নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর একটা। পশ্চিমে পা বাড়ানো সূর্য তপ্ত কিরণ উগরে দিচ্ছে। সেই আবহেই কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড় দিয়ে চাষাপাড়া বারোয়ারি পর্যন্ত মানুষের লম্বা লাইন। সবাই বুড়িমাকে দেখতে এসেছেন। বারোয়ারির গলির মুখেই ঢুকতেই রাস্তাজুড়ে শুধু কালো কালো মাথা। মাছিও গলতে পারবে না সেখান দিয়ে। পুজো মণ্ডপের সামনে রীতিমতো দমবন্ধকর পরিস্থিতি। যা সামলাতে গিয়ে পুলিস প্রশাসনকে নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছিল। কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো দেখতে রানাঘাট থেকে এসেছিলেন তনয়া দাস। দীর্ঘ অপেক্ষা করে বুড়িমা দর্শনের পর ভিড় ঠেলে কোনওরকমে বেরিয়ে এসে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন তিনি। বেরিয়ে এসে খোলা বাতাসে দম নিতে নিতে বললেন, ‘প্রতিবছর বুড়িমা দর্শনে আসি কিন্তু এরকম ভিড় আগে দেখিনি।’ পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন ষাটোর্ধ্ব বিশ্ববাবু। কৃষ্ণনগরের শহরের আদি বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘আগে কখনও কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোয় এত ভিড় হয়ছে বলে মনে পড়ছে না। শুধু চাষাবাড়ি বারোয়ারির বুড়িমা নয়, গোটা শহরই কার্যত অবরুদ্ধ।’
Advertisement
রবিবার ছিল ছুটির দিন। তাই সকাল থেকেই মৃৎশিল্পের শহরে জগদ্ধাত্রী ঠাকুর দেখতে উন্মাদনা তুঙ্গে ওঠে। আকাশে যখন সূর্য সবে উঁকি মারছে তখনই ঢাক ও তাসার আওয়াজে ঘুম ভাঙে শহরবাসীর। রবিবার কাকভোর থেকে চাষাপাড়া বারোয়ারির বুড়িমার সামনে ভক্তের ঢল নামে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গভীর রাত পর্যন্ত সেই জনস্রোতে ক্ষণিকের জন্যেও ভাটা পড়েনি। সকাল থেকেই ঘূর্ণি, শক্তিনগর, কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড় সর্বত্রই ছিল দর্শনার্থীর ভিড়। ২৫টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট কৃষ্ণনগর শহরে এবছর অনুমতি প্রাপ্ত জগদ্ধাত্রী পুজোর সংখ্যাই ছিল প্রায় দেড়শোটি। কোথাও থিমের পুজো, আবার কোথাও সাবেকি পুজোতে এবছরের জগদ্ধাত্রীর আরাধনা ছিল বেশ জমজমাট। আর তা দেখতেই, ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শহরে দর্শনার্থীর ভিড় বেড়েছে। কাঁঠালপোতা বারোয়ারির ছোটমাকে দর্শন করতে ভিড় উপচে পড়েছিল। চন্দননগরের ভিড়কে শেষপর্যন্ত টেক্কা দেওয়া গিয়েছে কিনা তা নিয়ে সংশয় থাকলেও একথা বলাই যায় যে, এবছর কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী দর্শনে রেকর্ড ভিড় হয়েছে। সে কথা মানছেন শহরবাসীরাও।
এদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কৃষ্ণনগর শহর ছিল ‘নো এন্ট্রি’। যার ফলে বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীদের রেল স্টেশনে নেমে পায়েই হেঁটেই পুজো পরিক্রমা করতে হয়। সেই সুযোগে টোটোওয়ালারা ঘণ্টা পিছু সাড়ে চারশো টাকা দর হাঁকতে শুরু করে। দুপুর গড়াতেই কাতারে কাতারে মানুষকে রেল স্টেশন থেকে শহরের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। দুপুর থেকেই বউবাজার বারোয়ারির মা মহেশ্বরী প্রতিমা দর্শনে লম্বা লাইন পড়ে। পুজো উদ্যোক্তা সুদীপ্ত দাস বলেন, ‘এবছর আমাদের থিম ছিল ‘সমারোহে এসো হে পরমতর’। বাইরে থেকে বহু মানুষ আমাদের পুজো দেখতে এসেছিলেন। অন্যবারের তুলনায় এবারের ভিড় ছিল বেশি।’ পাশাপাশি শহরের অন্যতম প্রাচীন মালোপাড়া বারোয়ারির পুজো দেখতেও ভিড় উপচে পড়ে। সেখানে জলেশ্বরী দেবীর প্রতিমা দর্শনে এসেছিলেন এক দম্পতি। স্বামী সন্দীপ পাল বলেন, ‘এখানকার পুজোর ধুনো পোড়ানো খুব বিখ্যাত। সেটাই দেখতে এসেছি। কিন্তু যা ভিড়, দাঁড়ানো যাচ্ছে না।’
এদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কৃষ্ণনগর শহর ছিল ‘নো এন্ট্রি’। যার ফলে বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীদের রেল স্টেশনে নেমে পায়েই হেঁটেই পুজো পরিক্রমা করতে হয়। সেই সুযোগে টোটোওয়ালারা ঘণ্টা পিছু সাড়ে চারশো টাকা দর হাঁকতে শুরু করে। দুপুর গড়াতেই কাতারে কাতারে মানুষকে রেল স্টেশন থেকে শহরের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। দুপুর থেকেই বউবাজার বারোয়ারির মা মহেশ্বরী প্রতিমা দর্শনে লম্বা লাইন পড়ে। পুজো উদ্যোক্তা সুদীপ্ত দাস বলেন, ‘এবছর আমাদের থিম ছিল ‘সমারোহে এসো হে পরমতর’। বাইরে থেকে বহু মানুষ আমাদের পুজো দেখতে এসেছিলেন। অন্যবারের তুলনায় এবারের ভিড় ছিল বেশি।’ পাশাপাশি শহরের অন্যতম প্রাচীন মালোপাড়া বারোয়ারির পুজো দেখতেও ভিড় উপচে পড়ে। সেখানে জলেশ্বরী দেবীর প্রতিমা দর্শনে এসেছিলেন এক দম্পতি। স্বামী সন্দীপ পাল বলেন, ‘এখানকার পুজোর ধুনো পোড়ানো খুব বিখ্যাত। সেটাই দেখতে এসেছি। কিন্তু যা ভিড়, দাঁড়ানো যাচ্ছে না।’



