Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চোপড়ার সেই সংস্থার তৈরি স্যালাইনই দেওয়া হচ্ছে রায়গঞ্জ মেডিক্যালে, ক্ষুব্ধ ডাক্তার ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা

চোপড়ার সেই সংস্থার তৈরি স্যালাইনই দেওয়া হচ্ছে রায়গঞ্জ মেডিক্যালে, ক্ষুব্ধ ডাক্তার ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: মেদিনীপুরে প্রসূতি মৃত্যুর পরও চোপড়ার স্যালাইন প্রস্তুতকারী সংস্থার বিতর্কিত স্যালাইন ব্যবহার চলছে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অভিযোগ শনিবারও বেশকিছু রোগীদের শরীরে সেই স্যালাইন ব্যবহার হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরেরই একাংশ ক্ষুব্ধ। চোপড়ায় তৈরি স্যালাইন নিয়ে যথেষ্ট দুশ্চিন্তায় তাঁরা। এক ধাপ এগিয়ে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত সুপার বিদ্যুৎ বন্দ্যোপাধ্যায়  বলেন, আমার পরিবারের কেউ যদি জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয় তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে চোপড়ায় তৈরি সংশ্লিষ্ট সংস্থার স্যালাইন ব্যবহার করতে দেব না। কিন্তু আমাদের কাছে এদিন দুপুর পর্যন্ত লিখিত কোনও নির্দেশিকা আসেনি। কিন্তু সংস্থাটির তৈরি স্যালাইন ব্যবহার আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বিকেলের পর সেই স্যালাইনগুলি খুলে নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ মেডিক্যালে ব্যবহারের জন্য মজুত থাকা স্যালাইনের সিংহভাগই চোপড়ার ওই সংস্থার তৈরি। তার মধ্যে বিতর্কিত সংস্থাটির রিঙ্গার্স ল্যাক্টেট যেমন আছে, তেমন ডিএনএস সহ ৭ ধরনের প্রোডাক্ট আছে। বিকল্প স্যালাইন সরবরাহ এখনও পর্যন্ত সেভাবে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষর কাছে নেই। 
মাসখানেক আগে কর্ণাটকে প্রসূতি মৃত্যুর জন্য চোপড়ায় তৈরি এই স্যালাইনের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ ওঠে। গুণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। আপাতত সংস্থাটি তাঁদের উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছে বলে দাবি। অভিযোগ, মেদিনীপুরেও প্রসূতি মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির স্যালাইন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক পূরণ শর্মা বলেন, আমাদের জেলাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওই স্যালাইনের সার্কুলেশন নেই। তাই এনিয়ে আমাদের কোনও সমস্যাও নেই। যদিও একেবারে উল্টো সুর শোনা গিয়েছে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের গলায়। তাঁদের বক্তব্য, সংস্থাটির সিংহভাগ স্যালাইন মেডিক্যাল কলেজের রোগীদের জন্য বরাদ্দ। কোনও বিকল্প সংস্থার স্যালাইন নতুন করে স্টোরে আসেনি। অগত্যা সংস্থাটি রিঙ্গার্স ল্যাক্টেট স্যালাইনটি রয়েছে। 
এদিকে স্যালাইন প্রস্তুতকারী চোপড়ার ওই সংস্থার টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মুকুল ঘোষ বলেন, ২০১৪ সাল থেকে চোপড়ার সোনাপুরে আমাদের স্যালাইন কারখানা শুরু হয়েছে। 
প্রতিদিন গড়ে একলক্ষ বোতল স্যালাইন তৈরি করে আসছি আমরা। শুধু দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নয়, বিদেশেও আমাদের তৈরি স্যালাইন গিয়েছে। ইরাক, ইয়েমেনে আমাদের স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে। এরাজ্যের পাশাপাশি বিহার, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ত্রিপুরা, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, অসম, মণিপুরেও আমাদের তৈরি বিপুল পরিমাণ স্যালাইন গিয়েছে। কিন্তু গত ১০ ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন আইনি জটিলতায় আমাদের উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। 
কর্ণাটক ও এরাজ্যের যৌথ একটি টিম আমাদের সংস্থার উপর তদন্ত করছে। কারখানায় তৈরি স্যালাইন নিয়ে কিছু অভিযোগ শুনেছি। তবে লিখিতভাবে আমাদের কাছে নতুন কোনও নোটিশ আসেনি। আমরা তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। তাঁর বক্তব্য, কর্ণাটকে প্রসূতি মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ এলেও, কোন ব্যাচের স্যালাইনে সমস্যা হয়েছিল, তা নিয়ে কোনও তরফেই স্পষ্ট কিছু আমাদের আজও জানানো হয়নি। 
সম্পর্কিত সংবাদ