নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চন্দননগর ও রিষড়ার বাইরেও হুগলির বিভিন্ন এলাকায় জগদ্ধাত্রী পুজোকে ঘিরে উন্মাদনা রয়েছে। চুঁচুড়া, সিঙ্গুর, চণ্ডীতলা, বৈদ্যবাটি, ডানকুনির পুজো সময়ের সঙ্গে স্থানীয় উৎসবের আকার নিয়েছে। গুটিকয় পুজো নিয়েই পুজোর আয়োজন থেকে ভাসান— মাতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে চণ্ডীতলা, ডানকুনি। অনেক জায়গাতেই শাসকদলের নেতানেত্রীদের হাত ধরে পুজোর জাঁকজমক বেড়েছে।
চণ্ডীতলা থেকে ডানকুনি পর্যন্ত একগুচ্ছ জগদ্ধাত্রী পুজো হয়। তারমধ্যে কোনওটা প্রাচীন, আবার কোথাও হাল আমলে পুজো শুরু হলেও দ্রুত তা কলেবরে বেড়েছে। জুড়েছে নানা আড়ম্বর। চণ্ডীতলা অ্যাথলেটিক ক্লাবের পুজো শতবর্ষ প্রাচীন। একদা স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন ওই পুজোর উদ্যোক্তারা। আজও সাবেক ধাঁচা ও পারিবারিক আদল নিয়ে ওই পুজো দৃষ্টিনন্দন হয়ে আছে। হাল আমলের পুজোর মধ্যে বৈভবে, সাজসজ্জায়, থিমে নজর কাড়ছে চণ্ডীতলা ইভনিং স্টারের পুজো।
হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর তথা তৃণমূলের দাপুটে নেতা সুবীর মুখোপাধ্যায় ওই পুজোর উদ্যোক্তা। বাঁশ, বেত ও কাঁথির কাঁথা স্টিচের সজ্জায় এবার ইভনিং স্টারের মণ্ডপ সেজেছে। দেবীকে সোনার গয়নায় মুড়ে দর্শকের সামনে হাজির করা হবে। সাবেক ধাঁচার বিপুলা দেবী প্রতিমা মাটির। তা তৈরি করা হয়েছে কলকাতার কুমোরটুলিতে। সুবীরবাবু বলেন, সোনার পাশাপাশি সোনালি জরি, রাংতা ও শোলার মনোহর সাজ দেবীকে নয়নাভিরাম করে তুলবে। সঙ্গে থাকবে আধুনিক আলোর রোশনাই। চণ্ডীতলার উল্কাসংঘও জাঁকজমকে দেবী আরাধনায় মেতেছে। ওই ক্লাবের পুজো উদ্বোধনে বাংলা চলচ্চিত্রের নায়ক দেবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ডানকুনির অন্যতম জাঁকজমকের পুজো হয় দুর্গাপুর রোড চৌমাথা ব্যবসায়ী সংঘের। পুজোর উদ্যোক্তা তথা ডানকুনি পুরসভার সিআইসি কল্লোল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১২ ফুট উচ্চতার মনোহর সাজের দেবী আমাদের মণ্ডপে থাকবেন। আর চন্দননগরের উৎকৃষ্ট আলোকসজ্জা দেখা যাবে।
সিঙ্গুরের রতনপুরের উদয়সংঘের পুজো এবার ৫১ বছরে পা দিয়েছে। ওই পুজোর পৃষ্ঠপোষক রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী বেচারাম মান্না। ভারতনাট্যম নৃত্যধারাকে আধার করে ভারতীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ের আদর্শকে তুলে ধরতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাই থিমের নাম প্রবাহিনী। মণ্ডপ গড়া হয়েছে কথাকলি সহ নানা নৃত্যধারার আদলে। সোমবার পুজোর উদ্বোধন হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, সুন্দর দেবীপ্রতিমা, ভারতীয় সংস্কৃতিকে প্রেক্ষাপট করে মণ্ডপ এবং চিত্তাকর্ষক আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চুঁচুড়ার মহেশতলার জগদ্ধাত্রী পুজো এবার ৭৫ বছরে পা দিয়েছে। সাবেক ধাঁচায় স্থায়ী মন্দিরে বনেদি আদলে পুজোর আয়োজন করেছেন উদ্যোক্তারা। ৭৫ বছরে পুজো বলে বাড়তি জৌলুস থাকছে। পুজো উদ্যোক্তা সুরজিৎ শী বলেন, ঐতিহ্য আর আড়ম্বরের মিশেলে পুজোর আয়োজন হয়েছে। বৈদ্যবাটিতে ৩১ বছর ধরে জমজমাট পুজোর আয়োজন করছে নোনাডাঙা অ্যাথলেটিক ক্লাব। উদ্যোক্তা তথা শাসকদলের প্রবীণ নেতা অজয়প্রতাপ সিং বলেন, আমাদের দেবী রাজকীয় সাজে মণ্ডপে থাকবে। - নিজস্ব চিত্র