Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাড়কাঁপুনি সামলাতে রাস্তায় আগুন পোহাচ্ছে শহরবাসী, আজ আরও বাড়বে ঠান্ডা

কলকাতায় শীত নাকি ‘ডুমুরের ফুল’! ফি-বছর কমবেশি শোনা যায় এমন গঞ্জনা।

হাড়কাঁপুনি সামলাতে রাস্তায় আগুন পোহাচ্ছে শহরবাসী, আজ আরও বাড়বে ঠান্ডা
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতায় শীত নাকি ‘ডুমুরের ফুল’! ফি-বছর কমবেশি শোনা যায় এমন গঞ্জনা। তবে এবার যেন শীত অতীতের সব খামতি পুষিয়ে দিতে এসেছে! সোমবারের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা তারই প্রমাণ। দিনভর রোদের দেখা নেই। সূর্যদেব মাঝেমধ্যে উঁকিঝুঁকি মারলেও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হননি একবারও। তাই ভরদুপুরেও রাস্তার ধারে আগুন পোহাতে দেখা গেল শহরবাসীকে। কোথাও রাস্তার ধারে কাঠ, শুকনো পাতা জ্বালিয়ে হাত-পা সেঁকে নিচ্ছে কেউ। চায়ের দোকানে আঁচের পাশে দাঁড়িয়েও আগুন পোহাতে দেখা গেল অনেককে। বেলা গড়াতেই ফের শুরু কাঁপুনি। ঠান্ডার প্রকোপ থেকে বাঁচতে আগেভাগে বাড়ি ঢুকে গেলেন অফিসফেরত নিত্যযাত্রীরা। তবে শীতবিলাসীদের জন্য রয়েছে আরও সুখবর! আবহাওয়া দপ্তর জানিয়ে দিয়েছে, আজ, মঙ্গলবার আরও বাড়বে ঠান্ডা। সোমবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৭ ডিগ্রি কম। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, আজও শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১-১২ ডিগ্রির আশপাশে থাকবে। শুধু তাই নয়, আগামী রবিবার পর্যন্ত এই তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। অর্থাৎ সপ্তাহজুড়ে চলবে শীতের এই মারকাটারি ব্যাটিং! 

Advertisement


আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার দুপুরে শহরের তাপমাত্রা ছিল ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭ ডিগ্রি কম। সেই নিরিখে এদিনই ছিল চলতি মরশুমের দ্বিতীয় শীতলতম দুপুর। গত সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (শীতকালে দুপুরের তাপমাত্রাকে দিনের সর্বোচ্চ ধরা হয়) তাপমাত্রা ছিল ১৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনভর কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হওয়ার নেপথ্যে কী কারণ? আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা, রোদ থাকলে শীতের দুপুরে সাধারণত দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অনেকটা উঠে যায়। সেক্ষেত্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সঙ্গে ব্যবধান থাকে ১০ ডিগ্রির আশপাশে। কিন্তু রবি ও সোমবার সেই ব্যবধান কমে মাত্র ৬ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে। মূলত এই কারণে দুপুরেও শহরবাসী টের পেয়েছে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা।  


কালিকাপুর মেইন রোডের পাশে অন্তত চার-পাঁচটি জায়গায় আগুন পোহাতে দেখা গেল স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদারদের। বেহালার শিমুলতলায় বাড়ির সামনের উঠোনে বসে প্রতিদিন রোদ পোহান ৭৬ বছর বয়সি বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত। গত দু’দিন ধরে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভিতরেই রয়েছেন তিনি। বৃদ্ধ বলছিলেন, ‘বাতের ব্যথায় কাবু আমি। উঠোনে গিয়ে যে একটু রোদে বসব, তারও জো নেই। সকাল থেকে সারাদিনই তো কুয়াশা। রোদের দেখা নেই। তাই ঘরের ভিতরে রুম হিটার চালিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। অনেক বছর পর এমন ঠান্ডা পড়ল।’ এই অবস্থায় আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আজ থেকে রোদের তেজ কিছুটা বাড়বে। বেলা বাড়লে দেখা মিলবে সূর্যের। তবে তাতে এই কনকনে ঠান্ডা আরও উপভোগ্য হবে বলেই আশা করছে শহরবাসী। শীত মানেই আত্মীয়-বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে পিকনিকের মজা। অথবা সপরিবারে বেরিয়ে পড়া চিড়িয়াখানা, সায়েন্স সিটি, ময়দান  বা ইকো পার্কে। ফলে বলা যেতেই পারে, রবিবার পর্যন্ত এমন কনকনে ঠান্ডা থাকলে সপ্তাহান্তে শহরবাসীর শীত-উদযাপন বাড়তি মাত্রা পাবে। আপাতত দেখার, আগামী ক’দিন শহরের তাপমাত্রার পারদ গত দুই সোমবারের থেকেও বেশি নেমে যায় কি না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ