সংবাদদাতা, চোপড়া: চোপড়ার বিভিন্ন প্রান্তে আর পাঁচটা প্রার্থীর মতো কেবল হাত জোড় করে ভোট চাইছেন না সিপিএম প্রার্থী মকলেশ্বর রহমান। তার সঙ্গে নির্বাচনি খরচের জন্য লোকের কাছে দানও নিচ্ছেন তিনি। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই দলীয় কর্মীদের নিয়ে তিনি চষে বেড়াচ্ছেন হাট-বাজার, গ্রামগঞ্জের অলিগলি। দোকানদার থেকে শুরু করে পথচারী বা সাধারণ টোটো চালক- যার কাছে যা সাধ্য, তা দিয়েই প্রার্থীর নির্বাচনি তহবিলে সাহায্য করছেন। কেউ ১০ টাকা, কেউ ৫০ টাকা আবার কেউ ১০০ টাকা হাসিমুখে তুলে দিচ্ছেন প্রার্থীর হাতে। এই খুচরো অনুদানই এখন বাম প্রার্থীর প্রধান সম্বল। শুক্রবার কালীগঞ্জ এলাকায় প্রচারের ফাঁকে শাসকদল তৃণমূল এবং বিজেপিকে একযোগে বিঁধেছেন মকলেশ্বর। তাঁর সাফ কথা, আমাদের দল সাধারণ মানুষের রক্তজল করা পয়সায় রাজনীতি করে। বড় বড় পুঁজিপতিদের টাকা আমাদের প্রয়োজন নেই। তৃণমূলের অনিয়ম আর বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষ এখন বিকল্প খুঁজছে। ১০-২০ টাকা যা মানুষ দিচ্ছেন, সেটাই আমাদের আশীর্বাদ। মানুষের থেকে দান নেওয়া প্রসঙ্গে দলের এরিয়া কমিটির সদস্য আনসারুল হক বলেন, আমরা ইলেকট্রোরাল বন্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা নিই না। বামপন্থীদের এই অর্থ সংগ্রহ বা ঝুলি নিয়ে প্রচারকে অবশ্য আমল দিতে নারাজ প্রতিপক্ষ শিবির। তৃণমূল যুব ব্লক সহ সভাপতি ফাতেবুল রহমান বলেন, বামেরা যতই কৌটো নাচাক না কেন, মানুষ আর ওদের ফেরাবে না। ওই নাটক করে ভোটে কোনও প্রভাব পড়বে না। চোপড়ায় তৃণমূলের জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। বিজেপিও বামেদের এই প্রচারকে পুরনো স্টাইল বলে কটাক্ষ করেছেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নিজেদের হার নিশ্চিত বুঝে এখন মানুষের সহমর্মিতা পাওয়ার জন্য এসব নাটক করছে বামেরা। কিন্তু মানুষ জানে একমাত্র বিজেপিই বাংলায় পরিবর্তন আনতে পারে।



