Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চন্দ্রেশ্বর খালের সম্প্রসারণ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সক্রিয় তৃণমূল

চন্দ্রেশ্বর খালের সম্প্রসারণ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সক্রিয় তৃণমূল
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অঙ্গ চন্দ্রেশ্বর খালের সম্প্রসারণ নিয়ে কিছু মানুষকে ‘ভুল’ বোঝানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মন থেকে ওই ভুল ধারণা দূর করতে ময়দানে নামলেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাঁরা বলেন, চন্দ্রেশ্বর খাল নতুন করে খনন করে সম্প্রসারণ করা হলে দাসপুরে ক্ষতি তো কিছুই হবে না, বরং অনেক লাভ হবে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি আশিস হুদাইত বলেন, কিছু মানুষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে জনগণকে ভুল বোঝাচ্ছে। তারা যে কোনও প্রকারে মাস্টার প্ল্যানের কাজ আটকে দিতে চাইছেন। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। আমরা মানুষের কাছে গিয়ে বিষয়টি বোঝাতে শুরু করেছি।
Advertisement
কংসাবতী নদীর জলের চাপ কমানোর জন্য গত শতাব্দীর সাতের দশকে দাসপুর-২ ব্লকের গোপীগঞ্জ এলাকার রূপনারায়ণ নদ থেকে দাসপুর-১ ব্লকের বৈকুণ্ঠপুর পর্যন্ত একটি খাল খনন করা হয়। কিন্তু শেষমেশ সেই খাল কংসাবতীর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়নি। বৈকুণ্ঠপুর পর্যন্ত খনন হয়ে অর্ধসমাপ্তই রয়ে যায়।
আশিসবাবু বলেন, বর্তমানে সেই চন্দ্রেশ্বর খালকে পাঁচ কিলোমিটার ৮০০ মিটার সম্প্রসারিত করে দাসপুর-১ ব্লকের গুড়লিতে একটি নতুন স্লুইস গেটের মাধ্যমে শিলাবতী নদীর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্প নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি একটি সুচিন্তিত এবং জনস্বার্থমূলক প্রকল্প। যা ঘাটাল পুরসভার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররাও জানান, শিলাবতী নদীর জলপ্রবাহের কারণে ঘাটাল পুরসভা প্রায়ই প্লাবিত হয়। চন্দ্রেশ্বর খালের সম্প্রসারণ এবং শিলাবতীর সঙ্গে সংযুক্তির ফলে এই জলপ্রবাহের একটি অংশ দ্রুত রূপনারায়ণ নদীতে প্রবাহিত হবে, যা বন্যার প্রকোপ কমাতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে শিলাবতী নদীর জলস্তর বৃদ্ধির ফলে যে প্লাবনের আশঙ্কা থাকে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
ঘাটাল মহকুমার সেচ ও জলপথ দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মাখাল বলেন, শুধু তাই নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত অংশে কোনও বাঁক নেই। যার ফলে জলের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হবে না। নদী ক্ষয়ের সম্ভাবনাও নেই। উপরন্তু, শিলাবতী নদীর সঙ্গে খালের সংযোগস্থলে একটি স্লুইস রেগুলেটর তৈরি করা হবে। যা প্রয়োজন অনুযায়ী জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে, খালের বহন ক্ষমতার বেশি জল প্রবেশ করবে না এবং পার্শ্ববর্তী কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা থাকবে না।এছাড়া ইঞ্জিনিয়াররা আশ্বস্ত করে বলেন, সম্প্রসারিত খালের আশপাশে বৃষ্টির জল সহজেই নিষ্কাশনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যাপ্ত সংখ্যক স্লুইস গেট এবং সংযুক্ত নালা তৈরি করা হবে, যা জল প্রবাহকে আরও কার্যকর করবে। পাশাপাশি, যাতায়াতের সুবিধার্থে যথাযথ সংখ্যক সেতু নির্মাণের ব্যবস্থাও থাকবে।
দাসপুর-১ ব্লকের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের ওই ব্লক সভাপতি সুনীল ভৌমিক বলেন, চন্দ্রেশ্বর খাল সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত পাঁচ কিলোমিটার ৮০০ মিটার এলাকার বেশিরভাগ জমি কৃষিজমি। এই পথে বাড়ি, দোকান বা অন্যান্য নির্মাণ প্রায় নেই বললেই চলে। তাই সাধারণ মানুষের এবং ব্যবসার কোনও বড় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে, যাদের জমি বা সম্পত্তি খাল সম্প্রসারণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাদের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।আশিসবাবু ও সুনীলবাবু বলেন, এই প্রকল্প নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। কিন্তু খাল সম্প্রসারণ ও সংযুক্তকরণ বাস্তবায়িত হলে ঘাটাল পুরসভার বাসিন্দারা বন্যা থেকে রক্ষা পাবেন। কৃষিজমির জলাবদ্ধতা কমবে এবং সামগ্রিকভাবে এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। তাই, বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে প্রকল্পের সঠিক দিকগুলো বোঝা এবং উন্নয়নমূলক কাজে সহায়তা করাই সকলের উচিত।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ