সংবাদদাতা, ডোমকল: ছিপছিপে চেহেরা। পরনে নীল জামা, আর টাইট প্যান্ট। পায়ে সাধারণ একজোড়া জুতো। বাইক নিয়ে চরের গ্রাম ছেড়ে মূল ভূখণ্ডের দিকে রওনা দিয়েছিল। সাধারণভাবে তাকে দেখে আর দশটা সাধারণ ছেলে-ছোকরার মতোই মনে করেছিল ওপি পয়েন্টের জওয়ানরা। কিন্তু, ভুল ভাঙে তল্লাশির সময়। জুতো জোড়া খুলে তল্লাশি চালাতেই হল পর্দাফাঁস। জুতোর শোলের মধ্যে লুকোনো অবস্থায় উদ্ধার হল একের পর এক সোনার বিস্কুট। একটি দু’টি নয়, সোমবার বিকেলে ওই যুবকের জুতোর শোলের মধ্যে লুকানো অবস্থায় ৪৬৬.৫ গ্রাম ওজনের চারটি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করেছে বিএসএফের ১৪৬ নম্বর ব্যাটেলিয়নের ফরাজিপাড়া বিওপি’র ১ নম্বর পয়েন্টের জওয়ানরা। বাজেয়াপ্ত ওই সোনার বাজারমূল্য প্রায় ৩৭ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা বলে জানা গিয়েছে। পাশপাশি সোনা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে জলঙ্গির উদয়নগর চর কলোনির আমিনুল মোল্লা নামের ওই যুবককে পাকড়াও করে জলঙ্গি থানার হাতে তুলে দিয়েছে বিএসএফ।
Advertisement
প্রসঙ্গত, জলঙ্গির উদয়নগর চর কলোনি ও চর পরাশপুর গ্রামের মাঝখানে নেই কোনও কাঁটাতার। ফসলের খেতের দু’পাশে দুই দেশ। এপার ভারত, আর ওপার বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পুরো উদয়নগর চর বিএসএফের ডমিনেশন জোনের আওতায় পড়ে। পাচারের আশঙ্কা থাকায় পুরো গ্রামজুড়ে চলে বিএসএফের কড়া নজরদারি। গ্রামে যাতায়াতেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ থাকে বিএসএফ জওয়ানদের। গ্রামে প্রবেশের মুখে রয়েছে বিএসএফের চেকিং পয়েন্ট। কাওকে গ্রামে ঢুকতে কিংবা বেরতে গেলে চেকিং পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও দিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। চেকিং পয়েন্টে চলে তল্লাশি। বিএসএফ সূত্রে খবর, এত কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও গত কয়েকমাস ধরে সীমান্ত এলাকা দিয়ে সোনা পাচারের খবর কানে আসছিল। এরপরই বিএসএফের তরফে বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সোমবার বিকেলে ওপি পয়েন্টে নজরদারির সময় এক যুবককে চরের দিক থেকে বাইকে মূল ভূখণ্ডের দিকে আসতে দেখেন জওয়ানরা। ওপি পয়েন্টে আটকে প্রথমে তার বাইকে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে কিছু না মেলায় ওই যুবকের শরীরের তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় পায়ের দিকে মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে যেতেই বিপ বেজে ওঠে। তৎক্ষণাৎ ওই যুবকের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ লক্ষ্য করেন জওয়ানরা। এরপরে একটি জুতোর শোল তুলে ফেলতেই ভিতরে কালো টেপের মধ্যে জড়ানো অবস্থায় দু’টি সোনার বিস্কুট তারা দেখতে পায়। একইভাবে অপর জুতোয় তল্লাশি চালালে আরও দু’টি সোনার বিস্কুট দেখতে পাওয়া যায়। এরপরে বাইক ও সোনা সহ ওই যুবককে পাকড়াও করে ক্যাম্পে নিয়ে যায় জওয়ানরা। সেখানে সোনা পাচারের বিষয়টি স্বীকার করে নেয় ধৃত। টাকার বিনিময়ে ওই সোনা অপর কারবারির হাতে পৌঁছে দেওয়ার বরাত নিয়েছিল বলে জানায় ওই পাচারকারী। এরপরই তাকে জলঙ্গি থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশপাশি বিএসএফের তরফে বাজেয়াপ্ত করা ওই সোনা শুল্ক দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, আমাদের জওয়ানদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করছি। শুধু সীমান্ত পাহারা দেওয়া নয়, চোরাচালান রুখতে বিএসএফ সর্বদা তৎপর।
বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, আমাদের জওয়ানদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করছি। শুধু সীমান্ত পাহারা দেওয়া নয়, চোরাচালান রুখতে বিএসএফ সর্বদা তৎপর।



