নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার রাতে শুরু হয়েছিল যে বৃষ্টি, তা সোমবার বিকাল পর্যন্ত চলল একটানা। দফায় দফায়, কখনও ভারী, কখনও হালকা। নিম্নচাপের এই বৃষ্টির জেরে জল জমল কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায়। একই হাল শহরতলি ও কলকাতা লাগোয়া জেলাগুলিতে। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে পথে বেরিয়ে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে নিত্যযাত্রীদের। কলকাতা পুরসভার হিসাব বলছে, সোমবার দুপুর পর্যন্ত শহরে সর্বোচ্চ ১০৪ মিমি ও সর্বনিম্ন ৬২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, তুমুল বৃষ্টির ফলে টালিগঞ্জে একটি বিপজ্জনক বাড়ি ভেঙে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধের। মৃতের নাম সমীর ঘোষ (৬২) ওরফে পাগলাদা। ঘটনাটি ঘটেছে বাঙ্গুর হাসপাতালের পাশে রসা রোড সাউথ সেকেন্ড লেনে। জানা গিয়েছে, এদিন সকালে দোতলার ব্যালকনি ভেঙে নীচে পড়ে যান তিনি। সেই সময় তিনি ব্যালকনিতেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। কংক্রিটের বড়ো অংশের নীচে চাপা পড়ে যান তিনি। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
রবিবার মধ্যরাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয় কলকাতা ও শহরতলিতে। দুপুর পর্যন্ত চলে টানা বৃষ্টি। কোথাও কোথাও তা গড়ায় বিকাল অবধি। কখনও তুমুল, কখনও আবার ঝিরিঝিরি। দিনভর আকাশ ছিল মেঘলা। বিকালের দিকে অবশ্য অনেকটাই ‘ধরে’ আসে বৃষ্টি। সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় অফিস যেতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। বৃষ্টির জেরে শহরের বিভিন্ন অংশে বেশ কিছু রাস্তায় জল জমে যায়। যদিও সকালের দিকে জলছবি তেমন নজরে আসেনি। বেলার দিকে বৃষ্টির বেগ বাড়ে। সেই সময় আবার গঙ্গায় জোয়ার থাকায় লকগেটগুলি বন্ধ ছিল। ফলে বেলা ১১টার পর থেকেই ঠনঠনিয়া, রাজা রামমোহন সরণি, বি কে পাল, কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রিট, সুকিয়া স্ট্রিট, শোভাবাজার স্ট্রিট, বেলগাছিয়া, দমদম, ভবানীপুরের নর্দান পার্ক সংলগ্ন এলাকা, অ্যালেন বাই রোড সহ বিভিন্ন রাস্তায় জমা জলের দেখা মিলেছে। যদিও দুপুরের পর বৃষ্টির তেজ কমলে বেশিরভাগ রাস্তা থেকেই জল নেমে যায়। বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ি-মেশিন পাঠিয়ে জমা জল নামাতে তৎপর হতে দেখা গিয়েছে কলকাতা পুরসভার কর্মীদের। ভারী বর্ষণে ডুবেছে উত্তর-মধ্য কলকাতার বিরাট এলাকা। বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি ছিল শ্লথ। বিভিন্ন রাস্তায় যানজটের কবলে আটকে পড়ে গাড়ি।
পুরসভা সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচন থাকায় চলতি বছরের গোড়ার দিকে নিকাশিনালা থেকে পলি তোলার কাজ ঠিকমতো হয়নি। পালাবদলের পর পুরসভার বিভিন্ন কাজও আটকে গিয়েছে নানা জটিলতায়। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সময় মতো সব জায়গায় অস্থায়ী পাম্প বসানো যায়নি। ঠনঠনিয়া, রাজাবাজারের মতো জায়গায় নিকাশির কাজের জন্য ভূগর্ভস্থ নালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে জটিল হয়েছে পরিস্থিতি। পুরসভার হিসাব বলছে, রবিবার মধ্য রাত থেকে সোমবার বেলা ১টা পর্যন্ত সর্বাধিক বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে বেলগাছিয়া পাম্পিং স্টেশন জোনে (১০৪ মিমি)। পামারবাজার পাম্পিং স্টেশন এলাকায় ১০০ মিমিরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। বেলেঘাটার পাগলাডাঙায় এর পরিমাণ ছিল ৯৩ মিমি। অন্যদিকে, দক্ষিণে বালিগঞ্জে বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড হয়েছে ৭৩ মিমি। অর্থাৎ শহরের উত্তর-মধ্য তল্লাটেই বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
পুর আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, তুমুল বৃষ্টি হলেও সেটা লাগাতার হয়নি। মাঝেমধ্যে তার তীব্রতা কমেছে, আবার বেড়েছে। তবে সকালের দিকে শহরে সেভাবে কোথাও জল জমেনি। কিন্তু বেলার দিকে যখন বিপুল বৃষ্টি হয়েছে, তখন গঙ্গার লকগেট বন্ধ থাকায় জমা জলের ভোগান্তি বেড়েছে।