Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাষের জমির মাটি তুলে পাচার, মাফিয়াদের ভয়ে সিঁটিয়ে বাসিন্দারা

চাষের জমির মাটি তুলে পাচার, মাফিয়াদের ভয়ে সিঁটিয়ে বাসিন্দারা
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কান্দি: দিনের আলোতেই কৃষিজমির মাটি কেটে অবাধে পাচার হচ্ছে ট্রাক্টরে করে। মঙ্গলবারের ওই ঘটনা ভরতপুর ১ ব্লকের আমলাই ও সিজগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। চাষিদের অজান্তেই লাগাতার মাটি মাফিয়ারা এভাবে মাটি পাচার করছে বলে অভিযোগ। মাটি মাফিয়াদের নির্বিচার অত্যাচারে ক্ষতি হচ্ছে কৃষিজমির। যদিও ঘটনায় ভরতপুর ১ ব্লক বিএলএলআরও আনন্দমোহন মাইতিকে চার ঘণ্টা ধরে মোবাইলে কল করার পর তিনি জানান, বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দুই পঞ্চায়েত এলাকায় এভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে পাচার করার ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। অনেক সময় মাটি মাফিয়ারা জমি মালিকদের হাতে কিছু অর্থ গুঁজে দিয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ সময় চাষিরা জানতেও পারেন না যে, তাঁর জমির মাটি চুরি হয়ে গিয়েছে।
এদিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গিয়েছে, সিজগ্রাম পঞ্চায়েতের ভরতপুর লোহাদহঘাট গ্রামীণ সড়কের সিজগ্রাম শনিমন্দিরের পর একটি জমিতে দু’টি জেসিবি দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। সেই মাটি অন্তত ১২টি ট্রাক্টরে করে পাচার করা হচ্ছে। মাটি পাচার হচ্ছে প্রতিবেশী গ্রামগুলিতে। ওই রাস্তার কিছুটা পর জোরগাছি গ্রামের নোনাই নালার পাশেও অপর একটি জমিতে মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে। সেখানেও একটি জেসিবি মাটি কাটছে। অন্তত আটটি ট্রাক্টরে করে কাটা মাটি পাচার করা হচ্ছে। এখানে কাছে যেতেই মাটি ভর্তি ট্রাক্টরগুলি মাঠের বিপরীত দিক দিয়ে চলতে শুরু করে। পরে আর তাদের নাগাল পাওয়া যায়নি।
ওই মাঠের চাষি সমীরণ দে বলেন, এই এলাকায় আমার জমি রয়েছে। খুব সর্তক থাকা সত্ত্বেও একদিন সকালে এসে দেখি আমার জমির মাটি চুরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বিষয়টি মাটি মাফিয়াদের বলে কিছুই করতে পারলাম না। অপর চাষি সবুজ শেখ বলেন, এখানে জমির মালিকদের কোনও জোর নেই। জমি থেকে মাটি কাটার পর কেঁদে কেটে যদি কিছু টাকা আদায় করা যায় তো ভাল, নাহলে প্রতিবাদ করার সাহস কারও নেই। দিনের পর দিন এলাকায় মাটি মাফিয়াদের এমন তাণ্ডব চলছে।
চাষিরা আরও জানান, উঁচু জমি থেকে মাটি কাটার ঘটনা ঘটলে কোনও চিন্তা থাকে না। কিন্তু নিচু জমির মাটি কাটলে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। মাটি কেটে নেওয়ার পর ফসলও ভাল হয় না। তাই প্রশাসনের কাছে নজরদারির দাবি জানাচ্ছেন ওই এলাকার চাষিরা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ