Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিকিৎসায় গাফিলতিতে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ, তুমুল উত্তেজনা

চিকিৎসায় গাফিলতিতে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ, তুমুল উত্তেজনা
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: বুধবার রাতে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতিতে একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়।  মৃতার নাম দীপ্তি ঘোষ(১৭)। সে কাটোয়ার গাজিপুরের দেয়াসিন গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসক আসার জন্য বারবার বলা হলেও নার্সরা ডাক্তার ডাকেনি। একই সঙ্গে এই ঘটনায় নার্সদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় হাসপাতালের এক নার্সকে শোকজ করা হয়েছে। রোগী মৃত্যু ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন মৃত ছাত্রীর পরিবার। ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না তদন্ত করে দেখা হবে। এক নার্সকে শোকজ করা হয়েছে। তবে নার্সরা রোগীর বাড়ির আত্মীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করলেই পারতেন। 
Advertisement
কাটোয়া-২ ব্লকের গাজিপুর অঞ্চলের দেয়াসিন গ্রামের বাসিন্দা তাপস ঘোষের দুই মেয়ে। ছোট মেয়ে দীপ্তি। সে বাড়িতেই প্রবল জ্বর, বুকে ব্যথা ও মাথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬ টা নাগাদ মেয়েকে নিয়ে তাপসবাবু ও তাঁর স্ত্রী চায়নাদেবী কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে আসেন। দীপ্তিকে মহিলা বিভাগে ভর্তি করা হয়। 
মৃতার বাবার অভিযোগ, ভর্তির দিন মাত্র একবার চিকিৎসক এসে দেখে গিয়েছিলেন। তারপর দু’দিন ভর্তি থাকলেও চিকিৎসককে আর পাওয়া যায়নি। বুধবার সকাল থেকে দীপ্তির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এদিন দুপুর দু’টো নাগাদ কর্তব্যরত এক নার্স এসে দীপ্তিকে একটি ইঞ্জেকশন দিয়ে যান। তারপর সন্ধ্যার দিকে সে মারা যায়। তারপরেই পরিবারের লোকজন ও অত্মীয়রা হাসপাতালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কয়েকজন চিৎকার করে গাফিলতির অভিযোগ তুলতে থাকেন। ঘটনায় হাসপাতালে চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।  পরে কাটোয়া থানার পুলিস বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃতার মা চায়না ঘোষ বলেন, আমার মেয়ের স্যালাইন ঠিকমতো দেয়নি। বারবার মেয়ের শরীর খারাপ হলেও চিকিৎসক আসেনি। আমরা নার্সদের বারবার অনুরোধ করি চিকিৎসককে খবর দেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি তা না করে উল্টে আমাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়। আমাদের মনে হচ্ছে ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার মেয়েটা মারা গেল। আমরা পুরো ঘটনার তদন্ত চাই। 
প্রসঙ্গত, কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নার্সদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়। একাধিকবার নার্সদের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তারপরেও কর্তৃপক্ষের হুঁশ ফিরছে না। এদিন মৃতার পরিবারের আরও অভিযোগ, ওই ইঞ্জেকশান দেওয়ার পরেই আমার মেয়ের গলা কালো হয়ে যায়। সারা শরীরে এলার্জি দেখা যায়। হাসপাতালের স্টোরে থাকা অন্যান্য ইঞ্জেকশনগুলি তদন্ত করে দেখুক স্বাস্থ্যদপ্তর। আমাদের মেয়ের মৃত্যুতে কারও গাফিলতি প্রমাণ হলেই তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সম্পর্কিত সংবাদ