Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিটফান্ড সংস্থার ‘মোটিভেটর’, স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর 

চিটফান্ড সংস্থার ‘মোটিভেটর’, স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর 
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: চিটফান্ডে টাকা রাখার জন্য স্কুল শিক্ষককে ‘মোটিভেটর’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁকে সামনে রেখে দুই মেদিনীপুর জেলায় সংস্থার পক্ষ থেকে অসংখ্য কর্মশালা করে টাকা রাখার জন্য পেশায় শিক্ষক, গৃহশিক্ষক থেকে সাধারণ মানুষজনকে উৎসাহ দেওয়া হতো। দুই মেদিনীপুরে এভাবে কোটি টাকারও বেশি তোলার পর ওই সংস্থার ঝাঁপ বন্ধ। এই অবস্থায় সেই মোটিভেটরের বিরুদ্ধে পটাশপুর থানার দ্বারস্থ হলেন আরেক শিক্ষকপত্নী। প্রায় ২৮লক্ষ ৩১হাজার টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছেন বলে পটাশপুর থানার খাটুয়াবাড় গ্রামের শিক্ষক পিন্টু জানার অভিযোগ। পিন্টুবাবুর স্ত্রী মৌমিতা মাইতি জানা এনিয়ে চিটফান্ড সংস্থার মোটিভেটর ইন্দ্রনারায়ণ সাহু সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছেন। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
Advertisement
এনিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তথা চিটফান্ডের মোটিভেটর ইন্দ্রনারায়ণ সাহু বলেন, আমি ওই সংস্থার হয়ে বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য রেখেছি ঠিকই। কিন্তু আমি কারও থেকে টাকা আদায় করিনি। তাহলে প্রতারণায় আমার নাম জড়ানো হল কেন? পটাশপুর থানার ওসি সুরজ আশ বলেন, অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। ২০২২ সালে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ‘ট্রাইউইন ইনফো সলিউশন প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি চিটফান্ড সংস্থা আচমকা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ওই সংস্থার কর্মকর্তারা মূলত শিক্ষক এবং গৃহশিক্ষকদের অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে টাকা তোলার কাজ শুরু করে। মূলধন সুরক্ষিত রেখে মাসে আট শতাংশ সুদের লোভ দেখিয়ে সবং, পটাশপুর, তমলুক, হলদিয়া সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর টাকা তোলা হয় বলে অভিযোগ। কয়েক মাস সুদের টাকা দেওয়া হয়। তাতেই শিক্ষকদের একটা বড় অংশের মধ্যে ওই চিটফান্ড নিয়ে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়। ওই সংস্থার পক্ষ থেকে সবং থানার চাঁদকুড়ি ইউনিয়ন হাইস্কুলের শিক্ষক ইন্দ্রনারায়ণ সাহুকে ‘মোটিভেটর’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। সংস্থার বিভিন্ন সেমিনারে গিয়ে ওই শিক্ষক সংস্থায় টাকা রাখলে কী কী সুবিধা, তা নিয়ে বক্তৃতা দিতেন। তাতে আকৃষ্ট হয়ে অনেকেই টাকা জমা করেন। কোটি টাকার বেশি হাতানোর পর আপাতত ঝাঁপ বন্ধ। প্রতারিত মহিলা এখন পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছেন।
৩ জানুয়ারি পটাশপুরের খাটুয়াবাড় গ্রামের স্কুলশিক্ষক পিন্টুবাবুর স্ত্রী মৌমিতা মাইতি জানা মোটিভেটর ইন্দ্রনারায়ণ সাহু সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন। ওই শিক্ষকের কথায় আশ্বস্ত হয়ে সংস্থায় ২৮লক্ষ ৩১হাজার টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁর মতো বলরাম মাইতি, স্বপন প্রধান সহ আরও অনেক স্কুলশিক্ষক ও সাধারণ মানুষ টাকা রেখে সর্বস্বান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। ওই সংস্থার জাল তমলুক এবং হলদিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। এই এলাকার অনেক শিক্ষক টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছেন। কিন্তু, সম্মানের কথা মাথায় রেখে অধিকাংশ থানার দ্বারস্থ হচ্ছেন না।
অভিযোগকারী পিন্টুবাবু বলেন, চাঁদকুড়ি ইউনিয়ন হাইস্কুলের ওই শিক্ষক মোটিভেটর হিসেবে আমাদের এলাকায় এসে ওই সংস্থায় টাকা রাখার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। তাতেই আশ্বস্ত হয়ে আমরা টাকা রেখেছি। আমার মতো পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় আরও অনেক শিক্ষক টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছেন। ২৮লক্ষ টাকা খোয়া যাওয়ার পরই আমি থানার দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সেইমতো আমার স্ত্রী ওই শিক্ষক সহ চিটফান্ড সংস্থার মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ