সংবাদদাতা, করিমপুর: একজন অ্যানাস্থেটিস্ট ও একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ থাকলেও বেশ কয়েক মাস সিজার বন্ধ ছিল করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। প্রতিদিন সমস্যায় পড়তে হতোপ্রসূতি মহিলা ও তার পরিবারের লোকজনকে। সম্প্রতি একজন স্থায়ী চিকিৎসক আসায় এই হাসপাতালে নতুন করে সিজার চালু হওয়ায় খুশি এলাকার মানুষ। তাঁরা জানান, দীর্ঘ কয়েক মাস সিজার বন্ধ থাকায় করিমপুর ও আশপাশের বহু মহিলাকে প্রসবের জন্য ছুটতে হতোদূরের হাসপাতালে। তাঁদের কাউকে চল্লিশ কিমি দূরে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে, কাউকে পঁচাশি কিমি দূরের কৃষ্ণনগর বা সত্তর কিমি দূরের বহরমপুরের কোনও সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছিল। এর আগেও হাসপাতালে বেশ কয়েকবার সিজার চালু হয়ে আবার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে বহু টাকা ব্যয়ে তৈরি ঝকঝকে অপারেশন থিয়েটার পড়ে থাকত। এখন নতুন করে আবার চালু হলে প্রচুর মানুষের উপকার হবে।
Advertisement
হাসপাতাল সুত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৫৩ সালে তৈরি বর্তমান এই গ্রামীণ হাসপাতালের উপর করিমপুরের আশপাশের ও মুর্শিদাবাদের ডোমকল এলাকার প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ নির্ভর করেন। ২০০৯ সালে প্রথম অপারেশন থিয়েটারে একবার সিজার চালু হয়েছিল। সেই সময় ৩৪ জন প্রসূতি মায়ের সিজার করা হয়েছিল। তারপরে কয়েকবার সিজার চালু হয়ে আবার বন্ধও হয়ে গিয়েছিল। অথচ প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচজন গর্ভবতী মহিলা সন্তান প্রসবের জন্য এখানে আসেন। হাসপাতালে সিজার বন্ধ হওয়ার কারণে সাধারণ প্রসব ছাড়া এলাকার বাকি প্রসূতি মায়েদের দূরের হাসপাতালে রেফার করতে হতো।
এক চিকিৎসক জানান, এলাকার মানুষের অসুবিধার কথা ভেবে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের সহযোগিতায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে নতুন করে এই হাসপাতালে সিজার চালু করা হয়েছিল। সাধারণ প্রসবের পাশাপাশি একজন অ্যানাস্থেটিস্ট ও দু’জন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের দ্বারা সপ্তাহের তিনদিন সিজার করা হতো। পরবর্তীতে লক ডাউনের সময় আবার এই হাসপাতালে সিজার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এলাকার মানুষের অভিযোগ, অনেক সময় চিকিৎসকরা স্বাভাবিক প্রসব হবে বলে গর্ভবতী মায়েদের এখানে ভর্তি রাখা হয়। কখনও স্বাভাবিক প্রসবেও বিরাট সমস্যায় পড়তে হয়। আর স্বাভাবিক প্রসবে সমস্যা হলে তখন শেষ মুহূর্তে রেফারে সঙ্কট তৈরি হয়। এব্যাপারে হাসপাতালের সুপার মনীষা মণ্ডল জানান, গর্ভবতী রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। বেশিরভাগ স্বাভাবিক প্রসব হয়। তবে কোনও রোগীর জটিল সমস্যা থাকলে ঝুঁকি না নিয়ে রেফার করতেই হতো। চিকিৎসকের অভাবে মাঝে সিজার বন্ধ ছিল। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরে কিছুদিন আগে স্থায়ী একজন চিকিৎসক এসেছেন। কিছুদিন আগে হাসপাতালে আবার সিজার চালু হয়েছে। এখন থেকে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে সিজার করা হবে। এখন থেকে তাই গর্ভবতী মায়েদের সন্তান প্রসবের জন্য আর দূরে কোথাও যেতে হবে না।



