সংবাদদাতা, কাঁথি: ‘উমপুন’ ঘূর্ণিঝড়ের জেরে স্কুলের টিনের চালা উড়ে গিয়েছিল। তারপর চার বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের চালতি পঞ্চায়েতের বৈকুন্ঠপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চালা মেরামত করা হয়নি। স্কুলের দোতলা ভবনে বর্তমানে শুধু নীচের দু’টি শ্রেণিকক্ষেই পাঁচটি শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ক্লাস চলে। চালা না থাকার ফলে ফাঁকা ছাদ গড়িয়ে বৃষ্টির জল নীচে চলে আসে। শুধু তাই নয়, বৃষ্টি চলাকালীন ছাদ জল চুঁইয়ে নীচের দু’টি শ্রেণিকক্ষে পড়তে থাকে। ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয়। স্কুলের এই বেহাল দশার জন্য পড়ুয়া ক্রমশ কমতে শুরু করেছে। অভিভাবকরা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন। একই দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরাও।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৪৩। এর আগে স্কুলে ৭০-৮০জন ছাত্রছাত্রী ছিল। স্কুলের এহেন পরিস্থিতির কারণে সেই সংখ্যাটা কমেছে। ঘূর্ণিঝড়ে চালা উড়ে যাওয়ার কারণে দোতলায় থাকা শ্রেণিকক্ষে ক্লাস হয় না। দোতলায় একটিই শ্রেণিকক্ষ রয়েছে এবং তা হলঘরের মতো। আগে সেখানে ক্লাস হলে ছাত্রছাত্রীদের বসার ক্ষেত্রে সমস্যা থাকত না। কিন্তু বর্তমানে বাধ্য হয়ে নীচের দু’টি শ্রেণিকক্ষে কোনওরকমে গাদাগাদি করে বসে ছাত্রছাত্রীরা। তাতে সকলে ঠিকমতো বসতে পারে না বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক অনিমেষ গিরি। তিনি বলেন, চালা মেরামতি না হওয়ায় নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময় বারান্দায় ক্লাস করতে হয়। পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিডিও, এসআই সমস্ত স্তরেই সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। চালা মেরামতি, বিদ্যালয়ের চারদিকে পাঁচিল তৈরি সহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ১৮লক্ষ টাকার স্কিম তৈরি করে অনেক আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত সুরাহা হয়নি। তাছাড়া আমি এবং আর একজন শিক্ষক রয়েছে। পাঁচটি শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের সামলাতে আমরা হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে আগামীদিনে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা আরও কমে যাবে বলে শিক্ষক থেকে অভিভাবক, সকলেই মনে করছেন।
এব্যাপারে চালতি পঞ্চায়েতের প্রধান পূর্ণিমা মাইতি বলেন, আমরা বিদ্যালয়ের বেহাল দশা সম্পর্কে অবগত। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে যেটুকু করার আমরা করেছি। বিষয়টি শিক্ষাদপ্তর ও প্রশাসনিক মহলে জানানো হয়েছে। আশা করছি, শীঘ্রই আর্থিক অনুমোদন আসবে। এবিষয়ে কাঁথি নতুন চক্রের এসআই চিরঞ্জিত সাঁতরা বলেন, আমরা বৈকুন্ঠপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতির কথা জানি। আরআইডিএফ-এর মাধ্যমে একটি স্কিম তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। বিডিও শুভাশিস মজুমদার বলেন, ওই স্কুলের যাতে দ্রুত সমস্যা মেটে তার জন্য ব্লক প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে।
এব্যাপারে চালতি পঞ্চায়েতের প্রধান পূর্ণিমা মাইতি বলেন, আমরা বিদ্যালয়ের বেহাল দশা সম্পর্কে অবগত। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে যেটুকু করার আমরা করেছি। বিষয়টি শিক্ষাদপ্তর ও প্রশাসনিক মহলে জানানো হয়েছে। আশা করছি, শীঘ্রই আর্থিক অনুমোদন আসবে। এবিষয়ে কাঁথি নতুন চক্রের এসআই চিরঞ্জিত সাঁতরা বলেন, আমরা বৈকুন্ঠপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতির কথা জানি। আরআইডিএফ-এর মাধ্যমে একটি স্কিম তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। বিডিও শুভাশিস মজুমদার বলেন, ওই স্কুলের যাতে দ্রুত সমস্যা মেটে তার জন্য ব্লক প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে।



