সংবাদদাতা, ঘাটাল: চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের সীতাশোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। স্কুল ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় পড়ুয়াদের পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যালয় পুরনো ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ। ছাদের চাঙর ভেঙে পড়ছে, রড বেরিয়ে এসেছে, ফাটল ধরেছে বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশে। বর্তমানে যে নতুন ভবনে পড়াশোনা চলছে, সেখানেও ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় করে আমাদের। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক শ্যামল দলুই জানিয়েছেন, তাঁরাও স্কুল চলাকালীন ভয়ে ভয়ে থাকেন। কারণ, পুরনো ভবনটি যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে। এনিয়ে প্রায়ই স্কুল কর্তৃপক্ষকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দিন দিন কমছে। বর্তমানে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র ২০। গ্রামবাসীদের মধ্যে সুফল কারক, জয়দেব বিশ্বাস, আনন্দ ঘোষ প্রমুখ বলেন, বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে ভগ্নপ্রায় পুরনো ভবন, যা শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করছে। কয়েক বছর আগে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় নতুন ভবনে ক্লাস শুরু করা হলেও, সেখানেও একই সমস্যা দেখা দেওয়ায় শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে থাকতে হয়। সেজন্যই পড়ুয়ারা স্কুলে আসতে চাইছে না। অভিভাবকদের দাবি, প্রশাসন যেন দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। এক অভিভাবক শ্রীমন্ত দাস প্রশ্ন তুলে বলেন, ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। স্কুলের এমন অবস্থা হলে আমরা কীভাবে ওদের পাঠাব?
Advertisement
বিদ্যালয় পরিদর্শক সুমিতা রানা জানিয়েছেন, পুরনো বিল্ডিং ভাঙার জন্য শিক্ষাদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। তবে ভগ্নপ্রায় ভবনের জন্য স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমার কারণ তিনি মানতে রাজি নন। তিনি বলেন, পুরনো ভবনটি ভগ্নপ্রায় ঠিকই, কিন্তু সেখানে তো ক্লাস হয় না।



