Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিকিৎসা করাতে আসা মহিলারাই টার্গেট দক্ষিণ ২৪ পরগনা গ্যাংয়ের,ছলচাতুরি করে হাতাচ্ছে সোনার অলঙ্কার,ঘুম ছুটেছে পুলিসের

চিকিৎসা করাতে আসা মহিলারাই টার্গেট দক্ষিণ ২৪ পরগনা গ্যাংয়ের,ছলচাতুরি করে হাতাচ্ছে সোনার অলঙ্কার,ঘুম ছুটেছে পুলিসের
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তমলুক শহরে চিকিৎসকের চেম্বারে আসা গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের টার্গেট করছে দক্ষিণ ২৪পরগনার ‘ধূর’ গ্যাং। শরীরে সোনার গয়না দেখলেই পিছু নিচ্ছে ওই গ্যাং। তারপর নানা ছুতোয় শরীর থেকে অলঙ্কার নিয়ে বেপাত্তা হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এরকম বেশ কয়েকটি ঘটনায় তমলুক থানায় এফআইআর হয়েছে। দক্ষিণ ২৪পরগনা থেকে এসে একটি গ্যাং এই কাজ করছে বলে তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ জানান। তাই চিকিৎসকের চেম্বার ও নার্সিংহোমে আসা-যাওয়ার পথে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে পুলিস।
Advertisement
তমলুক থানার শ্রীরামপুর গ্রামের কালাচাঁদ ঘোড়াই স্ত্রীকে নিয়ে ২৩ডিসেম্বর তমলুক শহরে ধারিন্দায় এক চিকিৎসকের চেম্বারে এসেছিলেন। শ্বশুরবাড়ি মহিষাদলের দ্বারিবেড়িয়া থেকে কালাচাঁদবাবু ও তাঁর স্ত্রী সন্ধ্যাদেবী তমলুকে এসে পৌঁছন। কালাচাঁদের স্ত্রীর গলায় সোনার চেন, বাউটি এবং আংটি ছিল। তমলুকে শ্রীরামপুর বাসস্টপে নামার পরই ওই দম্পতিকে অনুসরণ করে দু’জন দুষ্কৃতী। সন্ধ্যাদেবীর গায়ের গয়না বিক্রি করলে নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা দেবে বলে দু’জন টোপ দেয়। চোখের সামনে নোটের বান্ডিল তুলে ধরে। কালাঁচাদবাবুর দাবি, ভয় পেয়ে স্ত্রী গায়ের সব গয়না খুলে আমার ব্যাগে ভরে দিয়েছিল। তারপর সেই ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায় দু’জন। যদিও পুলিসের দাবি, কালাচাঁদের কাছে গোছা গোছা কাগজ কাটা টাকার নকল বান্ডিল ছিল। তাতেই প্রভাবিত হয়ে গয়না তুলে দিয়েছে কালাচাঁদ।
তমলুক শহরের পদুমবসানে মেচেদা-হলদিয়া সড়কের ধারে একটি নার্সিংহোমে কাজ করেন এগরার দীপঙ্কর মাইতি। তাঁর বাড়ি এগরা থানার বড়নলগেড়্যা গ্রামে। গত মাসে তাঁর মা তপতীরানি মাইতি ছেলের কাছে আসার জন্য কাঁথি থেকে মেচেদাগামী বাসে চড়েন। নিমতৌড়ি স্টপেজে নেমে শহরে আসার সময়ই দুষ্কৃতী গ্যাংয়ের টার্গেটে পড়ে যান। গলা থেকে হাত, আঙুল সব জায়গায় সোনার অলঙ্কার ছিল। সঙ্গে নগদ আড়াই হাজার টাকা। নিমতৌড়ি থেকে টোটোয় তমলুক শহরে আসার পথে সেই টোটোয় সহযাত্রী হিসেবে তিনজন উঠে পড়ে। ছিনতাইয়ের ভয় দেখিয়ে প্রৌঢ়াকে সেসব খুলে রাখতে বলে। সেইমতো ওই সাধাসিধে ওই মহিলা সেসব খুলে ব্যাগের মধ্যে রাখেন। সোনার চেন, বালা এবং হাতের আংটি থাকা ব্যাগ নিয়ে উধাও হয়ে যায় তিনজন। টোটো থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে নামিয়ে পদুমবসানের ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়।
এর আগে তমলুক শহরের পদুমবসানে পুলিস পরিচয় দিয়ে চার-পাঁচজন দুষ্কৃতী অভিনব কৌশলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রীর বহু সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেয়। অবসরপ্রাপ্ত হাইস্কুল শিক্ষক তপন পাণিগ্রাহী ও তাঁর স্ত্রী টোটোয় চেপে তমলুক জেলা হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। চার-পাঁচজন এসে টোটো থামায়। নিজেদের পুলিস পরিচয় দিয়ে জানায়, পুলিস চেকিং চলছে। তাই সোনার গয়না খুলে ব্যাগের মধ্যে গুছিয়ে রাখতে হবে। নিজেরাই সহযোগিতা করার বাহানায় দম্পতির হাত থেকে ছ’টি আংটি, দু’টি সোনার চেন এবং দু’জোড়া চুড়ি খুলে একটি প্যাকেটে ঢুকিয়ে দেয়। নিমেষের মধ্যে ওই প্যাকেট কব্জা করে নকল গয়নাভর্তি একটি প্যাকেট বৃদ্ধ দম্পতির হাতে ধরিয়ে চম্পট দেয়। কোলাঘাটের ধুলিয়াড়া মহেন্দ্র ইনস্টিটিউশনের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তপনবাবু থানায় যান।
এভাবে গ্রাম থেকে আসা সরল সাধাসিধে মহিলা এবং বৃদ্ধদের টার্গেট করছে ওই গ্যাং। সোনার গয়না থাকলেই পিছু নিচ্ছে। যে কোনও উপায়ে বাগে এনে গয়না হাতানো‌ই তাদের টার্গেট। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই লক্ষ্যে সফলও হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ