নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বছর চারেক আগের ঘটনা। ‘দিদি’ বার্ধক্য ভাতা দিচ্ছেন শুনে আবেদন করেছিলেন রানাঘাট ২ ব্লকের বাসিন্দা আশাদেবী। এরপর স্রেফ অপেক্ষাই করে গিয়েছেন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভাতা আর আসেনি। মাঝে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পরিবারকে কাঁদিয়ে ইহলোক ত্যাগ করেছেন বৃদ্ধা। খুঁজলে জেলাজুড়ে এরকম যে কত আশাদেবীর দেখা মিলবে, তার নির্দিষ্ট হিসাব নেই। দুয়ারে সরকার চালুর আগে পঞ্চায়েত অথবা ব্লক অফিসে গিয়ে যাঁরা আবেদন জমা দিয়েছেন, তাঁদের বার্ধক্য ভাতা পাওয়া যেন স্বপ্ন হয়েই রয়ে গিয়েছে বছরের পর বছর ধরে।
Advertisement
সরকারি সুযোগ সুবিধা মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিতে বর্তমান রাজ্য সরকার একসময় শুরু করে বিশেষ ব্যবস্থা ‘দুয়ারে সরকার’। এক প্রকার দলিল দস্তাবেজ খাতা কলম নিয়ে এই প্রক্রিয়ায় সরকার পৌঁছে যায় মানুষের পাড়ায় পাড়ায়। সমস্ত সরকারি প্রকল্প এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে তা মানুষের কাছ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার এই বিশেষ ব্যবস্থা অল্পদিনের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বার্ধক্য ভাতা থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড থেকে বিধবা ভাতা ইত্যাদি একগুচ্ছ প্রকল্পে হাজার হাজার আবেদন দুয়ারে সরকারের মাধ্যমেই গ্রামের অলিগলিতে পৌঁছে গিয়েছে।
কিন্তু প্রশাসনিক মহল বলছে, দুয়ারে সরকার ব্যবস্থা চালুর আগে ২০২০ সালে আবেদন করা অগণিত বার্ধক্য ভাতা এখনও চালুই হয়নি। অর্থাৎ আগেকার আবেদনগুলো চলে গিয়েছে ঠান্ডা ঘরে। পঞ্চায়েত অথবা ব্লক অফিসের মাধ্যমে আবেদন করা এরকম হাজার হাজার আবেদন পোর্টালে এন্ট্রি হলেও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে আজও সেগুলি ছাড়পত্র পায়নি। ফলে আশাদেবীর মতো অনেকেই ভাতা পাওয়ার আশায় বসে থেকে ইহলোক ত্যাগ করেছেন। আবার অনেকেই আজও বসে আছেন সেই ভরসাতেই। কবে ছাড়পত্র মিলবে, তার কোনও সদুত্তর নেয় কারও কাছেই।
জেলা সূত্রের খবর, জেলার ১৮টি ব্লকের প্রতিটিতে গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার আবেদন আজও পড়ে রয়েছে ছাড়পত্রের অভাবে। অথচ পরবর্তীকালের আবেদন ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে বিনা বাধায়। সব মিলিয়ে নদীয়া জেলায় এরকম পড়ে থাকা আবেদন সংখ্যা লক্ষাধিক। মাত্র এক হাজার টাকা ভাতার আশায় কার্যত চাতক পাখির মতো আশা নিয়ে বেঁচে রয়েছেন বহু আবেদনকারী। যেমন, রানাঘাট ১ ব্লকের তারাপুর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা বীরেন রায় বলেন, আবেদন করেছিলাম চার বছর আগে। সে টাকা ঢোকেনি। অথচ আমার আশপাশের বাড়ির অনেকেই বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন। আমি আশা ছেড়ে দিয়েছি।
প্রশাসনের একটি সূত্র বলছে, দুয়ারে সরকারে বা পরবর্তীতে আবেদন করলে আর তা গ্রাহ্য হচ্ছে না। কারণ যেহেতু আগেই আবেদন করার কারণে পোর্টালে নাম নথিভুক্ত হয়ে রয়েছে, তাই নতুন করে আবেদন গ্রাহ্য নয়। ফলে প্রশাসনিক ছাড়পত্র না মিললে নদীয়ার এরকম লক্ষাধিক বার্ধক্য ভাতার আবেদন পড়ে থাকবে সেই ঠান্ডা ঘরেই।
প্রশাসনিক কর্তারা কী বলছেন এই সমস্যা নিয়ে? নদীয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) সৈকত গঙ্গোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সমস্যা রয়েছে তা অবশ্য অস্বীকার করার উপায় নেই। ২০২০ সালের আবেদনকারীদের নাম পোর্টালে রয়েছে। যেহেতু অনুমোদন মেলেনি, তাই সুবিধা মিলছে না। দুয়ারে সরকার বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের ছাড়পত্র দেয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে যেদিন জমে থাকা আবেদনগুলিকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে, সেদিন আবেদনকারী সকলেই বার্ধক্য ভাতা পাবেন।
কিন্তু প্রশাসনিক মহল বলছে, দুয়ারে সরকার ব্যবস্থা চালুর আগে ২০২০ সালে আবেদন করা অগণিত বার্ধক্য ভাতা এখনও চালুই হয়নি। অর্থাৎ আগেকার আবেদনগুলো চলে গিয়েছে ঠান্ডা ঘরে। পঞ্চায়েত অথবা ব্লক অফিসের মাধ্যমে আবেদন করা এরকম হাজার হাজার আবেদন পোর্টালে এন্ট্রি হলেও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে আজও সেগুলি ছাড়পত্র পায়নি। ফলে আশাদেবীর মতো অনেকেই ভাতা পাওয়ার আশায় বসে থেকে ইহলোক ত্যাগ করেছেন। আবার অনেকেই আজও বসে আছেন সেই ভরসাতেই। কবে ছাড়পত্র মিলবে, তার কোনও সদুত্তর নেয় কারও কাছেই।
জেলা সূত্রের খবর, জেলার ১৮টি ব্লকের প্রতিটিতে গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার আবেদন আজও পড়ে রয়েছে ছাড়পত্রের অভাবে। অথচ পরবর্তীকালের আবেদন ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে বিনা বাধায়। সব মিলিয়ে নদীয়া জেলায় এরকম পড়ে থাকা আবেদন সংখ্যা লক্ষাধিক। মাত্র এক হাজার টাকা ভাতার আশায় কার্যত চাতক পাখির মতো আশা নিয়ে বেঁচে রয়েছেন বহু আবেদনকারী। যেমন, রানাঘাট ১ ব্লকের তারাপুর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা বীরেন রায় বলেন, আবেদন করেছিলাম চার বছর আগে। সে টাকা ঢোকেনি। অথচ আমার আশপাশের বাড়ির অনেকেই বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন। আমি আশা ছেড়ে দিয়েছি।
প্রশাসনের একটি সূত্র বলছে, দুয়ারে সরকারে বা পরবর্তীতে আবেদন করলে আর তা গ্রাহ্য হচ্ছে না। কারণ যেহেতু আগেই আবেদন করার কারণে পোর্টালে নাম নথিভুক্ত হয়ে রয়েছে, তাই নতুন করে আবেদন গ্রাহ্য নয়। ফলে প্রশাসনিক ছাড়পত্র না মিললে নদীয়ার এরকম লক্ষাধিক বার্ধক্য ভাতার আবেদন পড়ে থাকবে সেই ঠান্ডা ঘরেই।
প্রশাসনিক কর্তারা কী বলছেন এই সমস্যা নিয়ে? নদীয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) সৈকত গঙ্গোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সমস্যা রয়েছে তা অবশ্য অস্বীকার করার উপায় নেই। ২০২০ সালের আবেদনকারীদের নাম পোর্টালে রয়েছে। যেহেতু অনুমোদন মেলেনি, তাই সুবিধা মিলছে না। দুয়ারে সরকার বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের ছাড়পত্র দেয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে যেদিন জমে থাকা আবেদনগুলিকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে, সেদিন আবেদনকারী সকলেই বার্ধক্য ভাতা পাবেন।



