Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বাক্ষর বিতর্কে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ চন্দ্রনাথ সিংহকে

তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ‘স্বাক্ষর বিতর্ক’-এ এবার সিআইডির জেরার মুখে চন্দ্রনাথ সিংহ।

স্বাক্ষর বিতর্কে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ চন্দ্রনাথ সিংহকে
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, বোলপুর: তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ‘স্বাক্ষর বিতর্ক’-এ এবার সিআইডির জেরার মুখে চন্দ্রনাথ সিংহ। শুক্রবার সকালে বোলপুরের তৃণমূল বিধায়কের বোলপুরের নায়েকপাড়ার বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা। সিআইডি ইনস্পেক্টর মানসকুমার রায়চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চন্দ্রনাথকে জেরা করতে যান। দলে এক মহিলা অফিসারও ছিলেন।

Advertisement

সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নির্বাচনের প্রস্তাব ঘিরেই এই তদন্তের সূত্রপাত। প্রথমে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় একটি চিঠি পাঠালেও, পরিষদীয় নিয়ম অনুযায়ী সেই চিঠির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিধানসভা সচিবালয়। পরে দলের বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাব বিধায়কদের স্বাক্ষর-সহ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ, ওই প্রস্তাবে থাকা কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরের সঙ্গে বিধানসভার নথিভুক্ত স্বাক্ষরের মিল পাওয়া যায়নি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের হয় এবং তদন্তভার নেয় সিআইডি।
এর আগে এই মামলার তদন্তে চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন তদন্তকারীরা। তাঁদের বাড়িতেও গিয়েছিল সিআইডি ও রাজ্য পুলিশের দল। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বোলপুরে পৌঁছয় সিআইডির দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা চলে যান। পরে আবারও তাঁরা বিধায়কের বাড়িতে ফিরে এসে তাঁর বয়ান রেকর্ড করেন। তদন্তকারীদের তরফে চন্দ্রনাথ সিংহকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি যে স্বাক্ষর করেছিলেন তা তাঁর নিজের কি না। উত্তরে বিধায়ক জানান, ‘ওটা আমারই সই।’ এরপর তদন্তকারীরা জানতে চান, কেন তিনি বড় হাতের অক্ষরে ওইভাবে স্বাক্ষর করেছিলেন। জবাবে চন্দ্রনাথ বলেন, ‘আমাদের যেভাবে বলা হয়েছিল, সেভাবেই করেছি। এর বেশি কিছু জানি না।’ তদন্তকারীরা চন্দ্রনাথের বয়ান ভিডিও রেকর্ড করেন বলে জানা গিয়েছে।
যদিও তদন্তের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি তদন্তকারী আধিকারিকরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘সরকারি কাজে এসেছি। এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, ‘৬ মে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করা হয়। সেই সময় আমরা একটি স্বাক্ষর করেছিলাম। সেই স্বাক্ষর নিয়েই ওঁদের সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ওঁরা জানতে চাইছেন, আমরা সত্যিই বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করেছিলাম কি না এবং সই জাল কি না।’ একইসঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর কথায়, ‘এসব করে বিভ্রান্তি তৈরি না করে সরাসরি বিধায়কদের জিজ্ঞাসা করলেই হতো, আমরা বিরোধী দলনেতাকে সমর্থন করি কি না। মামলা করে মানুষকে হেনস্তা করা ঠিক নয়।’

সম্পর্কিত সংবাদ