নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সেইলের উচ্ছেদ নোটিস ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বার্নপুরে। বার্নপুরের নরসিংবাঁধে রয়েছে মেথর পাড়া বা সুইপার কলোনি। সেখানেই উচ্ছেদের নোটিস সাঁটিয়ে দেয় ইস্কো কর্তৃপক্ষ। এমনকী কারও কোনও নথি দেখানোর থাকলে তারজন্য ১১ জানুয়ারি শনিবার ইস্কোর টাউন সার্ভিস অফিসে আসার কথাও বলা হয় নোটিসে। শনিবার সকাল থেকে সুইপার কলোনির বাসিন্দারা টাউন অফিসের সামনে জমায়েত করেন। অভিযোগ নোটিসে দেখা করার কথা বলা হলেও তাঁদের সঙ্গে ইস্কোর টাউন সার্ভিস ও এস্টেট অফিসের কেউ দেখা করতে চাননি। উল্টে অফিসের সামনে বাসিন্দাদের ভিড় দেখে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক প্রজন্ম ধরে ইস্কো ও ইস্কো টাউনশিপ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করে আসছেন তাঁরা। অথচ আজ তাঁদের ঘর সংসার সাফ করে দিতে চাইছে ইস্কো। এমনকী বিষয়টি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা সময় দেওয়া হলেও অফিসাররা কেউ কথা বলেননি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপা উত্তেজনা এলাকায়।
Advertisement
আসানসোল পুরসভার অধীনে থাকা নরসিংবাঁধের এই সুইপার কলোনি এক ডাকে শহরের মানুষ চেনেন। ইস্কো গড়ে ওঠার সময়ে এই কলোনি গড়ে ওঠে। মূলত সাফাইয়ের কাজ করা মানুষজনদের জন্যই ইস্কোর এই কোয়ার্টারগুলি গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে বেশিরভাগই ইস্কোয় কাজ করেন না। যদিও পেশা বদল করেননি তাঁরা। তাই বিভিন্ন জায়গায় কোনও কিছু পরিচ্ছন্ন করার প্রয়োজন হলেই ডাক পড়ে তাঁদের। সকাল হলে বাড়ির মহিলারা বিভিন্ন জায়গায় পরিচারিকার কাজ করেন। এবার ইস্কোর নজর পড়েছে গরিবদের সেই বসতির ওপরে। অভিযোগ, পরিবারের সবাই যখন কাজে বেরিয়ে যান, সেই সময়ে বিভিন্ন বাড়ির দেওয়ালে উচ্ছেদের নোটিস লাগিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় দেড়শো কোয়ার্টার রয়েছে সেখানে। সেই কোয়ার্টার খালি করার নিদান দেওয়া হয়েছে নোটিসে। পাশাপাশি তাঁদের কোনও নথি থাকলে তা দেখানোর জন্য এদিন সকাল সাড়ে দশটায় টাইম দেওয়া হয়েছিল। সেই মতো বাসিন্দারা এলে ইস্কো কর্তৃপক্ষ তাঁদের সঙ্গে দেখা করেনি বলে অভিযোগ। এলাকার বাসিন্দা বসুন্ধরা দেবী বলেন, ইস্কোর নির্দেশ মেনে আমরা অফিসে দেখা করতে এসেছিলাম। আমাদের সঙ্গে দেখা করা হয়নি, কোনও বক্তব্যও শোনা হয়নি। আমরা চাই আমাদের কাছ থেকে জল ও বিদ্যুতের বিল নিয়ে এখানেই বসবাস করার সুযোগ দেওয়া হোক। কলোনির আরেক বাসিন্দা রবি কুমার বলেন, আমাদের আগের প্রজন্ম ইস্কোতেই সাফাইয়ের কাজ করতেন। আমাদের আর কাজ দেয়নি তারা। বাধ্য হয়ে বাইরে শহর পরিষ্কার করার কাজ করি। এত কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে, আমাদের উচ্ছেদ করলে শহর পরিষ্কার কে রাখবে?
ইস্কোর চিফ জেনারেল ম্যানেজার বিনোদ কুমার বলেন, আমি এদিন ছুটিতে রয়েছি। সোমবার ফিরব। তারপর পুরো বিষয়টি দেখে প্রয়োজনে আমি নিজে দেখা করব।
বার্নপুরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইস্কোর একের পর এক জমি প্রভাবশালীরা নিজেদের দখলে নিচ্ছে। বহু জায়গায় প্রভাবশালীরা কোয়ার্টার দখল করে ভাড়াটিয়া বাসিয়ে অবৈধ রোজগার করছে। অনেকে ইস্কোর জমি দখল করে বিশাল খাটাল বানিয়েছে। শক্ত সেই সব দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে বুলডোজার চালানোর হুশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে আর্থিকভাবে দুর্বল অসহায় মানুষদের উপর।
ইস্কোর চিফ জেনারেল ম্যানেজার বিনোদ কুমার বলেন, আমি এদিন ছুটিতে রয়েছি। সোমবার ফিরব। তারপর পুরো বিষয়টি দেখে প্রয়োজনে আমি নিজে দেখা করব।
বার্নপুরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইস্কোর একের পর এক জমি প্রভাবশালীরা নিজেদের দখলে নিচ্ছে। বহু জায়গায় প্রভাবশালীরা কোয়ার্টার দখল করে ভাড়াটিয়া বাসিয়ে অবৈধ রোজগার করছে। অনেকে ইস্কোর জমি দখল করে বিশাল খাটাল বানিয়েছে। শক্ত সেই সব দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে বুলডোজার চালানোর হুশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে আর্থিকভাবে দুর্বল অসহায় মানুষদের উপর।



