্সিংহোমে স্বাস্থ্যদপ্তর ও প্রশাসনের যৌথ নজরদারি দল অভিযান চালানোর সময় সেখান থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধও উদ্ধার হয়। নার্সিংহোমে পরিকাঠামোগত ২০টির বেশি অভিযোগ সামনে আসে। যার ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষকে নোটিস দিয়ে শুনানির জন্য জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তাদের উত্তরে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর সন্তুষ্ট না হওয়ায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা সহ নার্সিংহোমের লাইসেন্স বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়। 
অতিরিক্ত জেলাশাসক আরও জানান, গত একমাস ধরে জেলা প্রশাসন ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে জোরদার অভিযান চালানো হবে।
এদিন নার্সিংহোমের পাশাপাশি ইংলিশবাজার শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকেও পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা করে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর। অভিযোগ, বিনা লাইসেন্সে রমরমিয়ে চলছিল ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি। কর্তপক্ষকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। কিন্তু শুনানি চলাকালীন প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরকে কোনও প্রশ্নেরই সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। 
ইংলিশবাজার শহরের ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভুড়িভুড়ি অভিযোগ ছিল। প্রথমত সিওপিডির এক রোগীকে কার্যত বিনা চিকিৎসায় নামমাত্র আইসিইউতে রেখে মোটা টাকার বিল করার অভিযোগ ওঠে। যার তদন্ত করতে গিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা প্রশাসন জানতে পারে ওই নার্সিংহোমে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা প্রদান করা হয় না। উপরন্তু মোটা টাকা বিল মেটাতে না পারায় রোগীকে আটকে রাখার অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা রোগীদের গাজোল সহ মালদহের বিভিন্ন হাসপাতালের বাইরে থাকা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা কমিশনের ভিত্তিতে ওই নার্সিংহোমে নিয়ে আসেন। যা নিয়ে ‘বর্তমান’ পত্রিকায় খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। পরে স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের দল অভিযান চালিয়ে ওই রোগীকে উদ্ধার করে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ