সংবাদদাতা, বর্ধমান: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে স্থায়ী আমানত প্রকল্পে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের জমা রাখা প্রায় দু’কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় চার্জশিট পেশ করল সিআইডি। সোমবার সিআইডির তদন্তকারী অফিসার ১০জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪১৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪১৩ ও ১২০বি ধারায় চার্জশিট পেশ করেছেন। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত সিজেএম চার্জশিটে সিলমোহর দিয়েছেন। চার্জশিটে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স বিভাগের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভক্ত মণ্ডলকে মূল চক্রী হিসেবে উল্লেখ করেছে সিআইডি। মূলত তাঁর পরিকল্পনাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা হাতানোর ঘটনা ঘটেছে বলে চার্জশিটে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তিনি অবশ্য এখনও ধরা পড়েনি। তাঁকে পলাতক দেখিয়েই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। চার্জশিটে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের তিন অফিসারের নামও রয়েছে। ভক্তর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আগেই জারি হয়েছে। চার্জশিটে ভক্ত ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী শেখ এনামুল হকের নাম রয়েছে। নাম রয়েছে ভক্তর স্ত্রী নিভা মণ্ডলের। এছাড়াও বেশ কয়েকজনের নাম চার্জশিটে রয়েছে। কয়েকজন আগে গ্রেপ্তারও হয়। দু’জনের আগাম জামিন মঞ্জুর করে বর্ধমানের জেলা ও দায়রা আদালত।
তদন্তে নেমে সিআইডি বেশকিছু অ্যাকাউন্টের খবর পায়। তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২৮লক্ষ ৭৪ হাজার, ২৯ লক্ষ ২৯ হাজার ও ১৪ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা জমা পড়ে বলে সিআইডির দাবি। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বর্ধমান শহরের বড়বাজার শাখায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী আমানতের টাকা তোলার আবেদন জমা পড়ে। সেই টাকা একটি ঠিকাদার সংস্থার অ্যাকাউন্টে জমা করার জন্য চিঠিতে বলা হয়। চিঠিটি দেখে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়কে জানানো হয়। টাকা তোলার জন্য কোনও চিঠি দেওয়া হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়। এরপরই ব্যাঙ্কের তরফে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। চিঠিটি নিয়ে গিয়েছিল এনামুল। তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ঘটনার কিছুদিন আগেই শহরের স্টেশন বাজার এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী আমানত প্রকল্পে জমা রাখা ১ কোটি ৯৩ লক্ষ ৮৯ হাজার ৮৭৬ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার সুজিতকুমার চৌধুরী বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মামলাতেও এনামুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাকে হেফাজতেও নেওয়া হয়। তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, পুরো টাকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকাদার সুব্রত দাসের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। সেখান থেকে ভক্ত, তার স্ত্রী সহ বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেসব অ্যাকাউন্টগুলির বিস্তারিত লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা। চার্জশিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, ফিনান্স অফিসারকে সাক্ষী করেছে সিআইডি।