সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: চাষের জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ করলেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, ওই জমির মাটি কাটলে আশপাশের জমিতে চাষ করতে সমস্যা হবে। নবদ্বীপ বাবলারি পঞ্চায়েতে নিত্যানন্দপুর কলোনি কুমড়োগাড়ির ঘটনা। বুধবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নবদ্বীপ থানার পুলিস। পুলিস আসার খবর পেয়ে আগেই পালিয়ে যায় ওই মাটি কারবারিরা। যদিও জমির মালিক সনৎ রাহা জানান, এক বছর আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। সেজন্য দেনা হয়েছে। সেই দেনা শোধ করতে ৫-৬ মাস আগে সরকারি অনুমতি নিয়ে তবেই মাটি কাটাচ্ছি। নবদ্বীপ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, ওই জমির মালিক সরকারি কোষাগারে ২ লক্ষ টাকা রাজস্ব দিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় মানুষের আপত্তির জন্য আমরা তাঁকে মাটি কাটতে বারণ করেছি। ওই ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে এনওসি এবং পুলিসের অনুমতি না নেবেন, ততক্ষণ মাটি কাটতে দেওয়া যাবে না। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত মাটি কাটার কাজ চলছিল। স্থানীয় চাষিরা তাতে আপত্তি জানান। চাষিদের যুক্তি, পাশেই রয়েছে মুড়িগঙ্গা খাল। খালের জল ওই গর্ত দিয়ে ঢুকে এলাকার অন্য জমির ফসলের ক্ষতি করতে পারে। ওইখানে ডিপ টিউবওয়েলও আছে। ফলে তার মাধ্যমে আশপাশের জমিতে সেচের জল দেওয়া হলে সেই জলও নতুন তৈরি গর্তে গিয়ে জমতে পারে। ফলে, এলাকার অন্যান্য কৃষকরা চাষ করতে পারবেন না।
Advertisement
পার্শ্ববর্তী জমির মালিক অসিত ঘোষ বলেন, ওই জমির মালিক একমাস আগেও মাটি কাটার জন্য জমিতে ট্রাক্টর নামিয়েছিলেন। আমরা সেই সময়ে বিএলআরও দপ্তরকে ফোন করে মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ফের মাটি কাটা শুরু করেছেন। মাটি কাটা হলে আশপাশের জমিতে ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে যে সেচের জল দেওয়া হয়, তা ওই গর্তে গিয়ে পড়বে। ফলে সেইসব জমির চাষিরা জলের অভাবে চাষ করতে পারবেন না। স্থানীয় বাসিন্দা সুনীলকুমার ঘোষ বলেন, আমার স্ত্রী নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী। দু’ দিন ধরে ওই ডিপ টিউবওয়েল এলাকায় জমিতে মাটি কাটছিল। আমার ভাইপো অসিত ঘোষ, ভাই নিতাই ঘোষ এবং অন্য চাষিরা বাধা দেওয়ায় ওদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী মঞ্জুরানি ঘোষ বলেন, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখছি। -নিজস্ব চিত্র



