তিরুবনন্তপুরম: মুখে কাপড় গুঁজে লাঠিপেটা, দেহে সিগারেটের ছ্যাঁকা। মাত্র দেড় বছরের আরশিদকে চরম নির্যাতনের পর খুন করল মায়ের প্রেমিক। ঘটনাস্থলে থাকলেও কেবলই নীরব দর্শকের ভূমিকায় মা। কেরলের রাজধানী তিরুবনন্তপুরম থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরের নেদুমাঙ্গাদের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তিন মাস আগে ওই শিশুকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অভিযুক্ত প্রেমিক আসকার লাগাতার নির্যাতন চালালেও কখনো বাধা দেয়নি মা আখিলা। গত ২৯ মে নির্যাতনের জেরেই শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনায় ওই যুগলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এদিন।
জানা যাচ্ছে, গত ২৯ মে দেড় বছরের আরশিদকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সেসময় অভিযুক্ত আসকার দাবি করে, তার প্রেমিকার (আখিলা) সন্তানের গলায় খাবার আটকে গিয়েছিল। তারপরেই সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। যদিও শিশুর পরিবারের অন্য সদস্যরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় পুলিশ আধিকারিকদের। যৌনাঙ্গে গুরুতর আঘাত সহ মোট ৫১টি ক্ষত মিলেছে ওই শিশুর দেহে। পায়ে দেওয়া হয়েছে সিগারেটের ছ্যাঁকাও।
পুলিশি জেলায় ধৃত আসকার জানিয়েছে, আখিলার সঙ্গে তার প্রেমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ছোট্ট আরশিদ। তিন মাস আগে খুনের পরিকল্পনা করেছিল সে। গত ২৯ মে শিশুটির মুখে কাপড় গুঁজে মারধর করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে আরশিদের মৃত্যু হলে যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ লোপাট করে হাসপাতালে নিয়ে যায় আসকার। তবে এই প্রথম নয়, ধৃত আসকারের বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রীকে মারধর ও গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ রয়েছে। জানা যাচ্ছে, আসকারের নির্যাতনের জেরে ১৩ মাস সংজ্ঞাহীন ছিল তার প্রথম স্ত্রী আমিনা। তার মধ্যে ২ মাস ছিলেন ভেন্টিলেটরে।