Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাষের জমি, বাড়িঘর বিক্রি করে টাকা মেটাতে বাধ্য হচ্ছেন পরিমলের বাবা

চাষের জমি, বাড়িঘর বিক্রি করে টাকা মেটাতে বাধ্য হচ্ছেন পরিমলের বাবা
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: ছেলে পরিমল রায়ের বিরুদ্ধে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের আপ্ত সহায়কের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়েছে ময়নাগুড়ি থানায়। ছেলের জন্য ঋণ করে এখন নিজের চাষের জমি, বাড়িঘর বিক্রি করে টাকা মেটাতে বাধ্য হচ্ছেন পরিমলের বাবা মন্টু রায়। কয়েকদিন আগে ঋণের টাকা মেটাতে বাড়ি ভিটে সহ একটি শোওয়ার ঘর ও রান্নাঘরও বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন পরিমলের বৃদ্ধ বাবা। এখন অবশিষ্ট টিনের চালের একটি শোওয়ার ঘর। সেটাও বিক্রি করার উপক্রম। তারই মাঝে ছেলের নামে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আপ্ত সহায়কের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ থানায় দায়ের হওয়ার খবরে রাতের ঘুম উবে গিয়েছে সিতাইয়ের বিআরচাত্রা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রাম উত্তর সিঙ্গিমারির বাসিন্দা পরিমল রায়ের বাবা মন্টু রায়ের। যদিও ছেলে কোথায় আছে সেবিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি পরিমলের বাবা-মায়ের।
Advertisement
গত রবিবার ময়নাগুড়ির বাসিন্দা বিশ্বনাথ শীল পরিমল রায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ময়নাগুড়ি থানায়। সোমবার আরও পাঁচ জন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন পরিমলের বিরুদ্ধে। পুলিস ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তেরর খোঁজও চালাচ্ছে। মন্টু রায় বলেন, নিশীথ প্রামাণিক ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে দাঁড়ানোর সময় থেকেই ছেলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। বছর চারেক আগে ছেলে দিল্লি চলে যায়। কিছুদিন আগে বাড়িতে আসে। পরে টিভিতে, মোবাইলে খবর শুনে বিষয়টি জানতে পারি। ঋণের টাকা মেটাতে জমি, বাড়ি, থাকার ঘর সব শেষ হয়ে গেল। একটি মাত্র ঘর অবশিষ্ট আছে। সেটাও কতদিন থাকবে জানি না। মা সজলবালা রায় বলেন, ময়নাগুড়ির বিশ্বনাথ থানায় মিথ্যা অভিযোগ করে আমার ছেলেকে ফাঁসিয়েছে। ছেলে কোথায় আছে তাও জানি না। 
নিজের গ্রামেও পরিমল গ্রামের অনেকের কাছে টাকা নিলেও ফেরত দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সে টাকা শোধ না করায় গ্রামের মধ্যেই একাধিকবার গ্রাম্য সালিশিও হয় বলে পরিমলের গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন। স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য অমল বর্মন বলেন, গ্রামের অনেকের  কাছে টাকা নিলেও সেই টাকা শোধ করেনি। সেসব নিয়ে গ্রাম্য সালিশি সভাও হয়। পরিমলের বাবা জমি, বাড়ী, ঘর বিক্রি করে সেসব মেটাচ্ছেন। পুলিস তদন্ত করলে সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।   
সম্পর্কিত সংবাদ