Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চার উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এফআইআর

চার উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এফআইআর
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: হ্যাকার হানায় ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পে ৬৪জন ছাত্রছাত্রীর টাকা প্রতারণার ঘটনায় চার উচ্চ মাধ্য‌঩মিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল। পূর্ব মেদিনীপুরের ডিআই(মাধ্যমিক) শুভাশিস মিত্র এনিয়ে ৩০অক্টোবর তমলুক থানায় এফআইআর করেছেন। ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্যই প্রধান শিক্ষকদের অভিযুক্ত করা হয় বলে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনায় জেলা শিক্ষা মহলে ব্যাপক হইচই পড়ে গিয়েছে। চণ্ডীপুর থানার মুরাদপুরের বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ, দিবাকরপুর হাইস্কুল, নন্দকুমার থানার ব্যবত্তারহাট আদর্শ হাইস্কুল ও মহিষাদলের নাটশাল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪), ৩১৬(২), ৩১৬(৫) ও ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
Advertisement
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকরা এনিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। ডিআই বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল। এনিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর গোটা রাজ্যে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার জন্য মাথাপিছু ১০হাজার টাকা দেয় রাজ্য সরকার। প্রকল্পের নাম ‘তরুণের স্বপ্ন’। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ওইদিন ৭৮হাজার ছাত্রছাত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ে। প্রত্যেক স্কুলে একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীর নাম এবং অ্যাকাউন্ট নম্বর স্কুল কর্তৃপক্ষ বাংলার শিক্ষা পোর্টালে এন্ট্রি করে। সাইবার হ্যাকাররা কোনওভাবে ওই পোর্টালে ঢুকে বৈধ ছাত্র-ছাত্রীর নাম ও অ্যাকাউন্ট নম্বর সরিয়ে দিয়েছিল। সেই জায়গায় তারা ভুয়ো নাম ও অ্যাকাউন্ট নম্বর এন্ট্রি করে দিয়েছিল। ৪তারিখ এভাবে চার স্কুলে ৬৪জন বৈধ ছাত্রছাত্রীর জায়গায় ভুয়ো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পের টাকা ঢোকে।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলা শিক্ষা পোর্টালে ছাত্রছাত্রীদের নাম ও অ্যাকাউন্ট নম্বর স্কুল কর্তৃপক্ষকে ভেরিফাই করতে হয়। ভেরিফাই করা শেষে সার্টিফিকেট বের করা হয়। সেই সার্টিফিকেট বাংলার শিক্ষা পোর্টালে আপলোড করতে হয়। ওইসব সার্টিফিকেট পাওয়ার পর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) লিস্ট অনুমোদন করেন। তারপর রাজ্য থেকে টাকা ছাড়া হয়। এটাই নিয়ম। কিন্তু, ভুয়ো নাম থাকা অবস্থায় স্কুল কর্তৃপক্ষ সার্টিফিকেট জেনারেট করে আপলোড করেছিল বলে ডিআই(মাধ্যমিক) অফিস জানতে পেরেছে। অর্থাৎ, ওই কাজে প্রধান শিক্ষকদের গাফিলতি ছিল।
জানা গিয়েছে, চণ্ডীপুর থানার মুরাদপুরে বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠে একাদশ ও দ্বাদশে মোট ১৮৯জন ছাত্রছাত্রী। তারমধ্যে ১৯জনের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। তার জায়গায় ১৯জন বহিরাগতের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। নন্দকুমারের ব্যবত্তারহাট আদর্শ হাইস্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকে মোট ৩৫৬জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ১১জন বঞ্চিত হয়েছে। মহিষাদলের নাটশাল হাইস্কুলে ১২৫জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ২৫জন মাথাপিছু ১০হাজার টাকা থেকে বঞ্চিত। সেই টাকা বহিরাগতদের অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। চণ্ডীপুর থানার দিবাকরপুর হাইস্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকে মোট ১৮৮জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ন’জনের অ্যাকাউন্টে টাকা যায়নি। এক্ষেত্রে ওই চার স্কুলের প্রধান শিক্ষক ‘তরুণের স্বপ্ন’ স্কিমে ঠিকমতো এসওপি(স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেম) অনুসরণ করেননি বলে অভিযোগ।
পোর্টালে বহিরাগতদের নাম ঢুকে পড়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক কিংবা তাঁর নিযুক্ত ব্যক্তি অথবা অজানা কেউ জড়িত বলে এফআইআরে উল্লেখ করেছেন ডিআই। চারজন প্রধানের শিক্ষকের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর পুলিসের কাছে জমা করা হয়েছে। গোটা ঘটনার নেপথ্যে কারা আছে তাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের ডিআই।
সম্পর্কিত সংবাদ