Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চোরাপথে বাংলাদেশ থেকে আসছে জালনোট

চোরাপথে বাংলাদেশ থেকে আসছে জালনোট
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: জালনোটের কারবার রুখতে নজরদারি বাড়িয়েছে রাজ্য পুলিস। গোয়েন্দাদের দাবি, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে মালদহ, মুর্শিদাবাদে জালনোট ঢোকানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বারবার অভিযান চালালেও কাঁটাতারের ওপারের জঙ্গিগোষ্ঠীর একাংশের মদতে এই কারবার উত্তরের মাটিতে কিছু এজেন্ট স্থায়ী করতে মরিয়ে চেষ্টা চলাচ্ছে। উত্তরবঙ্গের সংশ্লিষ্ট জেলারগুলির পুলিস একাধিকবার অভিযান চালিয়ে সাফল্যও পেয়েছে। তবে তা পুরোপুরি রুখতে পারছে না। 
Advertisement
গোয়েন্দাদের দাবি, একটু ভালো করে লক্ষ্য করলে নকল নোট সহজেই চিহ্নিত করা যায়। গ্রামগঞ্জের হাটে-বাজার এই নোট চালিয়ে দিচ্ছে জালনোটের কারবারিরা। শিলিগুড়ির বাজারেও এমন নোট ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মালদহ থেকে এই নোটের কারবারিরা তাদের চক্রের সদস্যদের শিলিগুড়ির একাধিক এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে থাকার নির্দেশও দিয়েছে। পুলিসের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটিগাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় চক্রের এক সদস্যের গতিবিধির উপর নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিস। 
এ প্রসঙ্গে পুলিসের আইজি (উত্তরবঙ্গ) রাজেশ যাদব বলেন, জালনোটের একাধিক কারবারিকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। প্রচুর জালনোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এমন নোট যাতে বাজারে ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। 
পুলিস যাই বলুক গত একবছরে যেভাবে উত্তরবঙ্গে একাধিক জেলায় জালনোট সহ কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাতে ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। চলতি মাসের ১০ তারিখ মালদহের বৈষ্ণবনগর থেকে ৯৭ হাজার টাকার জালনোট সহ তিন কারবারিকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছিল। এরআগে এ মাসরেই ৩ তারিখ মালদহের কালিয়াচক থেকে ২ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকার জালনোট উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় দুই কারবারি গ্রেপ্তার হয়েছিল। তারআগে ২০ নভেম্বর উত্তরপ্রদেশের অ্যান্টি টেরোরিজম স্কোয়াড মালদহের দুই জালনোট পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারা মালদহ থেকে উত্তরপ্রদেশে জালনোট পাঠাত। এছাড়াও অতীতে একাধিক অভিযানে প্রচুর জালনোট উদ্ধার হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কয়েক লক্ষ টাকার জালনোট উদ্ধার করা গিয়েছে। কমপক্ষে ৫০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। আর এই সংখ্যাটাই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গোয়েন্দা মহলে। কোনওভাবে এই নোট বাজারে ছড়িয়ে দিতে পারলেই অর্থনীতির ক্ষতি তো হবেই পাশাপাশি জঙ্গিদের হাতে চলে যাবে প্রচুর অর্থ। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই নোট আটকাতে তাই কোনও ত্রুটি রাখতে চাইছে না পুলিস ও গোয়েন্দারা।
সম্পর্কিত সংবাদ