Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিকিৎসা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে যেখানে সেখানে, ছড়াচ্ছে দূষণ ও সংক্রমণ

চিকিৎসা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে যেখানে সেখানে, ছড়াচ্ছে দূষণ ও সংক্রমণ
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গ চত্বরে যত্রতত্র প্লাস্টিক ভর্তি চিকিৎসা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। প্লাস্টিক ছিঁড়ে কুকুর, গোরুতে সেই বর্জ্য খাচ্ছে, ছড়াচ্ছে। চারপাশের বাজার ও জনবসতি এলাকায় সেই দূষিত বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে। বিপজ্জনক এই বর্জ্য থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Advertisement
চিকিৎসা বর্জ্য ফেলার জন্য হাসপাতালে নির্দিষ্ট জৈব বর্জ্যের ঘর রয়েছে। সেই ঘরগুলো দীর্ঘদিন ধরে খোলা হয় না। ঘরগুলির সামনেই এখন প্লাস্টিক ভর্তি চিকিৎসা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। মর্গ চত্বরে ঢুকে রাস্তার গোরু ও কুকুর প্লাস্টিক ছিঁড়ে সেই বর্জ্য খাচ্ছে। বর্জ্যের মধ্যে গজ, ব্যান্ডেজ, তুলো, মাস্ক, গ্লাভস, বাতিল হওয়া ছুরি-কাচি, সিরিঞ্জ, স্যালাইন ব্যাগ, রক্তের ব্যাগ, সংগৃহীত লালা, কফের নমুনা, দেহরস, টিস্যু, টিউমারের বিপজ্জনক অংশ ছড়িয়ে পড়ছে। তা থেকে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এলাকার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। হাসপাতাল সংলগ্ন বাজার ও জনবসতি এলাকার বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। শহরের পরিবেশ কর্মীদের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চিকিৎসা বর্জ্য নিয়ে সতর্কতামূলক নানা নির্দেশাবলি রয়েছে। হাসপাতালের তরফে তা মানা হচ্ছে না বলে আশপাশের বাসিন্দারা অভিযোগ জানিয়েছেন। 
‌পুরসভার তরফে সপ্তাহে দু’দিন চিকিৎসা বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু তা হচ্ছে না। পুরসভার তরফেও চিকিৎসা বর্জ্য মর্গ চত্বরে ঠিকভাবে প্যাক না করে ফেলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্লাস্টিক ছিঁড়ে ছড়িয়ে থাকা সেই বর্জ্য সংগ্ৰহ করতে গিয়ে সাফাই কর্মীদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। পুরসভার চেয়ারম্যান কবিতা ঘোষ বলেন, পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ড থেকে নিয়মিত আবর্জনা সংগ্ৰহ করতে হয়। সীমিত সংখ্যক গাড়ি নিয়েই সেই কাজ করতে হচ্ছে। মর্গে চিকিৎসা বর্জ্য সপ্তাহে দু’দিন সংগ্ৰহ করা হয়। ওই চত্বরে সিরিঞ্জ ছাড়াও অনান্য দূষিত বর্জ্য মাটিতে ছড়িয়ে থাকে। সাফাই কর্মীদের ঝুঁকি নিয়ে সাফাই কাজ করতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্ব নিয়ে ওই বর্জ্যগুলো ফেলা দরকার। মর্গ সংলগ্ন বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরাও বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তুলছেন। 
স্থানীয় দোকানদার সায়ন রায় এদিন বলেন, এক একসময় এখানে দুর্গন্ধে টেকা যায় না। কুকুরগুলো মর্গ থেকে মুখে করে তুলো ও অন্যান্য দূষিত বর্জ্য বাইরে নিয়ে চলে আসে। চারপাশে সেই দূষিত বর্জ্য পড়ে থাকে। তা থেকে সংক্রমণজনিত নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলারকে একবার জানিয়েছিলাম। কোনও কাজ হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতাও মেনে নেওয়া যায় না। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অনুরূপ পাখিরা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ