সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: নাব্যতা হারানো মাথাভাঙা, চূর্ণি নদীতে চাষ হচ্ছে কলমি শাক। এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন পরিবেশকর্মীরা। তাঁরা নদী সাফাই অভিযানে নামতে চলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে জমে স্রোতহীন হয়ে পড়েছে চূর্ণি ও মাথাভাঙা। প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েও কিছু হয়নি। চূর্ণির উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় নদীর চেহারা বিভিন্ন রকমের। কোথাও নদী মাঠ হয়ে যাওয়ায় সেখানে চাষ হচ্ছে। কোথাও ব্রিজ থেকে শুরু করে একাধিক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা হচ্ছে। নদীর এই দুরবস্থায় মৎস্যজীবীদের রুটিরুজিরও সমস্যা হচ্ছে। জানা যায়, একটা সময়ে চূর্ণি দিয়ে চলাচল করত বড় বড় নৌকা। চলত লঞ্চও। নদী তীরবর্তী হাজার হাজার মৎস্যজীবী মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু সেসব আজ অতীত। আবর্জনা জমে অনেক জায়গায় নদী পরিণত হয়েছে নর্দমায়। গরমকালে নদীর জল কালো রঙের হয়ে যায়। এতে যেমন মাছ নষ্ট হয়, তেমনি জীব বৈচিত্র্যও ধ্বংস হয়। বাংলাদেশ থেকে মাথাভাঙা নদী প্রায় ১৯ কিমি পেরিয়ে মাজদিয়া বা ওপারের পাবাখালিতে এসে দু’টি ভাগে ভাগ হয়ে যায়। একটা চূর্ণি, আরেকটি ইচ্ছামতী। মাথাভাঙা ও চূর্ণি নদীর দু’ পাড়ে গোবিন্দপুর থেকে পায়রাডাঙা শিবপুর পর্যন্ত প্রায় ১২০টা গ্রাম আছে। ভারতীয় এলাকায় গেদে থেকে শুরু হয়ে মাথাভাঙা চূর্ণি নদী প্রায় ৭২ কিমি ছাড়িয়ে পায়রাডাঙার শিবপুরে ভাগীরথী নদীতে মিশেছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের চিনিকল থেকে ছাড়া বর্জ্য পদার্থে দূষিত হচ্ছে চূর্ণি নদীর জল। তাতে মারা যাচ্ছে নদীর মাছ। নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। আগে বাংলাদেশের ওই চিনিকল থেকে বর্জ্য ছাড়া হতো বছরের কয়েকবার। এখন গোটা বছর ধরে বর্জ্য ফেলা হয়। তাতে নদী চূড়ান্ত দূষিত হয়। হাজার হাজার মৎস্যজীবীর জীবন জীবিকা বিপন্ন হয়ে ওঠে। নদীতে স্নান করাও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। চর্মরোগের আশঙ্কা দেখা দেয়। এসব নিয়ে স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, আন্দোলন চলছিলই। এবার স্বর্ণখালি, জয়ঘাটা, শিবনিবাস সহ একাধিক জায়গায় নদীর বুকে অবৈধ ভাবেএই কলমি শাক চাষ হচ্ছে। এতে উদ্বিগ্ন স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে পরিবেশকর্মী ও মৎস্যজীবীরা। এই সমস্যার কথা প্রশাসনিক কর্তাদের একাধিকবার জানিয়েও কিছু হয়নি বলে দাবি করছেন তাঁরা। স্বর্ণখালির মৎস্যজীবী স্বপন রায়, খোকন বিশ্বাসরা বলেন, নদীতে পলি জমে জমে জলস্তর কমে গিয়েছে। তার মাঝেই অবৈধ দখলদারি চলছে। এই জমিতে চাষ হচ্ছে কলমির শাক। আমাদের মতো মৎস্যজীবী, যারা মাছ ধরে খাই তারা আর নদীতে মাছ পাই না। ফলে রুটিরুজির সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে নদী নিয়ে কাজ করা স্বপন ভৌমিক বলেন, আমরা নদীর সংস্কারের দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। নদী দখল করছে কিছু অসাধু মানুষ। আমরা ৫ ডিসেম্বর এ নিয়ে নদী সাফাই অভিযানে নামছি।



