Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

রাজ্যসভার কক্ষে সিআইএসএফ, বিরোধী-চাপে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

নিরাপত্তার নামে প্রথা ভেঙে রাজ্যসভার কক্ষে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক (সিআইএসএফ) বাহিনীর জওয়ানদের ঢুকে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাপে মোদি সরকার।

রাজ্যসভার কক্ষে সিআইএসএফ, বিরোধী-চাপে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার
  • ৫ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নিরাপত্তার নামে প্রথা ভেঙে রাজ্যসভার কক্ষে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক (সিআইএসএফ) বাহিনীর জওয়ানদের ঢুকে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাপে মোদি সরকার। তাই পরিস্থিতি ম্যানেজ করতে শেষমেশ সেই পার্লামেন্ট সিকিওরিটি সার্ভিসের (পিএসএস) কর্মীদের ডেকে পাঠাতে বাধ্য হল লোকসভা এবং রাজ্যসভার সচিবালয়। সাংসদ, ভিজিটর, মন্ত্রী সহ ভিআইপিদের সামলানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পিএসএস কর্মীদের একাংশকে সোমবার ‘ডিউটি’ দেওয়া হয়। তাঁদের দেখা যায়, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার চেয়ারের বাঁদিকের ‘স্পেশাল গ্যালারি’ বক্সে। অন্যদিকে, এদিন দিনভর সিআইএসএফ জওয়ানদের দেখা গেল অপেক্ষাকৃত নরম আচরণে। 

Advertisement

ওয়েলে বিরোধীদের বিক্ষোভ রুখতে গত শুক্রবার রাজ্যসভায় ঘটেছিল বেনজির ঘটনা। আম আদমি পার্টির এক সাংসদ যখন মাইকে কিছু বলছিলেন, তখন এসআইআর ইস্যুর বিক্ষোভের পারদ চড়াতে তৃণমূলের দোলা সেন সেখানে গিয়েই স্লোগান দিতে থাকেন। যাতে শোনা যায়। সভা তড়িঘড়ি মুলতুবি হয়ে যায়। পরে যখন সভা বসে, আগে থেকেই ওয়েলে যাওয়ার রাস্তা আটকে দাঁড়ায় সিআইএসএফের তিন জওয়ান। যা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধীরা। রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশকে নালিশও করেন তাঁরা। আধা সেনার অধীনে কি চলে যাচ্ছে সংসদ? সাংসদদের অধিকারে বেড়ি পরানোর চেষ্টা বলে প্রতিবাদে সরব হন মল্লিকার্জুন খাড়্গে, ডেরেক ও’ব্রায়েনরা। 
বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা বেশি হচ্ছে দেখে তাই তড়িঘড়ি পরিস্থিতি ম্যানেজে নামেন ওম বিড়লা। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে পিএসএস কর্মীদের ডাকা হয়। বলা হয়, আপাতত আপনারা সামনে সারিতে থাকুন। সংসদের কক্ষে কিছু ঘটলে আপনারা সামাল দেবেন। সিআইএসএফ নয়। সেই মতো এদিন লোকসভা এবং রাজ্যসভায় ১০ জন করে পিএসএস কর্মীকে মোতায়েন করা হয়। যদিও শিবু সোরেনের প্রয়াণে শ্রদ্ধা জানাতে রাজ্যসভা সকালেই সারাদিনের জন্য মুলতুবি হয়ে যায়। লোকসভায় ফের সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায় পিএসএস’কে। 
২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর লোকসভার অন্দরে বাজি ফাটানোর মশাল হাতে দু’জন গ্যালারি থেকে সভার অন্দরে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনার পর পিএসএস এবং দিল্লি পুলিসকে সংসদের নিরাপত্তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেয় অমিত শাহর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন সিআইএসএফ (সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিওরিটি ফোর্স)। কিন্তু তারপর থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাংসদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, প্রবেশে বাধার মতো অভিযোগ উঠতে থাকে। তারই মধ্যে ঘৃতাহুতি, সভার কক্ষে ঢুকে সাংসদদের পথরোধ। তাই পরিস্থিতি ম্যানেজে নামল সংসদ সচিবালয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ