Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চন্দ্রকোণার বহু গ্রামে তাণ্ডব চালিয়ে বাঁকুড়ায় হাতির পাল

চন্দ্রকোণার বহু গ্রামে তাণ্ডব চালিয়ে বাঁকুড়ায় হাতির পাল
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: শনিবারের পর রবিবার রাতেও চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে তাণ্ডব চালাল হাতির দল। টানা দু’দিন ধরে ৬০-৭০টি হাতির পাল ওই ব্লকের একাধিক এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে বিঘার পর বিঘা জমির আলুজমির পাশাপাশি সব্জি ও খামারে থাকা ধান নষ্ট করেছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হাতির পাল কামারখালি জঙ্গল থেকে খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। তারপরই চন্দ্রকোণা-২ ব্লক এলাকার একের পর গ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছে। বনদপ্তরের ধামকুড়িয়া বিট অফিসার সুকুমার মেটে বলেন, চন্দ্রকোণা-২ ব্লক এলাকা থেকে রবিবার রাতেই ৬৫টি হাতির পালকে চমকাইচলা পার করিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাতিগুলি বর্তমানে বাঁকুড়া রেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। এই মুহূর্তে আর দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই।
Advertisement
চন্দ্রকোণা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় দু’দিন ধরে ৬০-৭০টি হাতির একটি বিশাল পাল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জঙ্গলের পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও কৃষিজমিতে হাতির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাতি যাতায়াতের পথে চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের ধামকুড়িয়া, শোলাগেড়িয়া, পানশিউলি, রাজবাঁধ, বনকাঁটা বিভিন্ন গ্রামে প্রবল তাণ্ডব চালায়। ধামকুড়িয়ার ক্ষতিগ্রস্ত চাষি তিলক পোড়ে, তাপস ভুঁইয়া, ঝন্টু দাস, নিমাই পোড়ে, মন্টু সিং প্রমুখ বলেন, প্রতি বছরই শীত পড়লে চাষিরা হাতির হামলার শিকার হন। যে পরিমাণ চাষের ক্ষতি হয় তার ক্ষতিপূরণ পাওয়াও যায় না। ফলে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।  
চন্দ্রকোণা-২ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি, সেচ ও সমবায় কর্মাধ্যক্ষ জগজিৎ সরকার জানান, হাতির পালটি শনিবার কয়েকটি এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে ক্ষতি করেছে। তবে রবিবার সেই অর্থে বেশিকিছু ক্ষতি করেনি। বিকেলের পর থেকে হাতির পালটি কামারখালি জঙ্গল ছেড়ে হুড়হুড়িয়া মাঠে নেমে পড়ে। সদ্য লাগানো আলুজমির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। কেউ টায়ার জ্বালিয়ে, কেউ মশাল হাতে নিজেদের জমি রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন। চাষি ও বনদপ্তরের কর্মীরা সতর্ক থাকায় কিছু ফসলের ক্ষতি আটকানো গিয়েছে। বনদপ্তরের চেষ্টায় হাতিগুলিকে তাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বনদপ্তরের অভিযোগ, হাতিকে উত্ত্যক্ত করার জন্যই তারা বেশি ক্ষতি করে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় হাতির দলের ভিডিও পোস্ট করার জন্য অনেকেই হাতি বেরলে ভিডিও তোলার জন্য পিছু পিছু ধাওয়া করে। নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে। শুধু তাই নয়, হাতি দেখতে শয়েশয়ে মানুষের ভিড় হওয়ায় বনদপ্তরও সমস্যায় পড়ে। 
সেইসঙ্গে হাতিকে উত্ত্যক্ত করলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। উৎসুক জনতার ওই ধরনের আচরণে হাতি অনেক সময় মারমুখী হয়ে ওঠে। সেজন্য অনেক সময় হাতির আক্রমণে সাধারণ মানুষের প্রাণ চলে যাওয়ারও ঘটনা ঘটে। একই অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট এলাকার চাষিরাও। এলাকাবাসীর মতে, হাতি দেখতে আসা জনতাকে সচেতন না করা গেলে ওই সমস্যা আরও বাড়বে।
সম্পর্কিত সংবাদ