নিজস্ব প্রতিনিধি, চিত্তরঞ্জন: ৭৫বছরের ইতিহাসে প্রথমবার রেল শহর চিত্তরঞ্জনে স্বীকৃত শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচন ঘিরে সরগরম থাকল। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আদলে বুধবার দিনভর ভোটকেন্দ্রে চূড়ান্ত ব্যস্ততা দেখা যায়। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বুথগুলির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বুথকেন্দ্রের বাইরে আরপিএফের কঠোর নজরদারি। শহরজুড়ে টহল দিচ্ছে আরপিএফ ও পুলিস। পুরো শহর বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পতাকায় ঢাকা পড়ে। আইএনটিইউসি ও সিটু দু’টি শ্রমিক সংগঠনই ভোটে জিতে স্বীকৃত ইউনিয়নের মর্যাদা পেতে মরিয়া চেষ্টা চালায়। ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা হয় কারা ভোট দিতে আসেননি। তাঁদের ভোটকেন্দ্রে আসার আর্জি জানান শ্রমিক নেতারা। শ্রমিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সংগঠন এই নির্বাচনে জয়লাভ করবে তাদের রেল কর্তৃপক্ষকে প্রতিটি বৈঠকে মর্যাদা দিয়ে ডাকতে হবে। এমনকী নীতি নির্ধারণেরও অংশ হয়ে হবে তারা। তাই কারখানার নিয়ন্ত্রণ পেতে মরিয়া শ্রমিক নেতারা। এদিন ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।
Advertisement
এদিন সকাল থেকে চিত্তরঞ্জনের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে ঘুরতে থাকে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর একটি ভাষণ। যেখানে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী ও শ্রমিকদের জন্য ওল্ড পেনশন স্কিম চালু করার বিষয়ে সওয়াল করছেন। তারা এলে যে ওল্ড পেনশন স্কিম(ওপিএস) ফিরিয়ে আনবেন তা জানাচ্ছেন। উদাহরণ তুলে ধরে কংগ্রেস নেত্রী বলেছেন যেখানেই কংগ্রেস সরকার গড়েছে ওপিএস ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ভোটের দিন এই ভাষণ ভাইরাল করা নিয়ে সরগরম চিত্তরঞ্জন। ওপিএস ফিরিয়ে আনাই বেশিরভাগ রেল শ্রমিকদের দাবি। শেষ মুহূর্তে ভোটে সুকৌশলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ভাষণ ব্যবহার করল চিত্তরঞ্জন রেলওয়ে মেনস কংগ্রেস। অন্যদিকে সিটুর শ্রমিক সংগঠন লেবার ইউনিয়নের বুথ স্লিপেই আধুনিকতার ছাপ। তারা বুথ স্লিপে কিউআর কোড রেখেছে। তা স্ক্যান করলেই সিএলডব্লুর শ্রমিকদের জন্য লেবার ইউনিয়ন কী করেছে তা স্মরণ করানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের দাবিগুলিও ফুটে উঠছে। এভাবে তারাও একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের প্রচার চালাল। মোট ৩২টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে রেলকর্মীদের ভোট নেওয়া হচ্ছে। তারমধ্যে ২৭টি কেন্দ্র রয়েছে চিত্তরঞ্জনে। বাকি পাঁচটি কেন্দ্র হল ডানকুনি, হাওড়া, বেঙ্গালুরু, মুম্বই ও দিল্লি। সিটু, আইএনটিইউসি সহ মোট ছ’টি শ্রমিক সংগঠন এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই সিটু ও আইএনটিইউসি কর্মীদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। একে অপরের প্রতি রাজনৈতিক তোপ দাগলেও দিনভর ভোট হল শান্তিপূর্ণভাবেই।
সিএলডব্লুর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক উত্তমকুমার মাইতি বলেন, স্বীকৃত শ্রমিক সংগঠন থাকলে কর্তৃপক্ষের কাজ করতে সুবিধা হয়। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বিভিন্ন দাবি জানালে কাজ করতে সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে দু’টি শ্রমিক সংগঠন পর্যন্ত স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। যারা জিতবে তারা ছাড়াও কোনও শ্রমিক সংগঠন যদি ৩০শতাংশ ভোট পায় তারাও বিভিন্ন মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। ভোটের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রতিটি বুথের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। প্রতি বুথে একজন করে অফিসার নিযুক্ত আছেন।
লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজীব গুপ্ত বলেন, স্বীকৃত শ্রমিক সংগঠন থাকলে কর্তৃপক্ষ একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। আমরা এই ভোট করার জন্য মামলা করেছিলাম। তারফলে এই ভোট। শ্রমিকরা জানে ওল্ড পেনশন স্কিম সরিয়ে নিউ পেনশন স্কিম বিল কংগ্রেস সরকারই এনেছিল। আইএনটিইউসি নেতা নেপাল চক্রবর্তী, ইন্দ্রজিৎ সিং বলেন, আমরা তো জয়লাভ করবই, সিটুকে ৩০ শতাংশ ভোট পেতে দেব না। আমরাই একমাত্র স্বীকৃত শ্রমিক সংগঠন হব।
সিএলডব্লুর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক উত্তমকুমার মাইতি বলেন, স্বীকৃত শ্রমিক সংগঠন থাকলে কর্তৃপক্ষের কাজ করতে সুবিধা হয়। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বিভিন্ন দাবি জানালে কাজ করতে সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে দু’টি শ্রমিক সংগঠন পর্যন্ত স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। যারা জিতবে তারা ছাড়াও কোনও শ্রমিক সংগঠন যদি ৩০শতাংশ ভোট পায় তারাও বিভিন্ন মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। ভোটের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রতিটি বুথের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। প্রতি বুথে একজন করে অফিসার নিযুক্ত আছেন।
লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজীব গুপ্ত বলেন, স্বীকৃত শ্রমিক সংগঠন থাকলে কর্তৃপক্ষ একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। আমরা এই ভোট করার জন্য মামলা করেছিলাম। তারফলে এই ভোট। শ্রমিকরা জানে ওল্ড পেনশন স্কিম সরিয়ে নিউ পেনশন স্কিম বিল কংগ্রেস সরকারই এনেছিল। আইএনটিইউসি নেতা নেপাল চক্রবর্তী, ইন্দ্রজিৎ সিং বলেন, আমরা তো জয়লাভ করবই, সিটুকে ৩০ শতাংশ ভোট পেতে দেব না। আমরাই একমাত্র স্বীকৃত শ্রমিক সংগঠন হব।



