সংবাদদাতা, ঘাটাল: দাসপুরের অসমাপ্ত চন্দ্রেশ্বর খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই খাল খননের প্রতিবাদ করে আন্দোলনে শামিল হলেন দাসপুর-১ ব্লকেব বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। শুক্রবার বেশ কয়েক শ’ মানুষ দাসপুর-১ ব্লকের বিভিন্ন রাস্তার উপর মিছিল করে খাল খননের প্রতিবাদ করেন। তাঁরা জানান, অবিলম্বে খাল খননের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আগামী দিনে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুঁইয়া এদিনের প্রতিবাদ মিছিলের বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণের জন্যই ওই অসমাপ্ত খালটি খনন করার প্রয়োজন। খালটি খনন করা হলে শিলাবতী নদীর জলের চাপ অনেকটাই কমবে। কেন গ্রামবাসীরা আন্দোলন করছেন বুঝে উঠতে পারছি না। এনিয়ে ওদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’
Advertisement
গত শতাব্দীর সাতের দশকে দাসপুর-২ ব্লকের গোপীগঞ্জ এলাকার রূপনারায়ণ নদ থেকে দাসপুর-১ ব্লকের বৈকুণ্ঠপুর বাসস্টপ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল খনন করা হয়। বর্ষার সময়ে কংসাবতী নদীর জলের চাপ কমানো এবং শীতে খালের জল থেকে সেচের ব্যবস্থা করার জন্যই খালটি খনন করা হয় বলে জানা গিয়েছে। পরিকল্পনা মতো খালটি কংসাবতী নদীর সঙ্গে যুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু ঘাটাল-মেচোগ্রাম রাস্তার বৈকুণ্ঠপুর বাসস্টপের পশ্চিম দিকের অংশটি কোনও অজানা কারণে আর খনন করা হয়নি। ফলে কাজটি অসমাপ্তই রয়ে গিয়েছে। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মতো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণের কাজ শুরু হচ্ছে। তারই অঙ্গ হিসেবে ওই অসমাপ্ত খালটি কংসাবতী নদীর সঙ্গে যুক্ত না করে অভিমুখ বদলে গুড়লি, সুরানারায়ণপুরের উপর দিয়ে সাহেবের ঘাট সংলগ্ন এলাকায় শিলাবতী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর জন্য জমি জরিপের কাজও প্রায় ছ’মাস আগে শুরু হয়েছে।দাসপুর-১ ব্লকের বৈকুণ্ঠপুর, বাসুদেবপুর, খোর্দা বিষ্ণুপুর, সুরানারায়ণপুর, রূপনারায়ণপুর, পলতাবেড়িয়া, ঝুমঝুমি সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা ওই খালটি নতুন করে খননের পক্ষে নন। ওই সমস্ত গ্রামের বাসিন্দারা ‘চন্দ্রেশ্বর নদী খনন প্রতিবাদী কমিটি’-র ব্যানারে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। কমিটির সম্পাদক হরেকৃষ্ণ জানা বলেন, ‘খাল খননের ফলে কাজের কাজ কিছু হবে না। দাসপুরের দু’টি ব্লকে বাঁধ না ভাঙলে বন্যা হয় না। কিন্তু ওই খালটি নতুন করে খনন করলে দাসপুরের দু’টি ব্লকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা বাড়বে। জল নিকাশি ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাবে। চাষ করা যাবে না। আমরা মাস্টার প্ল্যান চাইলেও ওই খাল খননের বিরোধিতা করছি।’



