Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চলতি মাসে জলপাইগুড়িতে সাতটি পকসো মামলায় সাজা

চলতি মাসে জলপাইগুড়িতে সাতটি পকসো মামলায় সাজা
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: নাবালিকা ধর্ষণে অভিযুক্তর ১০ বছরের জেলের নির্দেশ দিল জলপাইগুড়ি আদালত। শুক্রবার জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক রিন্টু শূর ওই সাজা ঘোষণা করেন। এনিয়ে চলতি মাসে জলপাইগুড়ি জেলায় সাতটি পকসো মামলায় সাজা ঘোষণা করল আদালত। পুলিস ঘটনার তদন্ত করে সময়মতো চার্জশিট জমা দেওয়ায় আদালতে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে বলে দাবি জেলা পুলিস সুপার খণ্ডবাহলে উমেশ গণপতের। 
Advertisement
এদিন যে মামলায় জলপাইগুড়ি পকসো আদালতে সাজা ঘোষণা হয়, সেটি ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির। মহিলা থানায় ওই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের হয়। পুলিস ও আদালত সূত্রে খবর, ৫ বছরের এক নাবালিকাকে ঘরে আটকে ধর্ষণ করে এলাকারই এক ব্যক্তি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় ১০ জন সাক্ষ্য দেন আদালতে। মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী দেবাশিস দত্ত বলেন, আসামিকে ১০ বছরের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অনাদায়ে আরও দু’মাসের জেল। 
মামলার সরকারি আইনজীবী বলেন, ঘটনার সময় নাবালিকার বাবা বাড়িতে ছিলেন না। মা মাঠে গোরু নিয়ে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ঠাকুমা কাজ করছিলেন। এমন সময় অভিযুক্ত এসে নাবালিকাকে ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে দরজা আটকে ধর্ষণ করে। মেয়েটির চিৎকারে ঠাকুমা কাজ ফেলে চলে আসেন। অভিযুক্ত সেসময় দরজা খুলে পালায়। নাবালিকার ঠাকুমা সহ প্রতিবেশীরাও তাকে ওই বাড়ি থেকে পালাতে দেখেছিলেন। পরে নাবালিকার পরিবার জলপাইগুড়ি মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
অন্যদিকে, ধূপগুড়ি থানার ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বরের একটি পকসো মামলায় গত বুধবার অভিযুক্তর যাবজ্জীবন সাজার নির্দেশ দিয়েছেন জলপাইগুড়ি আদালতের বিচারক। এছাড়াও কিশোরীকে অপহরণ করে যৌন নিগ্রহের ঘটনায় গত ১৩ ডিসেম্বর অভিযুক্তকে ২০ বছরের নির্দেশ দিয়েছে জলপাইগুড়ি আদালত। ২০১৯ সালে ওই ঘটনাটি ঘটেছিল এনজেপি থানা এলাকায়। ১৩ ডিসেম্বরই আরও একটি পকসো মামলার রায় দেন বিচারক। ওই মামলায় অভিযুক্তর তিনবছরের জেলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৫ সালে কোতোয়ালি থানা এলাকায়। ২০১৬ সালের জুন মাসে বানারহাট থানার একটি চা বাগানের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় গত ১২ ডিসেম্বর অভিযুক্তকে ১০ বছরের জেলের নির্দেশ দিয়েছে জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালত। বানারহাট থানারই আরও একটি পকসো মামলায় গত ১০ ডিসেম্বর একই আদালত অভিযুক্তকে ২০ বছর জেলের নির্দেশ দিয়েছে। ওই ঘটনাটি ছিল ২০১৯ সালের। ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে ঘরে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। ২০১৪ সালে নাগরাকাটার একটি পকসো মামলায় গত ৪ ডিসেম্বর অভিযুক্তর ১০ বছরের জেলের নির্দেশ দেয় জলপাইগুড়ি আদালত। বাবা-মা বাগানে কাজে গিয়েছিলেন। বাড়িতে একা ছিল ১৩ বছরের কিশোরী। স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। বাড়ি ফাঁকা পেয়ে অভিযুক্ত ওই ছাত্রীকে ঘরে আটকে ধর্ষণ করে।
সম্পর্কিত সংবাদ