সংবাদদাতা, মানবাজার: জেনারেটর চালানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর সঙ্গে হাসপাতালের চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে রোগী ও তাঁদের পরিজনরা। লোডশেডিং হলেই মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতাল ডুবে থাকছে অন্ধকারে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত পরিষেবার চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেক বছর ধরেই হাসপাতালে জেনারেটর পরিষেবা চালু ছিল। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে সমস্যা হতো না। কিন্তু গত ৩০ জুন জেনারেটর চালানোর কর্মীর সঙ্গে চুক্তিপত্র শেষ হয়ে যাওয়ায় লোডশেডিং হলেই হাসপাতালের কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। যদিও হাসপাতালে আইপিডি ও লেবার রুমের পরিষেবা চালানোর জন্য ইনভার্টার আছে। কিন্তু অন্যান্য জায়গায় ইনভার্টার নেই। ফলে হাসপাতালের ওপিডি সহ অন্যান্য জায়গায় অন্ধকার হয়ে পড়ে। রোগীর শ্বাসকষ্টের সমস্যা হলে ইনভার্টারের সাহায্যে মেশিন চালানো যায় না, ফলে সমস্যা হয়। হাসপাতালে রয়েছে ৫০টি শয্যা। এছাড়াও প্রতিদিন গড়ে সেখানে দুই থেকে তিনটি প্রসব হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে মানবাজার মহকুমা ঘোষণা করা হয়েছে। তবুও মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালের হাল বদলায়নি। হাসপাতালকে নিয়ে স্থানীয়দের মনে বিস্তর অভিযোগ আছে। হাসপাতালের পরিষেবা থেকে শুরু করে চিকিৎসা ব্যবস্থা এমনকী বেড সংখ্যা নিয়েও। স্থানীয়দের অভিযোগ, মানবাজারের দশটি অঞ্চল ছাড়াও লাগোয়া গ্রামগুলো থেকেও মানুষ চিকিৎসা করাতে আসেন মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালে। কিন্তু সেভাবে পরিষেবা পাওয়া যায় না। কিছু হলেই অন্যত্র রেফার করতে হয়। রোগীর পরিজনদের চরম দুর্দশায় পড়তে হয়। বিদ্যুৎ গেলে কেউ মোমবাতি, আবার কেউ মোবাইলের আলো জ্বেলে বসে থাকেন। গরমে টেকা যায় না। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও তা চালাবার লোক নেই। হাসপাতালে ইমার্জেন্সির বাইরে হাইমাস্ট লাইট নেই। ফলে বিদ্যুৎ গেলে হাসপাতালে বাইরে পুরোটাই অন্ধকার হয়ে পড়ে। এ নিয়ে মানবাজারের বিএমওএইচ জিৎ সরকার বলেন, জেনারেটর চালানোর কর্মীর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সমস্যা হয়েছে। ফলে লোডশেডিং হলে হাসপাতালের বেশিরভাগ জায়গায় সমস্যা হয়। তাছাড়া হাসপাতালের জেনারেটরও বহু পুরনো। এ বিষয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানিয়েছি নতুন করে চুক্তি করার জন্য। আপাতত জেনারেটর স্থানীয় কোনও লোক দিয়ে চালানো যায় কিনা সেটাও জানানো হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস জানান, মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালের জেনারেটরটি অনেক পুরানো। বিষয়টি দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারকে জানানো হয়েছে। তারা দেখার পর নতুন করে চুক্তি করা হবে। তাছাড়া হাসপাতালে বেশি সংখ্যক ইনভার্টার লাগানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যাতে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে সমস্যা না হয়।



