Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চুক্তির মেয়াদই শেষ, জলঙ্গির হাসপাতালে চলছে ডায়াগনস্টিক

চুক্তির মেয়াদই শেষ, জলঙ্গির হাসপাতালে চলছে ডায়াগনস্টিক
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল: পিপিপি মডেলের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেয়াদ শেষ হয়েছে আগেই। তা সত্ত্বেও হাসপাতালের জায়গা দখল করে এখনও দিব্যি চলছে টাকার বিনিময়ে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা। এমনই অভিযোগ উঠল জলঙ্গিতে। জানা গিয়েছে, দু’বছর আগে চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে। তারপরও কোন জাদুবলে এখনও বুক ফুলিয়ে সেন্টার চালাচ্ছে ওই বেসরকারি ওই সংস্থা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি  জলঙ্গির সাদিখাঁরদেয়াড় গ্রামীণ হাসপাতালের। এর পেছনে স্থানীয়রা ‘সর্ষের মধ্যে ভূত’ দেখছেন। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশের মদতের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অনেকেই। 
Advertisement
সরকারি হাসপাতালগুলিতে কম খরচে উন্নতমানের ডায়াগনস্টিক পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেল চালু করেছিল স্বাস্থ্যদপ্তর। এই মডেলে চুক্তির মাধ্যমে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সংস্থাকে হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক পরিষেবা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। নিয়ম অনুসারে হাসপাতালের চিকিৎসকরা যখন নির্দিষ্ট কিছু টেস্টের জন্য প্রেসিক্রিপশনে লেখেন হাসপাতালে থাকা এই পিপিপি মডেলের সেন্টারগুলিতে পরীক্ষা করা হয়। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফি ধার্য্য করা হয়। হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ডায়গনস্টিক সেন্টারের তুলনায় তা কম।  সাদিখাঁরদেয়াড় গ্রামীণ হাসপাতালের পুরোনো বহির্বিভাগের ঘরে রয়েছে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি। সূত্রের খবর, চুক্তির মেয়াদ পুণর্নবীকরণ ছাড়াই দিব্যি সেটি চালিয়ে যাচ্ছে ওই বেসরকারি সংস্থা। রোগী থেকে স্থানীয়দের একাংশের আরও অভিযোগ, হাসপাতালের কর্মী থেকে স্বাস্থ্যদপ্তরের একাংশের কর্তারা সেন্টারটি চালিয়ে যেতে মদত দিচ্ছেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, যেসব টেস্ট হাসপাতালের নিজস্ব ল্যাবে হওয়ার কথা, সেগুলিও রোগীদের ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠাচ্ছেন কর্মীরা। নাণ্টু মণ্ডল নামের রোগীর এক আত্মীয় বলেন, ‘হাসপাতালে পরিষেবা দেওয়ার অনেকদিন আগেই ওই ডায়াগনস্টিকের চুক্তিপত্রের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে শুনেছি। অথচ, এখনও দিব্যি হাসপাতালের জায়গায় ওই ডায়াগনস্টিক চালিয়ে যাচ্ছে ওই সংস্থাটি। ছোটো-খাটো রক্তের পরীক্ষাগুলিও হাসপাতালের ল্যাবের বদলে ওই ডায়াগনস্টিকে পাঠানো হচ্ছে।’  অপর এক রোগী বলেন, ‘হাসপাতালের ডাক্তারবাবু প্রেসক্রিপশনে কিছু টেস্ট লিখে দিয়েছিলেন। হাসপাতালের ল্যাবে যেতেই আমাদের ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বলা হল। এরপরে সেখানে গেলে আমার কাছে থেকে তিনশো টাকা নেওয়া হয়।’ বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত স্বাস্থ্য দপ্তরের এক কর্তা। নাম প্রকাশ্যে না আনার  শর্তে তিনি বলেন, ‘শুনেছি, ২০০৬ সালে শেষবারের মতো এই ধরনের পিপিপি মডেলের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে শেষ চুক্তি হয়েছিল। এরপর থেকে কেন এখনও মৌখিকভাবেই ওই চুক্তি চলে আসছে, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।’ জলঙ্গির বিএমওএইচ ওয়াসিম রেজা বলেন, ‘ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে চুক্তিপত্রের মেয়াদ ২০২২ সালেই শেষ হয়ে গিয়েছে। আমরা ওদের হাসপাতাল থেকে সরে যাওয়ার জন্য চিঠিও করেছিলাম। অথচ, ওরা আদালতে কেস চলছে দোহাই দিয়ে গা জোয়ারি করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।’ ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বকুল বিশ্বাস বলেন, ‘এটা ঠিক আমাদের চুক্তিপত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে, আমরা মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সিএমওএইচকে জানিয়েছি। কিন্তু সেটা করা হয়নি। তাছাড়া আমাদের কাছে লাইসেন্স রয়েছে।’
সম্পর্কিত সংবাদ