Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চলতি বছরে ১২০ কোটি মূল্যের গয়না বাজেয়াপ্ত বাংলাদেশ সীমান্তে

চলতি বছরে ১২০ কোটি মূল্যের গয়না বাজেয়াপ্ত বাংলাদেশ সীমান্তে
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: প্রথম ঘটনা, বৃহস্পতিবার দুপুরে মাজদিয়া থেকে বাসে করে কৃষ্ণনগরে আসছিল এক চোরাকারবারি। সেই সময় চৌগাছার কাছে মলুয়া পাড়ার ৩২ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা বাসটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে এক ব্যক্তির কোমরের বেল্টে বাঁধা পাঁচটি সোনার বিস্কুট বাজেয়াপ্ত হয়। কৃষ্ণনগরের বাস স্ট্যান্ডের কাছে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে সেই সোনার বিস্কুট হস্তান্তর করার কথা ছিল তাঁর। বিএসএফ সেই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে এবং ৯১ লক্ষ টাকা মূল্যের সেই সোনার বিস্কুট বাজেয়াপ্ত করে। 
Advertisement
দ্বিতীয় ঘটনা, ৩০ নভেম্বর তেহট্ট থানার অন্তর্গত নাটনা এলাকায় ৫৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা ১ কেজি ওজনের দুটি সোনার ইট বাজেয়াপ্ত করে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা। বাংলাদেশের পাচারকারীরা পুঁটলিতে বেঁধে সোনার বিস্কুট কাঁটাতারের উপর দিয়ে ছুঁড়ে দেয়। সেই সোনার বিস্কুট ভারতের চোরাকারবারিদের হাতে আসার আগেই বিএসএফ তা বাজেয়াপ্ত করে। 
শুধুই নদীয়া নয়, মালদহ থেকে সুন্দরবন, দক্ষিণবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সমস্ত এলাকার ছবিই এক। নিত্যদিন বিভিন্ন জেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম থেকে উদ্ধার হচ্ছে সোনার বিস্কুট, সোনার ইট, রুপোর অলঙ্কার সহ বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী। চোরাপথে বাংলাদেশ দিয়ে ভারতে পাচার করে মুনাফা লুটছে চোরাকারবারিরা। চলতি বছরে ১২০ কোটি টাকার সোনা ও রুপোর সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে সীমান্ত থেকে। 
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে ১১৮ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ১৭০ কেজি সোনার বিস্কুট ও সোনার বার বাজেয়াপ্ত হয়েছে। অন্যদিকে ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ১৫৯ কেজি রুপোর অলঙ্কার বাজেয়াপ্ত হয়েছে নদীয়া সহ সীমান্তের বিভিন্ন জেলা থেকে। শতাধিক মামলায় দু’ দেশের প্রায় ১২০ জন চোর চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে বিএসএফ। যার মধ্যে ৮৬ জন ভারতীয় এবং ৩২ জন বাংলাদেশি। যদিও ধৃতদের অধিকাংশই ক্যারিয়ার। যারা অল্প টাকার বিনিময়ে সোনা পাচারের কাজ করে। কিন্তু এই চক্রের মাথাদের নাগাল কখনওই পাওয়া যায় না। যার ফলে সোনা, রুপো  বাজেয়াপ্ত হলেও পাচার নির্মূল করা যায়নি। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া সোনার বিস্কুট আসে দুবাই থেকে। তারপর ভারতের খোলা বাজারে তা বিক্রি মুনাফা লোটে অসাধু ব্যবসায়ীরা। 
বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, ‘বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী পাচার রুখতে আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। আগামী দিনে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য আরও কড়া ভূমিকা পালন করব।’
উল্লেখ্য, টহলদারির পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমেও সীমান্তে নজরদারি চালাচ্ছে বিএসএফ। সীমান্ত মুড়ে ফেলা হয়েছে সিসি ক্যামেরা, পিটিজেড ক্যামেরা দিয়ে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক সার্ভিলেন্স ফর ভালনারেবল প্যাচ বা ইএসভিপি’র মাধ্যমে নজরদারি শক্তিশালী করা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ