সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: চাষিদের কাছ থেকে কুইন্টাল প্রতি ৫ থেকে ৬ কেজি করে ধলতা নেওয়ার অভিযোগ উঠল মিল মালিকদের বিরুদ্ধে। চাষিরা প্রতিবাদ করলে মিল মালিকের পক্ষ নিয়ে সোসাইটি ম্যানেজার চাষিদের দালাল ও ফড়ে বলে অপমান করছেন বলে দাবি। মঙ্গলবার ঘটনাটি হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের তুলসীহাটা এসকেইউএস সোসাইটির। প্রতিবাদে বিকেলে সোসাইটির ম্যানেজারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান চাষিরা। তাঁদের দাবি, মিল মালিক ও সোসাইটির ম্যানেজার চাষিদের শোষণ করছেন। গড়ে কুইন্টাল প্রতি ৫ থেকে ৬ কেজি করে ধলতা না দিলে ধান কিনতে চাইছেন না। চাষিদের দাবি, ৩০ থেকে কমিয়ে একজন চাষির কাছ থেকে ১০ কুইন্টাল করে ধান ক্রয় করছে সোসাইটি। সেটা বাড়িয়ে ১৫ কুইন্টাল করার নাম করে চাষিদের কাছ থেকে সোসাইটির ম্যানেজার ২০০ টাকা, মিল কর্মচারীরা স্লিপ দেওয়ার নাম করে ২০০ টাকা ও ধান লোড-আনলোড করার জন্য শ্রমিকরা ৩০০ টাকা করে দাবি করছেন। চাষি সেখ আলিমুদ্দিন বলেন, আমি সোসাইটিতে ১৫ কুইন্টাল ধান বিক্রি করেছি। তবে আমার কাছ থেকে ৮৫ কেজি ধলতা নিয়েছেন মিল মালিক। না দিলে ধান কিনতে চাইছে না মিল। সেজন্য বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। মিল মালিক গোপাল আগরওয়াল বলেন, ধানের আর্দ্রতা ১৭ শতাংশের নীচে থাকলে ধলতা নেওয়ার নিয়ম নেই। বেশি হলেও সর্বোচ্চ দুই কেজি ধলতা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সেটাই মানা হচ্ছে। সোসাইটির ম্যানেজার সাগর কর্মকারের মন্তব্য, ধানের গুণগত মান দেখে ধলতা নিচ্ছেন মিল মালিক। এতে আমাদের কিছু করার নেই। তবে চাষিদের কাছ থেকে কে টাকা নিচ্ছেন জানা নেই। বিডিও সৌমেন মণ্ডল বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ধানের গুণগত মান দেখে সামান্য ধলতা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে সেটা কুইন্টালে ৫-৬ কেজি নয়। এই ধরনের অভিযোগ উঠলে ব্যবস্থা নেব।



