Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চণ্ডীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে আক্রান্ত কর্মীরা, থানায় অভিযোগ

চণ্ডীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে আক্রান্ত কর্মীরা, থানায় অভিযোগ
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন বণ্টন সংস্থার কর্মীরা। ২০ডিসেম্বর চণ্ডীপুর থানার উসমানপুর পঞ্চায়েতের ধুসিয়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটেছে। ওই গ্রামেই পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ সিনজিদা বিবির বাড়ি। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার এক কর্মীকে ভোজালি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ। নিগৃহীত বণ্টন সংস্থার কর্মী ও ঠিকাকর্মীদের এড়াশাল গ্রামীণ হাসপাতালের প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। ওই ঘটনায় শেখ আসরফ আলি ও তার ছেলে আসাদুল আলির বিরুদ্ধে চণ্ডীপুর থানায় এফআইআর করেছেন বণ্টন সংস্থার ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল মণ্ডল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। শীতের মধ্যেও পূর্ব মেদিনীপুরে বিভিন্ন জায়গায় হুকিং চলছে। হুকিংয়ের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চলছে। এগরা থেকে চণ্ডীপুর, পাঁশকুড়া, ময়না সহ সর্বত্র বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে অভিযান বেড়েছে। পাশাপাশি যাঁরা দীর্ঘদিন বিল মেটাচ্ছেন না সেইসব ‘ডিফল্টার’ গ্রাহকদের লাইন বিচ্ছিন্ন করার কাজও চলছে। গত শুক্রবার বণ্টন সংস্থার চণ্ডীপুর সাপ্লাই অফিস থেকে রবিন দাসের নেতৃত্বে একটি টিম ধুসিয়া গ্রামে হাজির হয়। উসমানপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ওই গ্রামে বিদ্যুৎ খরচ করার পরও শেখ আসাদুল আলি বিল মেটাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। ওই গ্রাহকের লাইন কাটতে গিয়ে বিপত্তি বাধে। আসাদুল ও তার বাবা বণ্টন সংস্থার কর্মীদের বাধা দেয়। ধাক্কাধাক্কি করার পর ভোজালি নিয়ে চড়াও হয় বলে অভিযোগ।
Advertisement
ডিফল্টার গ্রাহকের লাইন কাটতে গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া ওই কর্মীরা বিষয়টি ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারকে জানান। তিনি গোটা বিষয়টি রিজিওনাল ম্যানেজারের নজরে আনেন। প্রাণ বাঁচাতে ওই কর্মীদের লাইন না কেটে ফিরে আসতে বলা হয়। তাঁদের এড়াশাল হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল মণ্ডল চণ্ডীপুর থানায় এফআইআর করেন। ওই ঘটনায় এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। খোদ বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষের গ্রামে বণ্টন সংস্থার কর্মীরা নিগৃহীত হওয়ার ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ সিনজিদা বিবির স্বামী শেখ সিরাজ বলেন, লাইন কাটা নিয়ে বণ্টন সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে অভিযুক্ত দু’জনের ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। লাইন কাটলে ওদের অন্ধকার ঘরে থাকতে হবে। তাই ওরা বিদ্যুৎ সংযোগ না কাটার আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু, বণ্টন সংস্থার কর্মীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করতে দায়বদ্ধ ছিলেন। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা থেকে ধাক্কাধাক্কি ও ঠেলাঠেলি হয়। 
বণ্টন সংস্থার ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার শ্যামলবাবু বলেন, ওই গ্রাহক ধারাবাহিকভাবে বিল মেটাচ্ছেন না। তাই ডিফল্টার হিসেবে চিহ্নিত। এধরনের গ্রাহকদের লাইন কেটে দেওয়া হয়। সেই কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন আমাদের বণ্টন সংস্থার কর্মী ও ঠিকাকর্মীরা। এনিয়ে থানায় এফআইআর হয়েছে। চণ্ডীপুর থানার ওসি দীপক চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত শেখ আসাদুল আলি বলেন, আমরা বিদ্যুৎ বিলের একাংশ মিটিয়েছি। বাকিটা মিটিয়ে দেব বলেছিলাম। তারপরও ওরা লাইন কাটার জন্য জেদ করছিল। এনিয়ে ঝামেলা হয়েছে। ভোজালি দিয়ে কোপানের চেষ্টার অভিযোগ ঠিক নয়।
সম্পর্কিত সংবাদ