Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চায়ের আদলে মালদহেও হোক ‘ম্যাঙ্গো ট্যুরিজম’, রাজ্যকে প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের

চায়ের আদলে মালদহেও হোক ‘ম্যাঙ্গো ট্যুরিজম’, রাজ্যকে প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: অন্য পথের খোঁজে ‘ম্যাঙ্গো সিটি’ মালদহ। মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও মালদহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আমবাগান। সেগুলিকে কেন্দ্র করে চায়ের আদলে এবার ‘ম্যাঙ্গো ট্যুরিজম’- চালু করার প্রস্তাব পাঠালেন মালদহের আম ব্যবসায়ীরা। রাজ্য সরকারকে আবেদন জানিয়ে তাঁদের বক্তব্য, আমবাগান ঘিরে পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলা হলে প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি ঘটবে। এই অভিনব প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রশাসনের এক কর্তার মন্তব্য, বিভিন্ন মহল থেকে এই ধরনের প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। 
Advertisement
পাহাড় এবং ডুয়ার্সের চা বাগানকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের পর্যটন শিল্পের ভাবনা অনেক দিনের। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি চা বাগানের পতিত জমিতে রিসর্ট, হোটেল, রেস্তরাঁ চালু হয়েছে। টি ট্যুরিজম রাজ্য তথা দেশের পর্যটন শিল্পে ইতিমধ্যেই ভালো সাড়া ফেলেছে। এই নতুন ধরনের ট্যুরিজমকে কেন্দ্র করে পাহাড়, ডুয়ার্সে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। টি ট্যুরিজমের উপর আরও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দেখানো পথেই হাঁটতে চায় মালদহ। কারণ এখানকার কমবেশি প্রায় প্রতিটি ব্লকেই ভালো গুণমানের বিভিন্ন প্রজাতির আম চাষ হয়। আমকে ঘিরেই ঘুরে দাঁড়াতে চায় মালদহ। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহে এবছর ৩১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। ছোট, বড় মিলিয়ে ৯০ হাজার বাগানে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিকটন আম উৎপাদন হতে পারে বলে আশা করছে প্রশাসন। মালদহ ম্যাঙ্গো মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহার কথায়, টি ট্যুরিজমের মতো আম বাগানের ১৫ শতাংশ পতিত জমিতে ছোট ছোট কটেজ, রেস্তরাঁ, পুকুর খনন করে মাছ চাষের পাশাপাশি ‘ম্যাঙ্গো ট্যুরিজম’ গড়ে তোলার প্রস্তাব পাঠিয়েছি। মালদহের পাশের আরও দু’টি জেলা ‘নবাব ভূমি’ মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলাতেও প্রচুর পরিমাণ আম উৎপাদন হয়। তাই শুধু মালদহ নয়, এর সঙ্গে নদীয়া, মুর্শিদাবাদকে নিয়ে ম্যাঙ্গো ট্যুরিজমের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে রাজ্যের কাছে। যদি তিন জেলাকে কেন্দ্র করে একটা প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। 
আম বাগানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকরা যেমন ঠান্ডা, নিস্তব্ধ পরিবেশের মধ্যে থেকে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে পারবেন, চাষ সম্পর্কেও তাঁরা বিশদে জানবেন। বাগানে এসে গাছপাকা আমের স্বাদ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারবেন তাঁরা। পাশাপাশি কীভাবে আমসত্ত্ব, আচার, জ্যুস, আমের পাল্পের মতো বাই প্রোডাক্ট তৈরির জন্য আম সংগ্রহ করা হয়, সেই সবও  চাক্ষুষ করতে পারবেন পর্যটকরা। এমনকী তাঁরা সরাসরি আম বাগান বা পর্যটন কেন্দ্র থেকেই আম, আমসত্ত্ব আচার কিনতে পারবেন। সবমিলিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে মালদহ। এক্ষেত্রে তারা পাশে চায় পার্শ্ববর্তী দুই জেলাকেও। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ