Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদ পুরসভায় হানা দিল সিআইডি

মুর্শিদাবাদ পুরসভায় হানা দিল সিআইডি
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর ও সংবাদদাতা লালবাগ: আর্থিক তছরূপের মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদ পুরসভায় হানা দিল সিআইডি। ডিএসপি পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে চার সদস্যের সিআইডি টিম এদিন বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ পুরসভায় ঢোকে। প্রায় চার ঘণ্টা তদন্ত চালিয়ে বিকেলে পুরসভা থেকে বেরিয়ে যান তাঁরা। পুর কর্তৃপক্ষ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। পুরসভায় সিআইডি হানা ঘিরে এদিন লালবাগ শহরজুড়ে জোর চর্চা হয়েছে।

Advertisement

সিআইডির ডিএসপি অমলেশ বালা বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আমরা তদন্তে এসেছিলাম। কিছু নথিপত্র দেখার পাশাপাশি কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললাম। একমাস আগে কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলার তদন্তভার সিআইডিকে দিয়েছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী সিআইডির তরফে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আর্থিক তছরূপে অভিযুক্ত প্রাক্তন পুরপ্রধান বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, এই মুহূর্তে আমি কলকাতায় রয়েছি। হাইকোর্টের নির্দেশে সিআইডি এসেছিল বলে শুনেছি। ঠিক কী কারণে এসেছিল জানি না।
২০১২ থেকে ২০২২ সাল অবধি ১০বছরে মুর্শিদাবাদ পুরসভায় ১০০কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রসেনজিৎ মণ্ডল। সিবিআই, ইডি ও সিআইডির তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রসেনজিৎবাবু ২০২৩সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। প্রধান বিচারপতির এজলাসে মামলা ওঠে। ২০২৪সালের ১৮জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি প্রসেনজিৎবাবুর আবেদন খারিজ করেন। সিআইডি বা কোনও কেন্দ্রীয় এজেন্সির বদলে প্রধান বিচারপতি পুরদপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পুরদপ্তর আবার ডিএলবিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। ডিএলবি পুরসভার তিন কর্মচারী অমরনাথ মণ্ডল, নীতিশ বিশ্বাস ও দিলীপ দাসের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ পুরসভার চেয়ারম্যানকে প্রসিডিংয়ের নির্দেশ দেয়। এই তিনজনের বিরুদ্ধে অর্থদপ্তরের নিয়ম না মেনে কাজ করার অভিযোগ উঠেছিল। এবছর ১৮জানুয়ারি বোর্ড অফ কাউন্সিলার্স এই তিনজন সহ পাঁচ কর্মচারীকে বরখাস্ত করে। এরপর গত ৩০জানুয়ারি প্রসেনজিৎবাবু পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিপ্লব চক্রবর্তী সহ ১২জনের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস মামলা রুজু করলেও তদন্ত না এগনোর অভিযোগে প্রসেনজিৎবাবু ২৬ফেব্রুয়ারি ফের মামলার নথিপত্র নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তিনি আদালতের তত্ত্বাবধানে সিআইডি তদন্তের আবেদন জানান। পুরসভার আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে পুলিসি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ পেয়ে মাসখানেক আগে কলকাতা হাইকোর্ট  সিআইডিকে তদন্তভার দেয়।
তদন্তভার পেয়েই সিআইডি বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ পুরসভায় অভিযান চালায়। সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ২৮কোটি টাকার দুর্নীতির খোঁজ পেয়েছেন। তবে দুর্নীতির টাকার অঙ্ক প্রায় ৪০কোটিতে পৌঁছেছে বলেই তদন্তকারীদের অনুমান। 
পুরসভার চেয়ারম্যান ইন্দ্রজিৎ ধর বলেন, আর্থিক দুর্নীতির মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে সিআইডির চার সদস্যের টিম তদন্তে এসেছিল। তাঁরা বেশ কিছু নথিপত্র নিয়ে গিয়েছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ