Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিতাবাঘের আতঙ্কে কালচিনির চা বাগানে ড্রাম ও টিন বাজিয়ে পাতা তুলছেন শ্রমিকরা

চিতাবাঘের আতঙ্কে কালচিনির চা বাগানে ড্রাম ও টিন বাজিয়ে পাতা তুলছেন শ্রমিকরা
  • ২৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: শীত পড়তেই কালচিনির চা বাগানগুলিতে চিতাবাঘের আনাগোনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মা চিতাবাঘ শাবক নিয়ে বাগানের নালায় আশ্রয় নিচ্ছে। এনিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। এই আতঙ্কের জন্য কোনও কোনও বাগানে যেমন চা পাতা তোলার কাজ ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি চিতাবাঘের অতর্কিত হামলায় শ্রমিকরাও জখম হচ্ছেন। কয়েক দিন আগে পাতা তোলার সময় কালচিনির ভাতখাওয়া বাগানের এক মহিলা শ্রমিক চিতাবাঘের হামলায় গুরুতর জখম হন। এই পরিস্থিতিতে পাতা তোলার কাজ খুবই কঠিন হচ্ছে বাগানগুলিতে। সেই জন্য চিতাবাঘ উপদ্রুত বাগানগুলির কর্তৃপক্ষ সকাল, দুপুর ও বিকেল তিন বেলা বাগানে ড্রাম ও টিন বাজিয়ে পাতা তুলছে। কোথাও কোথাও পটকা ফাটিয়েও পাতা তোলা হচ্ছে। বনদপ্তরও চিতাবাঘ উপদ্রুত বাগানগুলিতে টহলদারি বাড়িয়েছে। 
Advertisement
কয়েকদিন আগে সকালে পাতা তোলার কাজ শুরু হতেই ভাতখাওয়া বাগানে চিতাবাঘের হামলায় এক মহিলা শ্রমিক গুরুতর জখম হন। ওই শ্রমিক এখনও চিকিৎসাধীন। তারপর থেকেই ভাতখাওয়া বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। আতঙ্কে ওই বাগানে পাতা তোলার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। ভাতখাওয়া চা বাগানের ম্যানেজার ত্রিয়োগীনারায়ণ পান্ডে বলেন, চিতাবাঘের হামলায় আমাদের বাগানের এক মহিলা শ্রমিক জখম হয়েছেন। তারপর থেকেই বাগানে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাধ্য হয়ে ড্রাম ও টিন বাজিয়ে পাতা তোলার কাজ করতে হচ্ছে। পটকাও ফাটানো হচ্ছে। একাজে আমাদের সাহায্য করছেন বক্সার নিমাতি রেঞ্জের বনকর্মীরাও।
সাধারণত সকাল সাতটা থেকেই বাগানে পাতা তোলার কাজ শুরু হয়ে যায়। চলে ১১টা পর্যন্ত। তারপর ফের কাজ শুরু হয়। চলে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। মাঝেরডাবরী চা বাগানের ম্যানেজার চিন্ময় ধর বলেন, সাধারণত সকালের দিকে বাগান অনেকটাই কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে। ফলে বন্যজন্তুর উপস্থিতি সেভাবে টের পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে আমরাও ড্রাম ও টিন বাজিয়ে পাতা তুলছি। পটকাও ফাটানো হচ্ছে মাঝেমধ্যে।
এদিকে, শীত পড়তেই বাগানগুলিতে সকালের দিকে টহলদারি বাড়িয়েছে বনদপ্তরও। বক্সার রাজাভাতখাওয়ার রেঞ্জার নুর ইসলাম বলেন, শীত পড়লেই শাবক নিয়ে চিতাবাঘ চলে আসে বাগানের ঝোপে। সেই জন্য সকালের দিকে বাগানগুলিতে বনকর্মীদের টহলদারি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ