Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী প্রতিমা সাজাচ্ছেন মঙ্গলকোটের বনকাপাশির শোলাশিল্পীরা

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী প্রতিমা সাজাচ্ছেন মঙ্গলকোটের বনকাপাশির শোলাশিল্পীরা
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: চন্দননগরের জগদ্ধাত্রীর হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলার শোলাশিল্প। ঐতিহ্যবাহী শোলার সাজের হাত ধরেই অর্থনীতি বদলে গিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের বনকাপাশি গ্রামের। রাজ্যজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছে বনকাপাশির শোলাশিল্প। জগদ্ধাত্রী প্রতিমা সাজাতে মঙ্গলকোটের বনকাপাশির ২০০জন শোলাশিল্পী গিয়েছেন চন্দননগরে। লক্ষ লক্ষ টাকা বরাত পেয়েছেন শিল্পীরা। শুধু জগদ্ধাত্রী প্রতিমা সাজিয়েই গ্রামের শিল্পীদের কোটি টাকার কাছাকাছি আয় হচ্ছে। এমন সাফল্যে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন শিল্পীদের বাড়ির  মহিলারাও। 
Advertisement
মঙ্গলকোটের বনকাপাশি গ্রাম শোলাশিল্পের জন্য বিখ্যাত। প্রতি বছর গ্রামের শোলাশিল্পীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় প্রতিমা বা মণ্ডপ সাজাতে যান। শোলার বিভিন্ন ধরনের চাঁদমালা, শোলার উপর চুমকি বা জরি বসিয়ে প্রতিমার সাজ নিয়ে তাঁরা পাড়ি দেন ভিনরাজ্যে। আবার শোলার তৈরি নানা শোপিস বিদেশেও পাড়ি দেয়। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর দিকেই সারা বছর তাকিয়ে থাকেন মঙ্গলকোটের বনকাপাশির শোলাশিল্পীরা। এবার গ্রামের ১৫টি সাজঘর থেকে প্রায় ২০০জন শিল্পী সাজাতে গিয়েছেন। প্রতিমা সেজে উঠছে। প্রতিমার গয়না, কাপড়ের আঁচল থেকে সবই শোলা দিয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। 
বনকাপাশির শোলাশিল্পীরা কয়েক দশক ধরে এই কাজ করে আসছেন। এক- একটি সাজঘর আড়াই লক্ষ থেকে ১৫লক্ষ টাকা পর্যন্ত বরাত পেয়েছে। চন্দননগরের ১২০টি প্রতিমা সাজাচ্ছেন বনকাপাশির শোলাশিল্পীরা। সবার মিলিত আয় হবে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি। সেকারণে গ্রামের শিল্পীদের মুখে হাসি ফুটেছে। শিল্পী প্রসাদ ঘোষ বলেন, আমরা বড় বড় শোলার সাজ তৈরি করে চন্দননগরে নিয়ে এসেছি। আমার সঙ্গে ২২জন শিল্পী এসেছেন। ১৮টি প্রতিমা সাজাতে ১৫লক্ষ টাকার বরাত পেয়েছি। শিল্পী মলয় মাঝি, বাবলা অধিকারী বলেন, গ্রামের অনেকেই শোলার কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু ধীরে ধীরে এই শিল্প ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। শিল্পী বরুণ মালাকার, অরুণ মালাকার বলেন, আমরা চন্দননগরে এবার আড়াই লক্ষ টাকার বরাত পেয়েছি। প্রদীপ মালাকার বলেন, সবার মিলিত আয় প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি হবে। বনকাপাশি গ্রামে প্রায় আড়াই হাজার পরিবারের বাস। বর্তমানে গ্রামের প্রায় ৪০০টি পরিবার শোলাশিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জলাশয়ে জন্মানো শোলা কেটে আঠা দিয়ে জরি, চুমকি বসিয়ে প্রতিমার সাজ তৈরি করা হয়। গ্রামের পুরুষ, মহিলা উভয়েই একসঙ্গে শোলার নানা সাজ, নানা মডেল তৈরি করেন। চন্দননগরে প্রতিমা সাজিয়ে সকলেই রোজগার করছেন। গ্রামীণ অর্থনীতি বদলে যাবে। মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী বলেন, এটা তো ভালো খবর। রাজ্য সরকার শোলাশিল্পের জন্য হাব গড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মহিলারাও পুরুষদের পাশাপাশি শোলার নানা সাজ, নকশা ফুটিয়ে তোলেন। কিন্তু বাইরে পুরুষ শিল্পীদের পরিচিতি লাভই বেশি হয়। কিন্তু তাঁদের ঘরের বধূরাও যে শোলা কাটা থেকে নকশা তুলে তাতে জরি, চুমকি বসিয়ে সাজ তৈরি করেন। সাফল্যের ভাগীদার মহিলারাও।  নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ